)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তাঁকে পদচ্যুত ও ক্ষমতাচ্যুত করার পিছনে 'হাত রয়েছে' ভারতের (Nepal Gen-Z Protest)! ভারতের বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়কে 'চ্যালেঞ্জ' করেছিলেন তিনি! তাই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে (Nepal Unrest)। অযোধ্যায় রামমন্দির নিয়ে তিনি বিরেধিতা করেছিলেন (KP Sharma Oli Ayodhya stand)। লিপুলেখ পাস নিয়েও (Lipulekh row) ভারতের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি। এর জেরেই রাজনৈতিকভাবে তাঁর দাম চোকালেন তিনি (Nepal Unrest)। ভারতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক নেপালের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ((KP Sharma Oli attacks India)। বর্তমানে নেপাল সেনাবাহিনীর শিবপুরী ব্যারাকে রয়েছে নেপালের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী (Ousted Nepal PMKP Sharma Oli)। সেখান থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে বোমা ফাটিয়েছেন তিনি। দলের সাধারণ সম্পাদককে লেখা এক চিঠিতে ভারতবিরোধী তীব্র সমালোচনা করেছেন।
অযোধ্যা রামমন্দির বিতর্কে ওলি (KP Sharma Oli Ayodhya stand)
অযোধ্যায় রামমন্দির (Ayodhya Rammandir) প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন ওলি। নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ওলি দাবি করেছিলেন, ভগবার রাম ভারতীয় নন, নেপালি। ভগবান রামের জন্ম ভারতের অযোধ্য়ায় হয়নি। ভগবান রামের রাজ্য অযোধ্যা নেপালের বীরগঞ্জের পশ্চিমে অবস্থিত। আসল অযোধ্যা উত্তরপ্রদেশে নয়, নেপালের বীরগঞ্জের কাছে থোরি গ্রামে অবস্থিত। ভারত নেপালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে 'দখল' করেছে বলেও অভিযোগ করেন ওলি। আরও দাবি করেন, সীতা কোনও ভারতীয় রামকে নয়, বিয়ে করেছিলেন নেপালি রামকে! কারণ প্রাচীনকালে কেবল কাছের রাজ্যের মধ্যেই বিয়ে হত! তাই রাম কীভাবে উত্তরপ্রদেশ থেকে জনকপুরে সীতাকে বিয়ে করতে এসেছিলেন? প্রশ্ন তোলেন ওলি।
লিপুলেখ পাস বিতর্ক (Lipulekh pass row)
অযোধ্য়াায় রামন্দির প্রতিষ্ঠা নিয়ে মন্তব্য করার পাশাপাশি ওলির কথায়, লিপুলেখ পাস নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও তিনি তাঁর পদেই থাকতেন! প্রসঙ্গত, লিপুলেখ পাস হল ভারত ও নেপালের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত সীমান্ত সমস্যা। একটি ভূখণ্ড, যার দাবি করে ভারত ও নেপাল উভয়েই। কালাপানি অঞ্চলে অবস্থিত এই লিপুলেখ। এখন কালি নদীর উৎস নিয়ে নেপাল দাবি করে যে নদীটি লিপুলেখের উত্তর-পশ্চিমে লিম্পিয়াধুরা থেকে উৎপত্তি হয়েছে। ফলে কালাপানি ও লিপুলেখ নেপালের ভূখণ্ডের মধ্যে পড়ে। অন্যদিকে ভারতের দাবি, কালি নদী কালাপানি গ্রামের কাছে উৎপন্ন। ফলে বিতর্কিত অঞ্চলটি ভারতীয় মূল ভূ-খণ্ডের উত্তরাখণ্ডের অংশ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ওলি এই লিপুলেখ নিয়ে বিবৃতি জারি করে বলেছিলেন, "নেপাল সরকার এই বিষয়ে স্পষ্ট ও নিশ্চিত যে মহাকালী নদীর পূর্বে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি নেপালের অবিচ্ছেদ্য অংশ।" যে দাবি সরাসরি খারিজ করে দেয় ভারত সরকার।
প্রসঙ্গত, ৪ সেপ্টেম্বর নেপাল সরকার দেশে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টগ্রাম, এক্স-হ্যান্ডেল সহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদে গর্জে ওঠে দেশের যুব সম্প্রদায়। ৮ সেপ্টেম্বর নেপাল সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে নেপালের জেন-জি সম্প্রদায়। রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে জ্বলে ওঠে নেপাল। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সহ নেপাল পার্লামেন্টে। চাপের মুখে পড়ে নতি স্বীকার করে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কেপি শর্মা ওলি। এখন এই বিক্ষোভের পিছনে তিনি ভারতের 'মদতের' অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর অযোধ্যা ও লিপুলেখ নিয়ে ভারতবিরোধী মন্তব্যের দামই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চোকাতে হল বলে দাবি করেছেন কেপি শর্মা ওলি।
দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)