)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: সুইজারল্যান্ডের খাদ্য প্রস্তুতকারক জায়ান্ট নেসলে তাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) লরেন্ট ফ্রেইক্সেকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একজন অধস্তন কর্মীর সঙ্গে ' প্রেমের সম্পর্ক' স্থাপন করেছিলেন, যা নেসলের ব্যবসায়িক আচরণবিধির (Code of Business Conduct) লঙ্ঘন। এই সিদ্ধান্তের পর ফিলিপ নাভ্রাতিলকে নেসলে'র নতুন সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কেন বরখাস্ত করা হল?
নেসলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লরেন্ট ফ্রেইক্সের এই ব্যক্তিগত সম্পর্কটি তদন্তের পর প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তটি কোম্পানির চেয়ারম্যান পল বুলকে এবং স্বাধীন পরিচালক পাবলো ইসলা দ্বারা পরিচালিত হয়, যেখানে বাইরের আইনি পরামর্শদাতাদেরও সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। চেয়ারম্যান বুলকে বলেন, "এটি একটি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ছিল। নেসলে'র মূল্যবোধ এবং সুশাসন আমাদের কোম্পানির শক্তিশালী ভিত্তি। আমি লরেন্টকে তার বছরের পর বছর ধরে দেওয়া পরিষেবার জন্য ধন্যবাদ জানাই।"
লরেন্ট ফ্রেইক্সের কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত চিত্র
ফ্রেইক্সে ১৯৮৬ সালে ফ্রান্সে নেসলেতে যোগদান করেন। তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত কোম্পানির ইউরোপীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং ২০০৮ সালের সাবপ্রাইম ও ইউরো সংকটের সময়েও তিনি এই বিভাগকে দক্ষতার সাথে সামলেছিলেন। এরপর তিনি ল্যাটিন আমেরিকা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সবশেষে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সিইও পদে পদোন্নতি পান। তার দায়িত্ব ছিল ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনকে মোকাবিলা করা এবং কোম্পানির আর্থিক অবস্থাকে ফিরিয়ে আনা।
নতুন সিইও ফিলিপ নাভ্রাতিল
ফ্রেইক্সের শূন্যস্থান পূরণের জন্য নেসপ্রেসো-এর সিইও ফিলিপ নাভ্রাতিলকে নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। নাভ্রাতিল ২০০১ সালে নেসলেতে কর্মজীবন শুরু করেন এবং মেক্সিকোতে কফি ও পানীয় ব্যবসার নেতৃত্ব দেন। এরপর তিনি নেসক্যাফে এবং স্টারবাকস ব্র্যান্ডের জন্য বৈশ্বিক কৌশল ও উদ্ভাবনের দায়িত্ব নেন। গত বছর তিনি নেসপ্রেসো ব্র্যান্ডের সিইও হন এবং এই বছরের জানুয়ারিতে কোম্পানির বোর্ডে যোগ দেন। নাভ্রাতিল বলেন যে তিনি কোম্পানির কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত এবং তিনি "তীব্রতার সাথে মূল্য তৈরির পরিকল্পনা" এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
অন্যান্য অনুরূপ ঘটনা
লরেন্ট ফ্রেইক্সে প্রথম নন যিনি কর্মক্ষেত্রের সম্পর্কের কারণে পদত্যাগ বা বরখাস্ত হলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, এমন বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীকে তাদের কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ভঙ্গের কারণে বহিষ্কার করা হয়েছে। যেমন:
১. ২০২৩ সালে ব্রিটিশ জ্বালানি জায়ান্ট বিপি (BP)-এর সিইও বার্নার্ড লুনি সহকর্মীদের সঙ্গে তার অতীতের সম্পর্ক প্রকাশ না করায় পদত্যাগ করেন।
২. ২০১৯ সালে ম্যাকডোনাল্ডস (McDonald's)-এর প্রধান নির্বাহী স্টিভ ইস্টারব্রুক একজন কর্মচারীর সঙ্গে "সম্মতিসূচক সম্পর্ক" স্থাপনের জন্য বহিষ্কৃত হন, যা কোম্পানির নীতির পরিপন্থী ছিল।
৩. একইভাবে, ২০১৮ সালে মার্কিন কম্পিউটার চিপ জায়ান্ট ইন্টেল (Intel)-এর সিইও ব্রায়ান ক্রজানিচ একজন কর্মচারীর সঙ্গে "অতীতে সম্মতিসূচক সম্পর্ক" রাখার কারণে পদত্যাগ করেন।
৪. এই ঘটনাগুলো কর্পোরেট জগতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্বকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)