জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: একাকিত্ব আমাদের সমাজের এক ভয়ংকর রোগ। বৃদ্ধ বয়সে একাকিত্ব যেন আরও ভয়ংকর। ভারত,জাপানসহ পৃথিবীর সব দেশেই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। মনোমালিন্য,জেনারেশন গ্যাপের দুনিয়ায় বয়স্করা এখন ব্রাত্য। তাই তাদের থাকার ব্যবস্থা নিজেকেই করে নিতে হয়। বার্ধক্য জনিত জনসংখ্যার সংকট জাপানে ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু এ যেন এক অদ্ভুত ঘটনা, যা সত্যিই বিরল। শুধুমাত্র একাকিত্ব ঘোচাতে চেয়ে আর বাকি জীবনটা বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা পাকা করতে এক জাপানি বৃদ্ধা অপরাধের আশ্রয় নিলেন। তার কাছে নিঃসঙ্গ জীবন এতই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল যে, এই অপরাধ করে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেওয়াই তিনি শ্রেষ্ঠ মনে করেন।
Add Zee News as a Preferred Source
জাপানের এক সংবাদপত্রে বলা হয়েছে, ৮১ বছরের বৃদ্ধা 'আকিও' আগে কখনও খাবার চুরি, কখনও আবার শপিং মলে গিয়ে হাতসাফাই করেছেন। এতে তার দু'বার জেলযাত্রা হয়েছে। কারাবাসের জীবন এক অর্থে তার ভাল লেগে যায়। নিশ্চিন্তে দু'বেলা দু'মুঠো খাওয়া আর মাথার ওপর একটা ছাদ, কারাবাস অন্তত এটুকু নিশ্চিত করবে এই ভেবে আরও বড় অপরাধের পরিকল্পনা করেন আকিও। আর তাই আরও বড় চুরি করে শাস্তি পান এবং টোকিওর নারী সংশোধনাগারে বন্দি হন। তিনি জানান, এই জীবনেই তিনি সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ। বলছেন, 'আমি চুরির মতো একটা নিম্নমানের অপরাধের পথ বেছে নিয়েছি বাধ্য হয়ে। যদি আমি একটু আর্থিকভাবে সচ্ছল হতাম, একটা সুন্দর জীবন পেতাম, তাহলে তো এসব ভাবতে হত না।'
আরও পড়ুন : Bangladesh | Sheikh Hasina: হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে ভয়ংকর এক নির্দেশ দেন হাসিনা, রোগীদের বয়ানে চাঞ্চল্যকর তথ্য
টোকিওর তোচিগি নারী জেলে এখন বন্দি ৫০০ জন, যারা বেশিরভাগই বয়স্ক। সেখানেই রয়েছেন 'আকিও'। তিনি বলেন, 'জেলে খুব ভালো ভালো লোকজন আছেন। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে ভালো জায়গা বলে মনে হচ্ছে। ছেলে কোনদিন আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে, এই ভয়ে আমি নিজেই বেরিয়ে এসে এই পথ ধরি। এই বয়সে তো আর কিছু করতে পারতাম না।'
আরও পড়ুন: Bangladesh: বিয়েবাড়িতে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে ঘিরে ধুন্ধুমারকাণ্ড! ভাঙচুর বাসরঘর...
জেনারেশন গ্যাপ, মা-বাবার সঙ্গে ছেলে-মেয়ের মনোমালিন্য, আশা-নিরাশা-হতাশা এই সব কিছুই বর্তমান সমাজের সমস্যা। সেরকমই জেলে যাওয়ার আগে আকিও ছেলের সঙ্গে থাকতেন। ছেলে প্রায়ই তাঁকে গঞ্জনা করত, বারবার বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার কথা বলত। এসব অত্যাচার আর সহ্য করতে পারছিলেন না তিনি। ফলে বেছে নেন অপরাধের পথ। চুরি করেন এবং যার পরিণাম হিসেবে জেলযাত্রা। কারাগারের একজন অফিসার তাকায়োশি শিরানাগা বলেন, বয়স্ক কয়েদিরা কারাগারে থাকা,বাইরে একাকি মারা যাওয়ার থেকে বেশি পছন্দ করেন, এমনকি কারাগারে থাকার জন্য তারা প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ইয়েন দিতেও ইচ্ছুক ভারতীয় মুদ্রায় যা ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রায়।
সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে জাপানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩৬.২৫ মিলিয়নে পৌঁছেছে অর্থাত্ ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ২৫ হাজার।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল