)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শুক্রবার পাকিস্তানের অশান্ত বালোচিস্তান প্রদেশে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে পাঞ্জাবের নয় যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর বিদ্রোহীরা গুলি করে হত্যা করে। পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে বাস থেকে নামিয়ে প্রথমে অপহরণ করা হয় বেশ কয়েক জন যাত্রীকে। অপহৃতদের মধ্যে ন'জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে বালোচিস্তানের প্রাদেশিক সরকার।
ঘটনার বিবরণ:
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বালোচিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই প্রদেশের ঝোভ এবং লরালাই জেলার সীমানায় সুর-ডাকাই এলাকায় হঠাৎই দু'টি যাত্রিবাহী বাসকে থামায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের দিকে যাচ্ছিল বাসটি। বাস থেকে কয়েক জন যাত্রীকে নামিয়ে নিকটবর্তী পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ন'জনকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। রাতভর অভিযান চালিয়ে নিহতদের দেহ উদ্ধার করে প্রশাসন। আর এক সরকারি আধিকারিক নাভিদ আলম জানিয়েছেন, ন'জনের শরীরেই বুলেটের ক্ষত রয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে:
এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও সংগঠন এখনও হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে মনে করা হচ্ছে, এই ঘটনার নেপথ্যে বালোচ বিদ্রোহীদের হাত রয়েছে। ওই প্রদেশের ঝোব এলাকায় জাতীয় সড়কে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার ঝোব নাভিদ আলম। সশস্ত্র বিদ্রোহীরা যাত্রীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে নয়জনকে কোয়েটা থেকে লাহোরগামী বাস থেকে নামিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
আলম বলেন, নয়জনই পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন অংশের। 'আমরা নয়জনের মৃতদেহ ময়নাতদন্ত এবং অন্তিম সংস্কারের জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছি'। পাঞ্জাব প্রদেশের মানুষ এবং বেলুচিস্তানের বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসগুলিকে লক্ষ্য করে বিদ্রোহীরা এই প্রথমবারের মতো হামলা চালায়নি। কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে অতীতে, বালুচসন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি পঞ্জাবের জনগণের বিরুদ্ধে এই ধরনের হামলা চালিয়েছে।
বালুচ বিদ্রোহী:
ইতিমধ্যে, বিদ্রোহীরা কোয়েটা, লোরালাই এবং মাস্তুং-এ আরও তিনটি সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তবে বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ দাবি করেছেন যে নিরাপত্তা বাহিনী এই হামলাগুলি প্রতিহত করেছে। বেলুচিস্তান মিডিয়ায় অসমর্থিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে বিদ্রোহীরা রাতে প্রদেশের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে এবং চেকপোস্ট, সরকারি স্থাপনা, পুলিশ স্টেশন, ব্যাংক এবং যোগাযোগ টাওয়ারে আক্রমণ করে নিরাপত্তা বাহিনীকে আক্রমণ করেছে।
রিন্দ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, তিনি বলেন যে, এর মধ্যে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সহিংস বিদ্রোহ চলছে। তেল ও খনিজ সমৃদ্ধ এই প্রদেশে বেলুচিস্তানের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি প্রায়শই নিরাপত্তা কর্মী, সরকারি প্রকল্প এবং ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
ফিরল জাফর এক্সপ্রেসের স্মৃতি:
গত মার্চ মাসে এই বালোচিস্তান প্রদেশেই পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেসে হামলা হয়েছিল। পুরো ট্রেন কব্জা করে নিয়েছিলেন বালোচ বিদ্রোহীরা। যে এলাকায় কব্জা করা হয়েছিল, সেই এলাকা ১৭টি সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে পেরোতে হয় জাফর এক্সপ্রেসকে। এর মধ্যে একটি হল মাশকাফ সুড়ঙ্গ। কোয়েটা থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে সিবি শহরের কাছে রয়েছে এই সুড়ঙ্গ।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সমস্যা:
এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে বোলান পাস। মার্চের হামলায় পেহরোকুনরি স্টেশন ছেড়ে ট্রেনটা সবেমাত্র মাশকাফ সুড়ঙ্গে ঢুকেছিল। আচমকাই জাফর এক্সপ্রেসের সামনে রেলপথে বিস্ফোরণ হয়। তার পর একটি বুলেট এসে লাগে চালকের বুকে। সুড়ঙ্গের মধ্যেই থেমে যায় ট্রেনটি। কেবিনের মধ্যে লুটিয়ে পড়েন চালক।
ট্রেনে তখন ৪০০ জনের বেশি যাত্রী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পাক সেনাবাহিনীর কর্মীরাও। পরে অবশ্য পাক সেনাবাহিনীর অভিযানে বালোচ বিদ্রোহীমুক্ত হয় ট্রেন। নিহত হন ২১ জন সাধারণ মানুষ এবং চার জন জওয়ান। সেনা অভিযানে ৩৩ জন বিদ্রোহীরও প্রাণ যায়। যদিও পাকিস্তানের প্রশাসনের ওই পরিসংখ্যান অস্বীকার করেছিলেন বালোচ বিদ্রোহীরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)