)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) দেশে দাঁড়িয়ে, পাক সেনাপ্রধান ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনীর (Asim Munir In US) সরাসরি পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিলেন! আমেরিকায় আদনান আসাদের সঙ্গে নৈশভোজের আগে মুনীর বলেছেন, 'আমরা পরমাণু শক্তিধর দেশ। যদি আমাদের মনে হয় আমরা ধ্বংসের পথে এগোচ্ছি, তবে আমাদের সঙ্গে অর্ধেক বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে ধ্বংস হব'। মুনিরের অভিযোগ, ভারত সিন্ধুজল চুক্তি বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে পাকিস্তানের আড়াই কোটি মানুষ অনাহারে মৃত্যু হতে পারে। মুনির হুঙ্কার ছেড়ে বলেছেন, ভারত যদি ওখানে বাঁধ তৈরি করে, তাহলে তাঁরা ১০টি মিসাইল ছুড়ে ওই বাঁধ ধ্বংস করে দেবেন। মুনিরের সাফ কথা সিন্ধু নদীর উপর ভারতের কোনও ব্যক্তিগত মালিকানা নেই।
বারবার পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি
পাকিস্তান বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভারত যদি সিন্ধু জল প্রবাহের বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তাহলে তা যুদ্ধ হিসেবেই তারা বিবেচনা করবে। সেই হিসেবেই জবাব দেবে। মাস তিনেক আগেই রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ খালিদ জামালির কথায় ঝড় উঠেছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক আরটি-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনিও কিন্তু পরমাণু যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ছিলেন। জামালি রাশিয়াকে বলেছিলেন, 'ভারতের নিম্ন অববাহিকার জল দখল, অবরোধ বা অন্যদিকে প্রবাহিত করার যে কোনও চেষ্টা যুদ্ধ বলেই গণ্য হবে, এর জবাব পাকিস্তান পূর্ণ শক্তি দিয়েই দেবে, যার মধ্যে শক্তির সম্পূর্ণ পরিসর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রচলিত এবং পারমাণবিক উভয়ই।' পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এরপর পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বলেছিলেন 'পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য, কোনও আগ্রাসনের জন্য নয়।'
পরমাণু যুদ্ধ বাঁধলে কে এগিয়ে থাকবে?
ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টসদের (এফএস) পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালের গোড়ার দিকের হিসেব বলছে, ৯টি দেশের কাছে সম্মিলিত ভাবে প্রায় ১২ হাজার ৩৩১টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে থাকলেও, চিন-ভারত-পাকিস্তানও ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রাগার ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে। বিশ্বের শীর্ষ ৯ পরমাণু শক্তিধর দেশের তালিকায় ছয়ে আছে ভারত। দেশের ঝুলিতে আছে ১৮০টি পারমাণবিক অস্ত্র। তালিকায় সাতে পাকিস্তান, তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা-১৭০। কোন দেশেই চায় না ভয়ংকর পরমাণু যুদ্ধের পথে হাঁটতে।
সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি
১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তখন জওহরলাল নেহরু। টানা ৯ বছর ধরে চলে দর কষাকষি। শেষে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবন্টন চুক্তিতে সই করেছিল ভারত। পাশাপাশি দুটি দেশ। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়ায় ভূ-খণ্ডকে ভাগ করা গেলেও, নদীকে আটকানো যায় না। ভারত ও পাকিস্তানের বুক চিরে বয়ে গিয়েছে মোট ৬ নদী। সেই নদীগুলিকেই চলে আসে এই সিন্ধু জলবন্টন চুক্তির আওতায়। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় সাটলেজ, বিয়াস ও রাভী নদীর জল ভারতকে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেয় পাকিস্তান। বিনিময়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর জল পায় পাকিস্তান। চুক্তিতে রয়েছে ১২টি ধারা ও ৮টি উপধারা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)