)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের একাংশের মধ্যে ভারত বিরোধিতার সুর চরমে। সেই সুরকেই হাতিয়ার করেছে মৌলবাদীরা। বাংলাদেশে চলছে সংখ্যালঘু হিন্দু নিপীড়ন। দীপু দাসের পর অমৃত মণ্ডল নামে আরও এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি বাংলাদেশে হিন্দু শিশুহত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। সেখানে ভারতের দাক্ষিণ্যেই সস্তায় ‘জাতীয় ফল’ খেতে পাচ্ছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ! ‘ধনীদের’ ফল খেয়ে-পড়ে বাঁচছে আম-বাংলাদেশি।
কী এই ‘ধনীদের’ ফল?
দেখতে অনেকটা বিলুপ্ত প্রায় পাকা গাবের মতো। খুব মিষ্টি আর সুস্বাদু। পোশাকি নাম পার্সিমন। চড়া দামের জন্য ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘ধনীদের ফল’। একসময় এটি সাধারণ বাজারে বিক্রি হত কম। কিন্তু এখন এই ‘ধনীদের’ ফলের দাম কমছে। সস্তা হচ্ছে। যার পিছনে অন্যতম অবদান ভারতেরই!
কীরকম?
জাপান ও থাইল্যান্ড থেকে পার্সিমন এলেও চলতি বছর বাজারে বেশি দেখা যাচ্ছে ভারতীয় পার্সিমনকে। ভারতের হিমাচল প্রদেশ, কাশ্মীর ও উত্তরাখন্ডে এই পার্সিমন ফলের চাষ হয়। ভারতীয় পার্সিমনের দাম তুলনামূলক অনেকটা কম। বাংলাদেশের হাটহাজারী ফার্মে এখন প্রতিদিন গড়ে ৮০০ কেজি পার্সিমন বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে কেজি প্রতি পার্সিমনের দাম পড়ছে প্রায় ৬৮০ থেকে ৭৮০ টাকা।
দামের তুলনা
কিন্তু গত বছর এই ফলের পাইকারি দাম ছিল কেজি প্রতি ১ হাজার থেকে ১,২০০ টাকা। আর খুচরো বাজারে ছিল ১ কেজি ১,৪০০ টাকা মতো। এই বছর পাইকারি বাজারে সেই দাম নেমে এসেছে ৭২০ থেকে ৭৮০ টাকায়। অর্থাৎ কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা সস্তা হয়েছে দাম। আর দাম কমতেই বেড়েছে বিক্রি। ওদিকে খুচরো বাজারে এখন ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে ১ কেজি পার্সিমন। ফলে সাধারণ মানুষও স্বাদ পাচ্ছেন 'ধনীদের' ফলের!
পার্সিমন কেন ‘জাতীয় ফল’?
পার্সিমন আসলে জাপানের জাতীয় ফল। জাপানে এটি ‘কাকি’ নামে পরিচিত। পূর্ব এশিয়া বিশেষ করে চিন, কোরিয়া ও জাপানে প্রায় এক হাজার বছর ধরে এই পার্সিমন ফলের চাষ হয়। উত্তর ভারতে শীত মানেই যেমন কমলা, ঠিক সেইরকম জাপানে শরৎ মানেই গাছভর্তি কমলা রঙের পার্সিমন।
পার্সিমনের পুষ্টিগুণ
এই পার্সিমনের পুষ্টিগুণ অনেক। জানা যায়, দুর্ভিক্ষ বা খাদ্যসংকটের সময় শুকনা পার্সিমন বা হোশিগাকি খেয়ে বহু মানুষ দিন কাটিয়েছে। তাদের জীবন বেঁচে গিয়েছে শুধু এই পার্সিমনের জন্যই। এই কারণেই পার্সিমন জাপানে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয় ফল’-এর মর্যাদা পেয়েছে। এর স্বাদ-গুণ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে।
চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে ৩০০০ কেজি পার্সিমন বিক্রি
এই বছর দাম কমায় পার্সিমনের বিক্রি বেড়েছে বহুল গুণে। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ী, খুলশি ও নাসিরাবাদের মতো বনেদি এলাকায় এই ফলের চাহিদা বরাবরই বেশি। কিন্তু এবার দাম কমায় হাটহাজারী, পটিয়া ও বোয়ালখালির বাজারেও থরে থরে সাজানো পার্সিমন পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে পার্সিমন পুরোপুরি আমদানিনির্ভর ফল। প্রতিবছর জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আমদানি হয় পার্সিমনের। তারপর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া যায় বাংলাদেশের বাজারে। আর এবছর বাংলাদেশে পার্সিমনের দাম কমায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে ভারতীয় পার্সিমন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)