)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাশিয়া আর পেরে উঠছিল না। তাই তারা আমেরিকাকে বেচে দিল আলাস্কা (Russia sold Alaska)। সে অবশ্য বহু দিন আগের কথা। তবে বিতর্কিত সেই আলাস্কাতেই এবার ট্রাম্প-পুতিন দেখা (Trump-Putin meeting)। ১৮৬৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আলাস্কা কিনে নেওয়ার পরে ১৮৯৬ সালে সহসা আলাস্কা থেকে মিলল বিপুল সোনা (huge gold discovery made in Yukon Alaska)! যার পর থেকে আলাস্কাকে গোল্ডফিল্ড (gateway to Klondike gold fields) বলা হচ্ছে।
আলাস্কা প্রেক্ষাপট
কেন রাশিয়া আলাস্কা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করেছিল? এর নির্দিষ্ট
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে। আলাস্কা রাশিয়ারই একটি বিশাল অঞ্চল, বরফে ঢাকা। এটি মূলত রাশিয়ান সাম্রাজ্যের একটি কলোনি ছিল। সেখানে পশমের ব্যবসা চলত। সেই সময়ে, রাশিয়া ক্রিমিয়ান যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল এবং তাদের অর্থনীতি বেশ দুর্বল ছিল।
আলাস্কা বিক্রির কারণ
আলাস্কা বিক্রির অনেক কারণ। অর্থনৈতিক, ভৌগোলিক-- নানারকম। এর মধ্যে অর্থনৈতিক চাপটা খুব বেশিই ছিল। রাশিয়াকে আলাস্কা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বহু ব্যয় করতে হচ্ছিল। এছাড়া ছিল ভৌগোলিক দূরত্বের যন্ত্রণা। আলাস্কা রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে, তাই এর নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা বেশ কঠিন ছিল। এসব ছাড়া ছিল ব্রিটিশ আগ্রাসনের ভয়। রাশিয়া ভয় পেয়েছিল যে, ব্রিটিশরা কানাডা থেকে আলাস্কা আক্রমণ করে সেটি দখল করে নিতে পারে। ব্রিটিশদের কাছে এটি হারানোর চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া রাশিয়া শ্রেয় মনে করেছিল।
বিক্রির চুক্তি
১৮৬৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিওয়ার্ড এই চুক্তিটি সম্পন্ন করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আলাস্কা কিনে নেয়, যা তৎকালীন সময়ের বাজারের নিরিখে অত্যন্ত কম মূল্য ছিল। এই চুক্তিকে অনেকেই সিওয়ার্ডস ফোলি (Seward's Folly) বা সিওয়ার্ডস আইসবক্স (Seward's Icebox) বলে উপহাস করেছিলেন। কারণ, তারা মনে করেছিল যে, এত অল্প মূল্যে এত বিশাল এক বরফের টুকরা কেনা বোকামি।
সোনার দরজা হাট
তবে, পরে-পরে আলাস্কায় বিপুল পরিমাণে সোনা, খনিজ তেল এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ আবিষ্কৃত হয়। বলতে গেলে ১৮৯৬ সালেই আলাস্কার ভাগ্য বদলে যায়। কানাডার ইউকন (Yukon) অঞ্চলে সোনার এক বিশাল ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হয়, যা ইতিহাসে ক্লনডাইক গোল্ড রাশ (Klondike Gold Rush) নামে পরিচিতি লাভ করে। এই সোনার খনিগুলিতে পৌঁছনোর সবচেয়ে সহজ পথ ছিল আলাস্কার মধ্য দিয়ে। সেসময়ে আলাস্কা রাতারাতি ক্লনডাইক গোল্ড ফিল্ডসের প্রবেশদ্বার হয়ে ওঠে। হাজার হাজার মানুষ ভাগ্য বদলানোর আশায় আলাস্কার বন্দর শহরগুলিতে ভিড় জমাতে শুরু করেন। এরপর তাঁরা দুর্গম পর্বতশ্রেণী পেরিয়ে ক্লনডাইকের দিকে যাত্রা করতেন। আলাস্কার এই কৌশলগত অবস্থান সিওয়ার্ডোর সিদ্ধান্তকেই সঠিক প্রমাণিত করে। আলাস্কা তখন আর নিছক বরফের মরুভূমি থাকল না, বরং এটি হয়ে উঠল এক বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উৎস।
আলাস্কা ও আমেরিকা
শেষ পর্যন্ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ১.৫ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের বেশি জমি কিনেছিল, যা প্রতি একর দুই সেন্টেরও কম। এই চুক্তিটি কেবল দেশের আকারই বাড়ায়নি, বরং ভবিষ্যতে আলাস্কার প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এক উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যতেরও পথ খুলে দিয়েছিল। বর্তমানে, আলাস্কা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত ভাবে এবং অর্থনৈতিক ভাবেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকার প্রায় ২০% বাড়িয়ে দিয়েছিল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)