Scabies in Bangladesh: রোজ স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হচ্ছেন শয়ে শয়ে মানুষ, সঠিক চিকিত্সা না হলে সমস্যা হতে পারে কিডনিতেও!
Scabies in Bangladesh: 'স্ক্যাবিস' কী ও কীভাবে ছড়ায়? এ রোগের লক্ষণ ও উপসর্গই বা কী? এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা কী? কীভাবে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়?
সেলিম রেজা, ঢাকা: বদলের বাংলাদেশের কুমিল্লা ও রাজশাহীতে ছোঁয়াচে রোগ 'স্ক্যাবিস'-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই দুই মহানগরের সরকারি হাসপাতালগুলোয় খোস-পাঁচড়া জাতীয় এই রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের কুমিল্লার মুরাদনগরে ৭ বছর বয়সী এক শিশু এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে।
TRENDING NOW
শিশুটির মা আয়শা খানম এই রোগে তার সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে জি ২৪ ঘন্টাকে বলেন, "ছোটো মেয়ের গত সপ্তাহে প্রথমে জ্বর আসছে, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়নি। ওষুধ দিছি। পরে দিন দেখি ডান হাতের আঙ্গুলে খালি চুলকায়। আঙ্গুলের ফাঁকে লাল লাল ফোস্কার মতন। তখনও পাত্তা দেই নাই। পরেরদিন দেখি এগুলা ভইরা গেছে শরীরের বিভিন্ন জাগায়। তিন দিনের দিন উপজেলা হেলথ সেন্টারে নিছি। ডাক্তাররা কয় এটা ছোঁয়াচে, সবার থেকে আলাদা রাখন লাগবো মাইয়ারে। ওষুধ দিছে, ক্রিম, লোশন দিছে। সাত দিন চলে এখনও ভালো হয় নাই"।
বাংলাদেশের চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণ মানুষ অনেক সময় 'স্ক্যাবিস'কে খোস-পাঁচড়া বলে উল্লেখ করে। গরমের সময়ে এই ছোঁয়াচে রোগটির প্রাদুর্ভাব বেশি হলেও এখন সারা বছরই দেখা দেয়।
বাংলাদেশের মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান, 'স্ক্যাবিস' নামের এ চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে দুইশ থেকে আড়াইশ জন চিকিৎসা নিতে আসেন।
এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জি ২৪ ঘন্টাকে বলেন, "আমাদের হাসপাতালের বহির্বিভাগে বয়স্ক ও শিশু মিলিয়ে প্রতিদিন পাঁচশো থেকে সাড়ে পাঁচশো রোগী আসে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে। আর এর মধ্যে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু রোগীই হয় দেড়'শ থেকে পৌনে দুইশো। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ স্ক্যাবিসে আক্রান্ত রোগী।"
শুধু কুমিল্লার এই উপজেলাই নয়, এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও। বিশ্ববিদ্যালয়টির মেডিকেল সেন্টারে গত এক সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন এ চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও রাজশাহী শহরেও এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক মাশিউল আলম হোসেন।
চিকিৎসক মাশিউল আলম হোসেন জি ২৪ ঘন্টাকে বলেন, "এটা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজশাহীর সমস্যা নয়, এটা গোটা বাংলাদেশেরই সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টারে দৈনিক ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী পাচ্ছি। আগে প্রাইভেট চেম্বারে দিনে দুইজন এ রোগের রোগী পাওয়া গেলেও এখন দিনে পাঁচ-ছয়জন পাওয়া যাচ্ছে।"
আরও পড়ুন-রাজ্য অশান্ত আর মুখ্যমন্ত্রী গান গাইছেন, কে শুনবে ওই গান? বিস্ফোরক দিলীপ
আরও পড়ুন-'মা ডাকছে তোকে...', বাবার বন্ধুর ডাকে বেরোল চোদ্দর কিশোরী! তারপরই লালসার নগ্ন কামড়...
'স্ক্যাবিস' কী ও কীভাবে ছড়ায়? এ রোগের লক্ষণ ও উপসর্গই বা কী? এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা কী? কীভাবে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়?
বাংলাদেশের চিকিৎসকরা বলছেন, শত শত চর্ম রোগের মধ্যে এই 'স্ক্যাবিস' রোগই সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে। একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে সংক্রমণ দ্রুত হলেও রোগটি প্রতিরোধযোগ্য। তবে সঠিক চিকিৎসা না হলে স্ক্যাবিসের কারণে কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
ফলে এ রোগে সংক্রমণের হার ঠেকাতে ওই ব্যক্তিরই শুধু নয়, বরং ওই পরিবার বা একই ঘরে অবস্থানকারী সব সদস্যদের একসাথে চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
'স্ক্যাবিস' একটি প্যারাসাইটিক বা পরজীবী চর্মরোগ। 'সারকোপটিস স্ক্যাবিয়া' নামে এক ধরনের পরজীবীর আক্রমণে এ রোগ হয়।
'স্ক্যাবিস' হয়েছে এমন কারো সরাসরি সংস্পর্শ, আক্রান্ত ব্যক্তির জামা-কাপড়, বিছানা, তোয়ালেসহ ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মাধ্যমে জীবাণু একজন থেকে আরেক জনের শরীরে ছড়ায়।
চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জি ২৪ ঘন্টাকে বলেন, "সাধারণত গরমের সিজনে এখন বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ, স্ক্যাবিস বেশি ছড়ায়। সারা বছরই থাকে। কিন্তু এই সিজনে বেশি ছড়ায়।"
এ রোগ কীভাবে ছড়ায়, এমন প্রশ্নে চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "যে স্থানে ঘনবসতিপূর্ণ যেমন বস্তি এলাকা, হোস্টেল- যেখানে অনেকে একসঙ্গে থাকেন, সেখানে স্ক্যাবিস বেশি হয়। যারা নিয়মিত কাপড়-চোপড় ধোয় না, নিয়মিত গোসল করে না অর্থাৎ যারা অপরিচ্ছন্ন থাকে, তাদের মাধ্যমে এই পরজীবী বেশি আক্রমণ করে।"
'স্ক্যাবিস' এর প্রধান উপসর্গ হলো এ রোগে আক্রান্ত হলে সারা শরীর চুলকাতে থাকে।
চিকিৎসকরা জানান, শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে ভাঁজে যেমন দুই আঙুলের ফাঁক, কোমর, ঘাড়, নিতম্বে, যৌনাঙ্গে, হাতের তালুতে, কবজিতে, বগলের নিচে, নাভি ও কনুইয়ে এ রোগের সংক্রমণ বেশি হয়। এসব স্থানে ছোট ছোট লাল দানাদার র্যাশ বা ফুসকুড়ি ওঠে। যা খুব চুলকায়। এগুলো থেকে পানির মতো তরল বের হতে পারে। সাধারণত রাতে চুলকানি বেশি হয়। আক্রান্ত স্থানে চুলকানির ফলে ক্ষত হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে অন্য সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। তবে এ রোগের উপসর্গ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভিন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল