Free home with job offer conditions: চাকরির অফারের সঙ্গেই মিলছে বিনামূল্যে ঘর। কোথায়? অফারের শর্তাবলী কী কী? কেন অফারটি আকর্ষণীয়? আপনিও কি পেতে পারেন এই সুযোগ? জানুন।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দুর্দিনের বাজারে এ যেন হাতে সোনার চাঁদ পাওয়া! চাকরির অফারের সঙ্গেই মিলছে বিনামূল্যে ঘর। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! কাজ করতে চাইলে, থাকতে চাইলে, ঘরও পেয়ে যাবেন আপনি। আর সেটাও একদম বিনামূ্ল্যে। জানেন কোথায়? এমন দারুণ সুযোগ মিলছে স্পেনে। উপরি পাওয়া পাহাড়ের কোলে এক মনোরম পরিবেশে থাকার সুযোগ।
স্পেনের সোরিয়া অঞ্চলের আরেনিলাস নামে একটি ছোট্ট গ্রাম। সেই গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক পরিবারদের বিনামূল্যে বাড়ি এবং নিশ্চিত কাজের সুযোগ দিচ্ছে সেখানকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কেন? জানা যাচ্ছে, এর মূল কারণ মূলত গ্রামের জনসংখ্যা রোধ করা। গ্রামে মাত্র ৪০ জনের মতো বাসিন্দা রয়েছে বর্তমানে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাই আরেনিলাসের জনসংখ্যা আরও হ্রাস রোধ করার চেষ্টা করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবে গ্রামে থাকতে ইচ্ছুক পরিবারের জন্য একটি বিনামূল্যে বাড়ি এবং একটি স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্পেনের সোরিয়া অঞ্চলের ছোট্ট আরেনিলাস গ্রামের এই ঘোষণা সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কারণ, বলা হচ্ছে এটি ইউরোপের অন্যতম ব্যতিক্রমী পুনর্বাসন প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি।
অফারের শর্তাবলী
তবে এই অফারের কিছু নির্দিষ্ট শর্তাবলীও রয়েছে। এটা কোনও উন্মুক্ত আমন্ত্রণ নয়। লিমিটেড পরিবারই এই সুযোগ পাবে। গ্রাম কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীদের জন্য কিছু শর্তও তাই নির্ধারণ করেছে।
যেমন, নির্বাচিত পরিবারে অবশ্যই স্কুলপড়ুয়া সন্তান থাকতে হবে। তাদের গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। এছাড়াও, তারা গ্রাম পরিচালনায় এগিয়ে আসার পাশাপাশি স্থানীয় পুরসভার রক্ষণাবেক্ষণ ও ছোটখাটো নির্মাণ কাজে সহায়তা করার মতো দায়িত্বও পালন করবেন।
গ্রামের অন্যান্য বাড়িগুলির মাসিক ভাড়া প্রায় ৯,০০০ টাকা। তবে নির্বাচিত পরিবারকে কোনও ভাড়া দিতে হবে না। তার বিনিময়ে, তারা এমন কিছু অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করবে যা গ্রামের উন্নতিতে সহায়ক হবে।
কেন অফারটি আকর্ষণীয়?
২০২৬ সালের শুরুতেই এই পুনর্বাসন প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যেই ১০০-রও বেশি আবেদনপত্র জমা পড়ে এই অফারের প্রেক্ষিতে। ইউরোপের মনোরম পরিবেশে বিনামূল্যে আবাসন পাওয়া একদিকে যেমন একটি বিরল সুযোগ, তেমনই এরসঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ যুক্ত হওয়ায়, তা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে ইচ্ছুক অনেক মানুষের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় ও লোভনীয় হয়ে ওঠে।
পাহাড়ের কোলে এক মনোরম এলাকায় অবস্থিত এই আরেনিলাস গ্রামটি। এপ্রিল মাসেও যেখানে তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। চারপাশের শান্ত, সবুজ, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ গ্রামটির নৈসর্গিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে বহুগুণে। ছবির মতো সুন্দর গ্রামটিকে একটি পোস্টকার্ডের মতো রূপ দিয়েছে। আর সেই গ্রামে চাকরি ও বিনামূল্যে থাকর এমন অফার, নিঃসন্দেহে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
তবে, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য স্বল্পমেয়াদী বসবাস নয়। গ্রাম কর্তৃপক্ষ এমন দীর্ঘমেয়াদী বাসিন্দা চায়, যারা স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশ হয়ে উঠবে এবং একে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।
আরেনিলাসে জীবন সহজ নয়
তবে আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও, আরেনিলাসের দৈনন্দিন জীবনে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। গণপরিবহন সীমিত। তাই ব্যক্তিগত যানবাহন থাকা প্রায় অপরিহার্য। নিকটতম স্কুলটিও প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। যদিও পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে পরিবহনের ব্যবস্থা রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রাথমিক পর্যায়ের। তাই বাসিন্দারা গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজনে নিকটবর্তী শহরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে শীতকালও কষ্টকর হতে পারে।
এছাড়া গ্রামে যে কাজগুলো দেওয়া হয়, সেগুলিতেও খুব পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। গ্রামের বার চালানো লাভের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজে পুরোনো দালান ও পরিকাঠামো মেরামত করার জন্য শারীরিক পরিশ্রমের প্রয়োজন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই প্রকল্পের আওতায় ভিসা দেওয়া হয় না। ফলে আবেদনকারীদের অবশ্যই স্পেনে বসবাস ও কাজ করার জন্য আগে থেকে বৈধ অনুমতি থাকতে হবে।
গ্রাম কর্তৃপক্ষের কেন এমন সিদ্ধান্ত?
আসলে আরেনিলাসের পরিস্থিতি গ্রামীণ স্পেনের একটি বৃহত্তর সমস্যাকে তুলে ধরে। ১৯৫০-এর দশক থেকে মানুষ দলে দলে শহরে চলে যাওয়ায় অনেক গ্রামঅ কার্যত বৃদ্ধাশ্রমের চেহারা নিয়েছে। শুধুই বয়স্করা সেখানে আর ফাঁকা খালি বাড়ি।
উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানে গ্রামের বাসিন্দারা অন্যত্র থেকে এলে জনসংখ্যা সাময়িকভাবে ৩০০-য় পৌঁছয়। কিন্তু বছরের বেশিরভাগ সময় গ্রামটি প্রায় জনশূন্যই থাকে। তাই নতুন বাসিন্দা না এলে আরেনিলাসের মতো গ্রামগুলি ধীরে ধীরে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই বিলীন হয়ে যাবে।
তাই আরেনিলাসের মতো গ্রামগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে, সেখানকার সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রাকে বাঁচিয়ে রাখতে এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। যেখানে বাড়ি ও চাকরি বা কাজের বিনিময়ে গ্রামটিকে বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা রয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)