)
কাদের মাথায় শিরোপা উঠল:
টি-মোবাইলের (T-Mobile) নতুন সিইও হিসেবে শ্রীনিবাস গোপালান (Srinivas Gopalan) এবং মোলসন কোরসের সিইও হিসেবে রাহুল গয়াল (Rahul Goyal) নিযুক্ত হয়েছেন। শ্রীনিবাস আগামী ১ নভেম্বর থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আইআইএম আহমেদাবাদের (IIM Ahmedabad) প্রাক্তনী গোপালান বর্তমানে টি-মোবাইলের চিফ অপারেটিং অফিসার (Chief Operating Officer) হিসেবে কর্মরত। তিনি মাইক সিভার্টের (Mike Sievert) স্থলাভিষিক্ত হবেন। যিনি ২০২০ সাল থেকে কোম্পানিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং এবার ভাইস চেয়ারম্যানের (Vice Chairman) নতুন পদে যোগ দেবেন।
নিজের লিংকডইন (LinkedIn) পোস্টে গোপালান বলেন, 'টি-মোবাইলের পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা গ্রহণ করতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত। এই কোম্পানি যা অর্জন করেছে, তা দেখে আমি দীর্ঘদিন ধরেই বিস্মিত — গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার জন্য নির্ভীকভাবে ওয়্যারলেস প্রযুক্তিকে নতুন করে উদ্ভাবন করেছে, যা একসময় কেউ সম্ভব বলে মনে করেনি।'
কে এই শ্রীনিবাস গোপালান?
গোপালানের কর্মজীবন বিভিন্ন মহাদেশ এবং শিল্প জুড়ে বিস্তৃত। হিন্দুস্তান ইউনিলিভারে (Hindustan Unilever) একজন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর তিনি ভারতী এয়ারটেল (Bharti Airtel), ভোডাফোন (Vodafone), ক্যাপিটাল ওয়ান (Capital One) এবং ডয়চে টেলিকম (Deutsche Telekom)-এর মতো সংস্থায় সিনিয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। ডয়চে টেলিকমে থাকাকালীন তিনি কোম্পানির দ্বিগুণ করেছিলেন, লক্ষ লক্ষ বাড়িতে ফাইবার নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং জার্মানিতে মোবাইল বাজারে রেকর্ড শেয়ার অর্জন করেছিলেন।
গোপালনের কর্মজীবন:
টি-মোবাইলে (T-Mobile) তিনি টেকনোলজি, কনজিউমার এবং বিজনেস বিভাগের তত্ত্বাবধান করেছেন এবং 5G, AI (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), ও ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশন (Digital Transformation)-এর মতো উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মাইক সিভার্ট (Sievert) গোপালানকে "অত্যন্ত দক্ষ, উদ্যমী এবং অবিশ্বাস্য জ্ঞানী" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, গোপালানের ক্ষমতার উপর তার পূর্ণ আস্থা আছে এবং তিনি "আমাদের কর্মচারী ও গ্রাহকদের অভিজ্ঞতাকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে" সক্ষম হবেন।
কে এই রাহুল গয়াল:
এদিকে, শিকাগোর পানীয় প্রস্তুতকারী বৃহৎ সংস্থা মোলসন কোরস (Molson Coors) ৪৯ বছর বয়সী রাহুল গয়ালকে (Rahul Goyal) তাদের নতুন প্রেসিডেন্ট এবং সিইও হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই নিয়োগ আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। গয়াল গ্যাভিন হ্যাটার্সলির স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি এই বছরের শেষ পর্যন্ত একটি উপদেষ্টা পদে থাকবেন। তিনি গত ২৪ বছর ধরে এই কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত আছেন।
গয়ালের কর্মজীবন:
ভারতীয় বংশোদ্ভূত গয়াল মহীশূরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর ডেনভারে বিজনেস স্টাডিজের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ভারতে কোরস ও মোলসন ব্র্যান্ডের হয়ে কাজ করেছেন।
এই ঘটনা কাকতালীয় হলেও সত্যি যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন H1B ভিসার উপর কঠোর নিয়ম আরোপের মধ্যেই আমের্কাল মাটিতে ভারতীদের পদন্নোতি। H1B ভিসাতে মধ্যে প্রতি ভিসার জন্য এক লক্ষ ডলারের বিশাল ফি নির্ধারণ করেছে ট্রাম্প সরকার।
যদিও এই দুই সিইও সরাসরি H1B ভিসার নতুন নীতি নিয়ে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি, তবে তাদের নিয়োগকে অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-বিরোধী নীতির পরোক্ষ জবাব হিসেবে দেখছেন। শ্রীনিবাস গোপালান এবং রাহুল গয়ালের মতো ব্যক্তিদের আমেরিকান কোম্পানিগুলির শীর্ষ পদে আরোহণ প্রমাণ করে যে, মার্কিন কর্পোরেট জগত প্রতিভা এবং যোগ্যতাকে কতটা গুরুত্ব দেয়, তা সে যে কোনো দেশেরই হোক না কেন।
H1B ভিসার উপর নতুন খাঁড়া
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দক্ষ বিদেশী কর্মীদের জন্য H1B ভিসার আবেদন করতে গেলে কোম্পানিগুলিকে এখন থেকে এক লক্ষ ডলার ফি দিতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ ফি অনেক কোম্পানির জন্যই, বিশেষ করে ছোট এবং মাঝারি মাপের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জন্য, একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, মার্কিন কোম্পানিগুলি বিদেশী কর্মী নিয়োগে নিরুৎসাহিত হবে এবং অনেক প্রতিভাবান ভারতীয় কর্মী আমেরিকায় কাজের সুযোগ হারাবেন। এই নীতির ফলে "রিভার্স ব্রেন ড্রেন" বা প্রতিভা পাচার উল্টো দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে, যেখানে ভারতীয় প্রতিভারা নিজেদের দেশেই ফিরে আসতে পারেন।
কর্পোরেট জগতের প্রতিক্রিয়া
আমেরিকার প্রযুক্তি শিল্প এবং অন্যান্য ক্ষেত্রগুলি দীর্ঘদিন ধরেই H1B ভিসার উপর নির্ভরশীল। গুগল, মাইক্রোসফ্ট, অ্যামাজনের মতো বড় কোম্পানিগুলি বহু ভারতীয় সহ অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ করে নিজেদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন নীতির ফলে এই কোম্পানিগুলিও বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যদিও শ্রীনিবাস গোপালান বা রাহুল গয়ালের সংস্থা, টি-মোবাইল এবং মোলসন কোরস, এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে সাধারণভাবে কর্পোরেট জগত এই ধরনের নীতির বিরোধী। তাদের মতে, এর ফলে আমেরিকায় প্রতিভার আগমন কমবে এবং দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ভারতীয়দের সাফল্য এবং ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
শ্রীনিবাস গোপালান এবং রাহুল গয়ালের এই সাফল্য ভারতীয়দের বিশ্বব্যাপী নেতৃত্বের ক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সত্য নাদেলা (মাইক্রোসফ্ট) এবং সুন্দর Pichai (গুগল)-এর মতো ব্যক্তিত্বদের পথ অনুসরণ করে তারা প্রমাণ করেছেন যে, ভারতীয়রা শুধুমাত্র কর্মী হিসেবেই নয়, নেতা হিসেবেও বিশ্ব দরবারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম।
H1B ভিসা নিয়ে বর্তমান বিতর্ক এবং তার মাঝে এই দুই ভারতীয়র সিইও পদে নিয়োগ আমেরিকার কর্পোরেট সংস্কৃতি এবং অভিবাসন নীতির মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েনের চিত্র তুলে ধরে। একদিকে রাজনৈতিকভাবে অভিবাসনকে কঠিন করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে আমেরিকান কোম্পানিগুলি বিশ্বজুড়ে সেরা প্রতিভাদের আকর্ষণ করতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে, গোপালান এবং গয়ালের মতো নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাদের সাফল্য হয়তো মার্কিন নীতি নির্ধারকদের এটা বোঝাতে সাহায্য করবে যে, অভিবাসী প্রতিভারা আমেরিকার অর্থনীতির জন্য কতটা অপরিহার্য।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)