)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকার গ্রিন কার্ডে (green card) আসছে বদল, প্রশ্নের মুখে H-1B ভিসাও (H-1B visa system)! ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ভারতীয় রপ্তানিতে বড় ধাক্কা, ‘ভিসা সিস্টেম ভয়াবহ’ বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী লাটনিক (Commerce Secretary Lutnick)। আমেরিকার বাণিজ্যমন্ত্রী লাটনিক জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হবে। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান H-1B ভিসা ব্যবস্থাকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় এই ভিসাও শিগগিরই বড় ধাক্কা খেতে পারে।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই আমদানি করা একাধিক পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, যার বড় প্রভাব পড়েছে ভারতীয় রপ্তানির ওপর। তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা একাধিক ভারতীয় পণ্যের বাজার সংকুচিত হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে অভিবাসন ও কর্মসংস্থান নীতির পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতীয় আইটি শিল্প সহ বিভিন্ন খাতে। বিশেষত, যারা H-1B ভিসার উপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী লাটনিকের সাম্প্রতিক মন্তব্যে অনুমান করা হচ্ছে, গ্রিন কার্ডের নিয়ম কড়াকড়ি করার পাশাপাশি H-1B ভিসার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে আমেরিকায় কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় পেশাদারের উপর প্রভাব পড়তে বাধ্য।
ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ধাক্কা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বিদেশি আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছেন। এতে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় রপ্তানির অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির দাবি, ওষুধ, ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী, টেক্সটাইল এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সহ একাধিক খাত এই শুল্কের জেরে ক্ষতির মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে অভিবাসন নীতিতে নতুন কড়াকড়ি যুক্ত হলে ভারতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপর তা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
H-1B ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রের আইটি শিল্পে বিদেশি কর্মীদের অবদান বিশাল, যার বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন ভারতীয়রা। কিন্তু যদি H-1B ভিসার নিয়মে কড়াকড়ি আনা হয়, তাহলে আমেরিকায় কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও বিশেষজ্ঞকে দেশে ফিরতে বাধ্য হতে হতে পারে। এতে শুধু ব্যক্তিগত কর্মজীবনই নয়, ভারতীয় আইটি শিল্পের রাজস্বেও বড় ধাক্কা লাগবে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার এই নতুন পদক্ষেপ একদিকে যেমন ভারতীয় রপ্তানি বাজারকে সংকুচিত করবে, অন্যদিকে দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন কঠিন হয়ে পড়বে। তাঁরা মনে করছেন, এর ফলে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কেও টানাপড়েন বাড়বে।
ভারত সরকারের উদ্বেগ
ভারতের তরফে ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, শুল্ক ও ভিসা–সংক্রান্ত বিষয়গুলি কূটনৈতিক আলোচনায় তোলা হবে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং রপ্তানিকারক সংস্থা ও আইটি খাতের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়েছে।
ভবিষ্যতের পথ
যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও লাটনিকের বক্তব্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি স্পষ্ট করে দিয়েছে—বিদেশি কর্মী ও আমদানি পণ্যের উপর আরও চাপ তৈরি হতে চলেছে। ফলে আগামী দিনে ভারতীয় রপ্তানি, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং কর্মসংস্থানের ওপর একসঙ্গে একাধিক ধাক্কা আসতে পারে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)