US tariffs direct impact on India’s economy: ভারতের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ মূলত ট্রাম্পের “ব্যক্তিগত ক্ষোভ” থেকে এসেছে, কারণ মে মাসে চার দিনের ভারত–পাকিস্তান সংঘাতের পর শান্তি স্থাপনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা দেওয়া হয়নি তাঁকে। যার ফল ট্রাম্পের শুল্ক নীতি: ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের অর্থনীতির সামনে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। জেফরিসের গ্লোবাল হেড অব ইকুইটি স্ট্র্যাটেজি ক্রিস উডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের হঠাৎ আরোপিত শুল্ক নীতির কারণে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ৫৫–৬০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। উড জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে টেক্সটাইল, ফুটওয়্যার, জুয়েলারি ও রত্ন শিল্প, যেগুলো কর্মসংস্থানের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের চাকরি সংকটে পড়তে পারে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর
এই শুল্কনীতির প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও। চলতি ত্রৈমাসিকে নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ৮ শতাংশে, যেখানে গত কয়েক বছরের প্রবণতা ছিল ১০–১২ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৮.৫–৯ শতাংশে পৌঁছতে পারে—যা কোভিড বছর বাদ দিলে গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SMEs)-এর জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে মাইক্রোফাইন্যান্স ও ভোক্তা ঋণ খাত সরাসরি আঘাত পেতে পারে। উডের আশঙ্কা, শুল্ক চাপ অব্যাহত থাকলে ভারতের জিডিপি ১ থেকে ১.২ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।
চীনের দিকে ঝুঁকছে ভারত
এই সঙ্কটের মধ্যে ভারতের আমদানি নির্ভরতা আরও বাড়ছে চিনের উপর। বর্তমানে চীন থেকে বার্ষিক আমদানি দাঁড়িয়েছে ১১৮ বিলিয়ন ডলার, যা মোট আমদানির ১৬ শতাংশ। এর বৃদ্ধি হার বছরে প্রায় ১৩ শতাংশ। অতিরিক্তভাবে, পাঁচ বছর পর আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ভারত-চীনের সরাসরি উড়ান পরিষেবা আবার চালু হচ্ছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। উডের ভাষায়, “ভারতের এখন চিনের সস্তা পণ্যের প্রয়োজন, যেমন সৌর প্যানেল।”
আমেরিকার জন্য কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ
উড একে আমেরিকার জন্য ‘নির্মম বিদ্রূপ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির শূন্যতা ভারতের চীনের দিকে ঝুঁক বাড়িয়ে তুলছে—যা “আমেরিকার জাতীয় স্বার্থে নয়, বরং আমেরিকারই ক্ষতি।”
শুল্ক বৃদ্ধির হুমকির মধ্যেও কিছু খাত আপাতত সুরক্ষিত রয়েছে। কৃষি খাত, যেখানে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ কর্মরত এবং যা মোট কর্মশক্তির প্রায় ৪০% জুড়ে রয়েছে, তা এখনও তুলনামূলকভাবে প্রভাবমুক্ত। একইভাবে পরিষেবা খাতও, বিশেষত আইটি রপ্তানি, যার বার্ষিক আয় প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার, এবং গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার থেকে আসা আরও ৬০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব, এখনো পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্কের আওতায় পড়েনি। ক্রিস উড মন্তব্য করেছেন, “যখন ট্রাম্প বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি প্রায় একচেটিয়াভাবে পণ্য আমদানি–রপ্তানি নিয়েই চিন্তা করেন।”
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)