জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা সংঘাত যখন চরম শিখরে, ঠিক তখনই পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম LGM-30G Minuteman III মিসাইল পরীক্ষা করল মার্কিন বিমান বাহিনী। ৩রা মার্চ রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল থেকে এই ‘আনআর্মড’ বা নিরস্ত্র মিসাইলটি উৎক্ষেপণ করা হয়। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, এই পরীক্ষাটি বহু বছর আগে থেকে নির্ধারিত ছিল এবং বর্তমান কোনো যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় এটি করা হয়নি। কিন্তু এখান থেকেই উঠছে প্রশ্ন, হুমকির পাশাপাশি এই মিসাইল পরীক্ষা কি আসলে শক্তির প্রদর্শন?
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন- Dubai Airport Explosions: দুবাই বিমানবন্দরে ভয়ংকর বিস্ফোরণ: বাতিল সব ফ্লাইট, সুড়ঙ্গে আশ্রয় নিল যাত্রীরা
এই বিশেষ মিশনটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘গ্লোরি ট্রিপ ২৫৫’ (GT 255)। উৎক্ষেপণের পর মিসাইলটি প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে প্রায় ৪,২০০ মাইল (৬,৭০০ কিমি) পথ অতিক্রম করে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের কোয়াজালেইন অ্যাটলে তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এই পরীক্ষায় দু’টি ‘রি-এন্ট্রি ভেহিকল’ বা পুনরায় প্রবেশযোগ্য যান ব্যবহার করা হয়েছিল, যা মূলত একটি মিসাইল থেকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা যাচাই করে।
কেন একে ‘ডুমসডে’ বা প্রলয়ঙ্কারী মিসাইল বলা হয়?
গতি ও পাল্লা: এই মিসাইলটি ঘণ্টায় প্রায় ২৪,০০০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে এবং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে আঘাত হানতে সক্ষম।
ধ্বংস ক্ষমতা:এটি যে পরমাণু অস্ত্র বহন করতে পারে, তা হিরোশিমায় ব্যবহৃত বোমার চেয়েও ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী।
কৌশলগত গুরুত্ব:এটি আমেরিকার ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর একটি অন্যতম অংশ, যা ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।
আরও পড়ুন- Iran President Masoud Pezeshkian Apologizes: প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, তবে অন্যায়ের বদলা আমরা নেবই: ইরান
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অষ্টম দিনে এই পরীক্ষা নিয়ে সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ, মাত্র কয়েকদিন আগেই আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতা আয়তুল্লাহ খামেইনির মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকা একে ‘রুটিন পরীক্ষা’ বললেও, এই মুহূর্তে এহেন শক্তির প্রদর্শন প্রতিপক্ষ দেশগুলোর (যেমন ইরান বা রাশিয়া) কাছে একটি পরোক্ষ হুঁশিয়ারি হিসেবে কাজ করবে।
শনিবারই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের ক্ষমা প্রার্থনাকে ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ (Truth Social) ইরানকে "মধ্যপ্রাচ্যের লুজার" বা পরাজিত শক্তি বলে তোপ দাগলেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার হাড়ভাঙা আক্রমণ এবং ইসরায়েলি পাল্টাপাল্টি আঘাতের জেরেই ইরান আজ ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছে।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সামনে এখন মাত্র দুটি পথ খোলা আছে—হয় নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ, নতুবা সম্পূর্ণ পতন। তিনি বলেন, "ইরান আর মধ্যপ্রাচ্যের দাদাগিরি করতে পারবে না। তারা এখন পরাজিত এবং আগামী কয়েক দশক তাদের এই অবস্থাই থাকবে।" ট্রাম্প আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ইরান যদি নেতৃত্ব পরিবর্তন করে এবং আত্মসমর্পণ করে, তবে আমেরিকা সেই দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন- Global Diesel Prices Surge: বাহরাইনের সর্ববৃহত্ তেল শোধনাগার BAPCO-য় মিসাইল হামলা, হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম...
শান্তির আশা যখন ক্ষীণ, ঠিক তখনই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, এই যুদ্ধের ‘সবচেয়ে বড় বোমাবর্ষণ’ এখনো বাকি। আমেরিকা ও ইজরায়েলের লক্ষ্য কেবল ইরানের সামরিক ঘাঁটি নয়, বরং সেদেশের পরমাণু কর্মসূচি এবং নেতৃত্বকেও উপড়ে ফেলা।
যদিও প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে মিসাইল হামলার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, কিন্তু আমেরিকার কাছে মাথানত করতে তিনি নারাজ। পেজেশকিয়ান হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, "ইরানি জনগণের আত্মসমর্পণের ইচ্ছা নিয়ে শত্রুরা যেন কবরে যায়।" অর্থাৎ, ক্ষমা চাইলেও আত্মরক্ষার প্রশ্নে ইরান একচুলও ছাড় দেবে না।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)