)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এক মার্কিন সাংবাদিক (An American journalist) রবিবার শুল্ক-প্রশ্নে ভারতের (India) ভূয়সী প্রশংসা করলেন। তিনি ভারতকে 'দ্য বিগ বয়' (India big boy) বলে উল্লেখ করেছেন তাঁর বক্তব্যে। তিনি বলছেন, আমেরিকা মোটেই বিগ বসের মতো আচরণ করতে পারে না! শুল্ক নিয়ে ভারত-মার্কিন সংঘাতকে তিনি ক্যাটাক্সিসম মোমেন্ট (cataclysmic moment) বলে উল্লখে করেছেন। কে তিনি?
রিক সানচেজের চড়
সানচেজ আরও উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ আমেরিকান ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ পড়ছে। তিনি এই শুল্ক নীতিকে অযৌক্তিক বলেও মনে করেন। এই প্রসঙ্গে সানচেজ বলেন, 'এই নীতি ভারতের মতো শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য ভালো কিছু নয়।'
ঢালাও প্রশংসা
ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে মার্কিন সাংবাদিক রিক সানচেজ ভারতের ঢালাও প্রশংসা করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক রিক সানচেজ ভারতের প্রশংসায় বলেছেন, ভারতের নিজেদের তেল-নীতিতে অন্য কারো কথায় চলতে রাজি না হওয়ার যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন, তা রূতিমতো প্রশংসার। তিনি বলেছেন, ভারত বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, তারা এখন আর 'ছোট' নয়, বরং 'বড় দেশ', বড়দাদা।
সবার উপরে
মার্কিন সাংবাদিক রিক সানচেজ বলেছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক তেল-বাজারে তাদের গুরুত্ব বাড়িয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্যান্য বড় অর্থনৈতিক শক্তিকে বার্তা দিয়েছে যে, ভারত তার জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিচ্ছে, দেবেও। সানচেজ মনে করেন, এই ধরনের নীতি বিশ্বে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
গোড়ায় গলদ
এদিকে মার্কিনি আদালত পরিষ্কার করে জানিয়ে দিল, মার্কিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিভিন্ন মানের শুল্ক বিভিন্ন দেশের উপর চাপিয়েছেন, তা ঠিক নয়। এই শুল্কনীতির জেরে আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়েও তাহলে নতুন করে ভাবতে হবে কি? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক চাপিয়েছেন, তাকে স্পষ্ট বেআইনি বলে দাগিয়ে দিল মার্কিন আপিল আদালত। তবে এখনই সেই শুল্ক বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সুপ্রিম কোর্টে এই শুল্ক নিয়ে লড়াই করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকার আপিল আদালতে
আমেরিকার আপিল আদালতের তরফে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক চাপাতে ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার বা জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী অক্টোবরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত সমস্ত দেশেই কার্যকর থাকবে মার্কিন শুল্ক। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন। আর ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন যে, শুল্ক-লড়াই লড়তে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।
যা-খুশি-তাই
শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প আসলে নিজের মর্জিমতো যা-খুশি-তাই করে গিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনও দেশের উপরে ১২ শতাংশ, কোনও দেশের উপরে ৩১ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন। ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ! কিন্তু, কেন এরকম? সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছেই। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের এই শুল্ক-স্বেচ্ছাচারিতাকে মান্যতা দিতে চাইছে না মার্কিন আদালতই। শুক্রবার (৩০ অগাস্ট) মার্কিন আপিল আদালত রায় দেয়, বিশ্ব বাণিজ্যের উপর প্রভাব ফেলেছে এমন অনেক শুল্কই বেআইনি। যদিও আপাতত সেগুলি বহাল রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করার জন্য সময়ও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের জবাব
মার্কিন আদালতের এই রায়ে অবশ্য দমেননি ট্রাম্প! তিনি এর প্রতিক্রিয়া দিয়ে নিজের সোশ্যাল মাধ্যম প্লাটফর্মে লিখেছেন, সমস্ত ট্য়ারিফ কার্যকর রয়েছে! অনায্যভাবে আপিল আদালত আমাদের ট্যারিফ সরানোর কথা বলেছে, কিন্তু তারাও জানেন যে, শেষ পর্যন্ত আমেরিকাই জিতবে। যদি এই ট্যারিফ তুলে নেওয়া হয়, তবে দেশের পক্ষে তা এক মহা বিপর্যয়ের মতো অবস্থা হবে। এই সিদ্ধান্ত আমাদের আর্থিকভাবে অনেক দুর্বল করে দেবে। এর সঙ্গেই ট্রাম্প যোগ করেন, আমেরিকা বিপুল বাণিজ্যঘাটতি আর বরদাস্ত করবে না। অন্য দেশের চাপানো অনায্য শুল্ক সে মানবে না। বিনা শুল্কে বাণিজ্যের নিয়ম সে মানবে না। যদি তাদের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তা আমেরিকাকে ধ্বংস করে দেবে! তাঁর যুক্তি, আমেরিকার কর্মী, বিভিন্ন দেশীয় সংস্থা, যারা 'মেড ইন আমেরিকা' পণ্য তৈরি করে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই শুল্কই হল সব চেয়ে ভাল উপায়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)