জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (U.S. President Donald Trump) ভারতের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক যথেষ্ট ভালো বলে উল্লেখ (America gets along with India very well) করেছেন সম্প্রতি। এর পরই হাউইয়ের মতো একটা প্রত্যাশা সকলের মনে জেগে উঠেছিল, তবে কি মার্কিন সরকার ভারতের ঘাড় থেকে সরিয়ে নিচ্ছে শুল্কগুঁতো (US Tariffs)? ট্রাম্প তাঁর বক্তব্য বলে যান। বলেন, 'তবে'...। এর পরই ঢোঁক গিলে পরবর্তী প্রসঙ্গে এসেছেন ট্রাম্প। আসস কথাটা খোলসা করে বলেছেন। কী বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন: Shani Transit 2025: ৩ দশক পরে ৩ রাশির উপর ঝরতে চলেছে শনির অপার কৃপা! এক বিরল গোল্ডেন টাইমের মধ্যে দিয়ে যাবেন এঁরা...
উঠে যাচ্ছে শুল্ক?
হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক বৈঠকের সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, 'আপনি কি ভারতের উপর থেকে শুল্ক সরিয়ে দেবেন?' খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ এই প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণই আছে। কিন্তু...।' ট্রাম্প বলে বলেন, 'আপনাকে বুঝতে হবে যে, বহু বছর ধরে এই সম্পর্কটা একতরফা ছিল। মানে, ভারত আমাদের উপর একতরফা ট্যাক্স চাপিয়ে গিয়েছে। কিন্তু যখন থেকে আমি এসেছি, আমি বিষয়টা ভেবেছি, কেননা, শুল্ক নিয়ে সেই ক্ষমতা আমাদের আছে।'
ভারতের রমরমা
ট্রাম্প বলতে থাকেন, 'ভারত আমাদের উপর ব্যাপক পরিমাণে শুল্ক চাপিয়ে এসেছে। বিশ্বের প্রায় সর্বোচ্চ। ওরা ১ নম্বরে আছে। তাই আমরা ওদের সঙ্গে তেমন বেশি ব্যবসা করতে পারছিলাম না। কিন্তু ওরা আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করে যাচ্ছিল। কারণ বোকার মতোই আমরা ওদের উপরে বেশি পরিমাণে শুল্ক চাপাতে যাচ্ছিলাম না। ওরা যা যা জিনিস তৈরি করে, তা ব্যাপক পরিমাণে আমাদের দেশে পাঠিয়ে দিত।'
আগের কথা
রিক সানচেজের ভারত-প্রশংসা
সম্প্রতি ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে মার্কিন সাংবাদিক রিক সানচেজ ভারতের ঢালাও প্রশংসা করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক রিক সানচেজ ভারতের প্রশংসায় বলেছেন, ভারত তাদের তেল-নীতিতে অন্য কারো কথায় চলতে রাজি না হওয়ার যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন, তা রীতিমতো প্রশংসার। তিনি বলেছিলেন, ভারত বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, তারা এখন আর 'ছোট' নয়, বরং 'বড় দেশ', বড়দাদা। রিক সানচেজ আরও বলেছিলেন, ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক তেল-বাজারে তাদের গুরুত্ব বাড়িয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্যান্য বড় অর্থনৈতিক শক্তিকে বার্তা দিয়েছে যে, ভারত তার জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিচ্ছে, দেবেও। সানচেজ মনে করেন, এই ধরনের নীতি বিশ্বে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
আরও পড়ুন: Grandson Grandmother Romance: নাতির প্রেমে হাবুডুবু ঠাকুমা! বয়স-ব্যবধানকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে তোলপাড় প্রেমযাপন! ডেটিং, লিভ-ইন...
মার্কিনি আদালত বনাম মার্কিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ওদিকে মার্কিনি আদালত পরিষ্কার করে জানিয়ে দিল, মার্কিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিভিন্ন মানের শুল্ক বিভিন্ন দেশের উপর চাপিয়েছেন, তা ঠিক নয়। এই শুল্কনীতির জেরে আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়েও তাহলে নতুন করে ভাবতে হবে কি? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক চাপিয়েছেন, তাকে স্পষ্ট বেআইনি বলে দাগিয়ে দিল মার্কিন আপিল আদালত। তবে এখনই সেই শুল্ক বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সুপ্রিম কোর্টে এই শুল্ক নিয়ে লড়াই করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার আপিল আদালতের তরফে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক চাপাতে ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার বা জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী অক্টোবরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত সমস্ত দেশেই কার্যকর থাকবে মার্কিন শুল্ক। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন। আর ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন যে, শুল্ক-লড়াই লড়তে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)