)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ঘরে ঢুকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে এনেছে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক পাচারে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বন্দি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সোমবার ম্যানহাটান ফেডারেল আদালতে তোলা হয়। সেখানেই বড় দাবি করলেন বন্দি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।
মাদুরোর বড় দাবি
ম্যানহাটান ফেডারেল আদালতে বিচারক ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট জাজ আলভিন হেলারস্টেইন। মাদুরোর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারি জোয়েল পোলাক। উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের হয়ে মামলা লড়ার জন্য পরিচিতি রয়েছে এই ব্যারি জোয়েল পোলাকের। আদালতে দাঁড়িয়ে বন্দি নিকোলাস মাদুরো দাবি করেন, 'আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট। আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।' একইসঙ্গে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যে। তাঁরা নির্দোষ। আগামী ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানি।
আদালতে মাদুরো ও ফ্লোরেস, দুজনকেই কারাবন্দিদের পোশাকে হাজির করা হয়। মাদুরোর পায়ে ছিল বেড়িও পরানো ছিল। বিচারক হেলারস্টেইন মাদুরোকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে বললে মাদুরো বলেন, ‘আমি নিরপরাধ। আমি দোষী নই। আমি একজন ভদ্রমানুষ। আমি এখনও আমার দেশের প্রেসিডেন্ট। আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’ মাদুরোর স্ত্রী ফ্লোরেসও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পুরো শুনানির সময় কাগজে নোট নেন মাদুরো। সেগুলো নিজের কাছে রাখার জন্য তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন বিচারক হেলারস্টেইন।
ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা আক্রমণের কারণ
প্রসঙ্গত, গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় অতর্কিতে আকাশপথে হামলা চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিয়ে আসে মার্কিন ডেল্টা বাহিনী। মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী ফ্লোরেসকে বন্দি করে রাখা হয়েছে নিউইয়র্কের কুখ্যাত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে। সেখান থেকেই সোমবার তাঁদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যদিও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। তাদের মতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে বন্দি করার পিছনে আসল কারণ হল 'পেট্রো-ডলার' ব্যবস্থা সুরক্ষিত করা। ভেনেজুয়েলার তৈল সম্পদ দখল ও নিয়ন্ত্রণ করাই ট্রাম্পের উদ্দেশ্য। কারণ, কয়েক বছর আগে সম্পদ জাতীয়করণের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা আমেরিকার 'তেলের অধিকার' কেড়ে নিয়েছিল। ভেনেজুয়েলার সেই তৈল সম্পদের উপর আবারও মার্কিন কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান। উল্লেখ্য ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে আনার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনের লংঘনের অভিযোগে সমালোচনার মধ্যেই ফের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ফের হুমকি
ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা যদি তাদের জ্বালানি তেল খাত উন্মুক্ত করতে সহযোগিতা না করে এবং মাদক পাচার বন্ধ না করে, তাহলে আবার ভেনেজুয়েলায় হামলা হবে। উল্লেখ্য, শনিবারের মার্কিনি হামলায় ৮০ জন নিহত হয়েছে বলে খবর। ট্রাম্পের হুমকির পর চাপের মুখে সোমবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দুই দেশের উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলায় আমন্ত্রণ জানানোর কথা বলেছেন দেলসি।
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন হামলার নিন্দা
ওদিকে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার আইনি বৈধতা ও এর ফলাফল নিয়ে সোমবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেরও বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল রেইনাল্ডো মনকাদা আকস্তা কারাকাসে মার্কিনি হামলাকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে তিনি জাতিসংঘ সনদের চরম লংঘন বলেও উল্লেখ করেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)