Who is Ali-Larijani in Iran-Israel War: ওরা এমন আঘাত দেখবে এবার, যা আগে কখনও দেখেনি: আলি লারজানি-- চিনে নিন আমেরিকার দূতাবাসে হামলার পিছনে থাকা ইরানের সেই দুঁদে মাথাকে...

Iran-Israel war Update: লারিজানির এই হুঙ্কার এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান কেবল আত্মরক্ষাই করবে না,বরং মার্কিন স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর বড় ধরনের পাল্টা হামলা (Retaliation) চালাবে।

নবনীতা সরকার | Updated By: Mar 3, 2026, 09:45 PM IST
Who is Ali-Larijani in Iran-Israel War: ওরা এমন আঘাত দেখবে এবার, যা আগে কখনও দেখেনি: আলি লারজানি-- চিনে নিন আমেরিকার দূতাবাসে হামলার পিছনে থাকা ইরানের সেই দুঁদে মাথাকে...

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এখন আর কেবল সীমান্ত সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ভয়াবহ আঞ্চলিক ও বিশ্ব সঙ্কটের দিকে মোড় নিয়েছে। গত শনিবার (১ মার্চ, ২০২৬) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ও নজিরবিহীন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আল খামেইনির মৃত্যুর পর ইরান  চরম নেতৃত্ব সঙ্কটের মুখে পড়েছে। এই চরম উত্তেজনার মুহূর্তে ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন ও প্রভাবশালী চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন আলি লারিজানি।

Add Zee News as a Preferred Source

কে এই আলি লারিজানি?

আলি লারিজানি (৬৭) ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক অতি পরিচিত ও দক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা কেবল একজন রাজনীতিবিদের নয়, বরং সঙ্কটে থাকা একটি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কান্ডারি হিসেবে। 

১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে এক বিশিষ্ট আলেম পরিবারে জন্ম-- লারিজানি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় (২০০৮-২০২০) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (SNSC)-এর সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এই সংস্থা-- প্রতিরক্ষা এবং পারমাণবিক কৌশলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক।

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর লারিজানির সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'আমেরিকা ইরানের মানুষের হৃদয়ে আঘাত করেছে, অচিরেই তাদের হৃদয়েও আঘাত করা হবে।' তিনি আরও বলেন,ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এমন শক্তি প্রদর্শন করবে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

লারিজানির এই হুঙ্কার এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান কেবল আত্মরক্ষাই করবে না,বরং মার্কিন স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর বড় ধরনের পাল্টা হামলা (Retaliation) চালাবে। ইতোমধ্যেই রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা এবং কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ হওয়াকে লারিজানির এই রণকৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

ক্রান্তিকালে লারিজানির উত্থান

আয়াতোল্লাহ খামেইনির মৃত্যুর পর ইরানের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠনের ঘোষণা করেছেন লারিজানি। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য নিয়ে এই পরিষদ গঠিত হয়েছে। যদিও লারিজানি নিজে এই পরিষদের আনুষ্ঠানিক প্রধান নন, তবে পর্দার আড়ালে তিনিই এখন ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, খামেইনির মৃত্যুর ঠিক কয়েকদিন আগে তাঁকে বিশেষ কৌশলী উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। পেন্টাগন এবং মোসাদের একের পর এক হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন প্রায় নিশ্চিহ্ন,তখন লারিজানিই সেই ব্যক্তি যিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন।

একজন প্রাজ্ঞ ও কৌশলী রাজনীতিবিদ

আলি লারিজানি কেবল একজন কট্টরপন্থী নেতাই নন, তিনি দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রিধারী একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি। তাঁর রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি প্রয়োজনে যেমন কঠোর হতে পারেন, তেমনি প্রয়োজনে কূটনীতির টেবিলে অত্যন্ত ধীরস্থির ও হিসেবি। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির (JCPOA) সময় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। এমনকি গত মাসেও তিনি ওমানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর এই ‘নরম’ ভাবমূর্তি পুরোপুরি উধাও। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির মুখে লারিজানি এখন ইরানি জাতীয়তাবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর মতে, 'ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছেন এবং এখন তিনি মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ভয় পাচ্ছেন।'

লারিজানির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

আলি লারিজানির সামনে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে:

১. অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা: জানুয়ারিতে ইরানে যে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা লারিজানি অত্যন্ত কঠোরভাবে দমন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ কারণে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বর্তমান অস্থিরতার সুযোগে আবারও সেই বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২. ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবিলা: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সীমাবদ্ধ শক্তির মধ্যেও লারিজানিকে পাল্টা আঘাতের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।

৩. নেতৃত্বের উত্তরসূরি নির্ধারণ: সর্বোচ্চ নেতার পদটি শূন্য হওয়ায় নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি লারিজানিকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে দেশ ভেঙে না পড়ে।

ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ কেবল সামরিক শক্তির লড়াই নয়, এটি এখন অস্তিত্বের লড়াই। আলি লারিজানি এই মুহূর্তে ইরানের সেই মুখ, যিনি এক হাতে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছেন এবং অন্য হাতে দেশের প্রশাসনকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার চেষ্টা করছেন। 

ট্রাম্প যেখানে এই যুদ্ধকে এক মাস বা তার বেশি চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, লারিজানি সেখানে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লারিজানির পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করে দেবে মধ্যপ্রাচ্য কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোবে, নাকি কোনও কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছবে।

আরও পড়ুন: US-Israel-Iran war impact on India Explainer: ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধ ভয়ংকর আকার নিয়েছে-- ভারতের ওপর এর প্রভাব ও ৫টি প্রধান সংকট কী কী হতে চলেছে জেনে নিন...

আরও পড়ুন: Iran Israel War: ড্রোন-ই দ্রোণাচার্য, সস্তা আঘাতে চাপে আমেরিকা-ইসরায়েল... লম্বা লড়াইয়ে কি এগিয়ে ইরান? 

 

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)

About the Author

Nabanita Sarkar

সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদাতা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা। আইন-আদালত থেকে বিনোদন, দেশ থেকে দুনিয়ার হরেক খবরে শেখার চেষ্টা অবিরাম...

...Read More

.