)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মৃত বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চ-এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভয়ংকর রূপ নেয় বাংলাদেশ। দিকে দিকে বিক্ষোভ, আগুন। ছাত্র ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে বিক্ষোভ করতে। ভারতীয় হাই-কমিশনে জঙ্গি হামলা করা হয়। ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান। কার জন্য এই তাণ্ডব? কে এই ওসমান হাদি?
প্রথমে জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে আহত হন ওসমান হাদি?
গত শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকার কালভার্ট রোডে অটো রিকশায় যাওয়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁকে মাথায় গুলি করে। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। এর পরে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
সিঙ্গাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়:
সিঙ্গাপুরের MFA ঘোষণা করে যে, চিকিৎসকদের সাধ্যমতো চেষ্টা সত্ত্বেও হাদিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
হাদির পরিচয়:
২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে ছাত্র আন্দোলন ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়, তার অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল ইনকিলাব মঞ্চ। 'জুলাই আন্দোলন'এর প্রধান নেতা ছিলেন এই ওসমান হাদি। এই আন্দোলন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ডেকে আনে।
রাজনৈতিক মঞ্চ: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হিসেবে হাদি আওয়ামী লীগ এবং ভারতপন্থী রাজনীতির তীব্র বিরোধী ছিলেন। যদিও ইনকিলাব মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হলেও ওসমান হাদি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি।
নির্বাচনী প্রার্থী: হাদি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচনের জন্য ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। ঢাকার রাজপথে তাঁর প্রচার শুরু হয়েছিল-ছোট সভা, পথসভা, নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপই ছিল তাঁর রাজনৈতিক কৌশল।
বিতর্কিত উচ্চতা: হাদি তাঁর আগ্রাসী জাতীয়তাবাদের জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর দল আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
ইউনূসের শোকপ্রকাশ:
হাদির মৃত্যুর পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস শোকপ্রকাশ করেন। তিনি জনগণকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং অপপ্রচার ও গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন তিনি। ওসমান হাদির মৃত্যুতে আগামীকাল শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশে। হাদির মৃত্যুতে ইউনূস তাঁকে 'স্বাধীনতার সংগ্রামী' হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন।
বিক্ষোভ: রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড়ে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে স্লোগান দিতে থাকে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে। জনতা তাণ্ডব চালায়, প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের মতো প্রধান দৈনিক পত্রিকার অফিসে, পাশাপাশি রাজশাহী শহরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি অফিসে আক্রমণ করে।
ভারতবিরোধী বিক্ষোভ: বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছিল যে খুনিরা 'পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির' সঙ্গে যুক্ত ছিল যারা ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল, যার ফলে ভারতীয় হাই কমিশনের বাইরে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)