)
প্রমোদ মল্লিক: সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করে ফেলেছে পাকিস্তান। এই চুক্তিই কি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বদলে দিতে চলেছে? এই একটা চুক্তিই কি ইসলায়েলের সঙ্গে পকিস্তানের সম্পর্ক আরও মারাত্মক করে দেবে? তার থেকেও বড় প্রশ্ন, এবার কি এই চুক্তির আওতায় সৌদিকে পরমাণু বোমা সরবারহ করবে পাকিস্তান? আমেরিকা কি তা মেনে নেবে?
ইসরায়েল কখনওই চাইবে না যে পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশের হাতে পরমাণু বোমা তুলে দিক। ফলে ইরানকে যে ভাবে আক্রমণ করে নাস্তানাবুদ করেছে সেভাবেই কি এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধ পদক্ষেপ করবে ইসরায়েল? এই প্রশ্নও উঠছে।
চুক্তি হওয়ার পর পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী যা বলেছেন তা বিশ্ব রাজনীতিতে যথেষ্ঠই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, প্রয়োজন হলে সৌদিকে পরমাণু অস্ত্রও দেওয়া হবে। জিও টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষতকারে আসিফ বলেন, 'পাকিস্তানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিতে চাই। আমরা অনেক আগেই পরমাণু ক্ষমতাধর হয়েছি। তার পর থেকে আমরা আমাদের সেনাকে পরমাণু যুদ্ধের জন্য তৈরি করেছি। সৌদির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আমাদের যে ক্ষমতা রয়েছে তা সৌদিকে দেওয়াও হতে পারে।'
চুক্তির পর এবার কি সৌদি পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচিতে টাকা ঢালবে? পাক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী পাকিস্তানের সঙ্গে বহুদিন ধরেই প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কাজকর্মে জড়িত সৌদি আরব। সম্প্রতি পাকিস্তানের এক প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফিরোজ হাসান খান বলেছেন, রিয়াধের কাছ থেকে পাকিস্তানের কাছে অনেক সাহায্য এসেছে যার জেরে পাকিস্তান তার পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পেরেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ২৮ মে প্রথম পরমাণু পরীক্ষা করে পকিস্তান। ওই দিন মোট ৫টি পরমাণু বোমা পরীক্ষা করা হয়ে। ঠিক তার একদিন পরেই ফের একটি পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায় পাকিস্তান। প্রথমবার বালোচিস্তানে এবং দ্বিতীয়বার কাহরানে।
এখন পকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের এই মাখামাখি স্বাভাবতই ভালোভাবে নেবে না ইসরায়েল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি কাতারে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তার পরই পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করছে সৌদি আরব। এখন তাদের কানের পাশে কোনও দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকবে তা মেনে নেবে না ইসরায়েল। তাহলে কী করবে ইসরায়েল? তারা কি এবার সৌদিতে বোমা ফেলবে? ইসরায়েলি কমান্ডোরা কি এবার পাকিস্তানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে চোরাগোপ্তা হামালা চালাবে? কোনও কোনও মহল থেকে বলা হয় ১৯৮৮ সালে ভারততে ইসরায়েল আবেদন করেছিল যাতে তাদের বিমানগুলি ভারতে জ্বালানী ভরতে পারে। তার উপরে নির্ভর করেই তারা পাকিস্তানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতে হামলা চালাবে। ভারত সেই আবেদন প্রত্যাখান করেছিল। কিন্তু তার পরে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের মধ্যে অনেক জল গড়িয়েছে। এবার কি হবে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)