)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এবার খেলা ঘুরছে চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের (Chinese President Xi Jinping) ভারতকে লেখা গোপন চিঠিত (secret letter to India)? সে যাই হোক, এদিকে খোদ নিজের দেশেই ঘোর প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)! ভারতের (India) উপর বিপুল শুল্ক চাপিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)! অন্য দেশের পণ্যেও রয়েছে এই শুল্কবোঝা। তবে, তা ভিন্ন। কিন্তু কেন?
জিন পিংয়ের চিঠি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছরের শুরুতে চিনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বাড়িয়েছেন। এরপরই চিন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা শুরু করেন বলে সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এতে বলা হয়, চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিন পিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছিলেন।
চিনের স্বার্থের ক্ষতি
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চিঠির আসল উদ্দেশ্যই ছিল চিনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন ভাবে গড়ে তুলতে ভারত আদৌ আগ্রহী কি না, তা বোঝা। চিঠিটি রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কাছে পাঠানো হলেও তা দ্রুতই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পৌঁছে যায়। জি জিন পিং ওই চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কোনো চুক্তি হলে তা চিনের স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে। এরপর গত জুনে যখন ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চলছিল তখন থেকেই মোদী সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করে। আর ওই একই সময়ে ট্রাম্প দাবি করেন, পহেলগাঁও-হামলার পরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে-সংঘাত, তা বন্ধ করতে তিনিই সদর্থক ভূমিকা নিয়েছেন!
কাছাকাছি চিন-ভারত
ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বিরক্ত হয়ে ভারত ও চিন সিদ্ধান্ত নেয়, ২০২০ সালের সীমান্তসংঘাত ভুলে আলোচনার গতি বাড়াবে এবং পুরনো সীমান্তবিরোধ মেটাতে তারা নতুন করে কথাবার্তা শুরু করবে। এর পরই দুই দেশের সম্পর্কে উন্নতির লক্ষণ দেখা যায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারত-চিন সরাসরি যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু হচ্ছে। ভারতে ইউরিয়া রফতানির ক্ষেত্রে চিন ছাড় দিয়েছে। ভারত চিনা নাগরিকদের জন্য আবার পর্যটনভিসা চালু করেছে, যা কয়েক বছর ধরে বন্ধ ছিল।
'হাতি আর ড্রাগন একসঙ্গে নাচবে'
এতে বলা হয়, এ সম্পর্কের নতুন সূচনা হয়েছিল ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণেই। তিনি আসলে চিনকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন, পরে ভারতকেও চাপ দেন। গত মার্চে ট্রাম্প চিনাপণ্যে দ্বিগুণ শুল্ক বসানোর পর চিন ভারতের প্রতি আহ্বান জানায় যে, আধিপত্যবাদ ও ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে এসে এবার একসঙ্গে দাঁড়ানো যাক! জি জিন পিং বলেন, 'হাতি (ভারত) আর ড্রাগন (চিন) একসঙ্গে নাচবে-- এটাই একমাত্র সঠিক পথ!'
সংকটে ট্রাম্প
এদিকে আদালতে করা এক মামলার সূত্রে মার্কিনি আদালত পরিষ্কার করে জানিয়ে দিল, মার্কিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিভিন্ন মানের শুল্ক বিভিন্ন দেশের উপর চাপিয়েছেন, তা ঠিক নয়। এই শুল্কনীতির জেরে আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়েও তাহলে নতুন করে ভাবতে হবে কি? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক চাপিয়েছেন, তাকে স্পষ্ট বেআইনি বলে দাগিয়ে দিল মার্কিন আপিল আদালত। তবে এখনই সেই শুল্ক বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সুপ্রিম কোর্টে এই শুল্ক নিয়ে লড়াই করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকার আদালতে
আমেরিকার আপিল আদালতের তরফে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক চাপাতে ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার বা জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী অক্টোবরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত সমস্ত দেশেই কার্যকর থাকবে মার্কিন শুল্ক। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন। আর ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন যে, শুল্ক-লড়াই লড়তে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।
যা-ইচ্ছে-তাই
শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প আসলে নিজের মর্জিমতো যা-খুশি-তাই করে গিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনও দেশের উপরে ১২ শতাংশ, কোনও দেশের উপরে ৩১ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন। ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ! কিন্তু, কেন এরকম? সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছেই। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের এই শুল্ক-স্বেচ্ছাচারিতাকে মান্যতা দিতে চাইছে না মার্কিন আদালতই। শুক্রবার (৩০ অগাস্ট) মার্কিন আপিল আদালত রায় দেয়, বিশ্ব বাণিজ্যের উপর প্রভাব ফেলেছে এমন অনেক শুল্কই বেআইনি। যদিও আপাতত সেগুলি বহাল রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করার জন্য সময়ও দেওয়া হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)