নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যজুড়ে ১২ দিনের জাঠার পর ১৩তম দিনে কলকাতায় বামেদের মহামিছিলে সাড়া দিল মহিলা, ছাত্র-যুবরা। গ্রামের মানুষ তো বটেই লাল ঝাণ্ডার মিছিলে আজ নজর কেড়েছে মহিলা এবং যুবদের উপস্থিতি। নবান্ন অভিযানের দীর্ঘ সময় পর লাল পতাকার মিছিলে এমন আশানুরূপ জমায়েতকে কাজেও লাগালেন নেতৃত্ব। ভরা সভায় বিমান বসু চড়া সুরে বললেন, "গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ আসলে শুধু ফোঁস করলে হবে না, আক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে"।


COMMERCIAL BREAK
SCROLL TO CONTINUE READING

আরও পড়ুন- ঋতব্রতকে আগাম জামিন দিল বালুরঘাট আদালত 


একই সঙ্গে বাংলার সংস্কৃতি বিনাশের জন্য তৃণমূল সরকারকে দুষে বর্ষীয়ান বাম নেতা বলেন, "সামাজিক সম্পর্ক, সংস্কৃতি ধ্বংস করেছে তৃণমূল সরকার। বেলেল্লাপনার বিরুদ্ধে লড়াই করে আদিম ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে"।  


আরও পড়ুন- ঋত, এখনও ফিরে আসা যায়, প্রত্যয়ী 'ঘরে ফেরা' নেপালদেব


এদিন ডেঙ্গি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকাকে বিঁধতেও ছাড়েননি বাম নেতারা। 'ডেঙ্গি দিদির দয়া', মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর। শ্যামলের সুরে সুর মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন বিমান বসুও। সাংবাদিকদের বিমান বসু বলেন, "টিএমসি সরকার ডেঙ্গির কথা স্বীকার করছে না। এটা অমানবিক এবং অপরাধ। কত মানুষ মারা গিয়েছে, তার সঠিক তথ্য জানাচ্ছে না সরকার। রাজ্য সরকারের যা করা উচিত ছিল, তা করেনি টিএমসি সরকার।" উল্লেখ্য, আজ একই দিনে ডেঙ্গি নিয়ে রাজ্য সরকারের উদাসীন ভূমিকার প্রতিবাদে পথে নেমছে কংগ্রেসও। ওই মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।


আরও পড়ুন- নেতা নয়, এবার দলের বিরুদ্ধেই জিহাদ ঋতব্রত'র


মহাজতি সদনের মঞ্চ থেকে কেবল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগাই নয়, মানুষকে বামেদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন বাম নেতারা। একই সঙ্গে কর্মীদের উদ্দেশে রাজ্যের ৪০ হাজার গ্রাম, ১২৬টি পুরসভায় মানুষের সঙ্গে 'জীবন্ত সম্পর্ক' স্থাপনের নির্দেশও এসেছে মহামিছিলের মঞ্চ থেকে। 


আরও পড়ুন- ঋতব্রতর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ তরুণীর


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ঘাড়ে বিজেপির নিঃশ্বাস টের পেয়েই রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড গড়ার ডাক দিয়েছে বামেরা। সংগঠন গড়ে তোলা থেকে বুথ ভিত্তিক সংগঠনেও জোর দিচ্ছে লাল ঝাণ্ডা। গ্রামের মানুষের দাওয়া থেকে যে মিছিল আজ কলকাতার রাজপথে পা মিলিয়েছে সেই সমর্থনকে ইভিএম বন্দি করাই এখন লক্ষ্য। পঞ্চায়েতে ভাল ফল করতে পারলেই যে লোকসভা ভোট এবং বিধানসভা ভোটে তার প্রতিফলন দেখা যাবে তা স্পষ্ট বুঝেছেন বিমান বসু, সূর্য মিশ্র, ক্ষিতি গোস্বামীরা। আর সেই কারণেই কেবল কর্মীদের রিপোর্ট নয়, নিজেরা ময়দানে নেমে সংগঠন তৈরি করতে সচেষ্ট হয়েছেন নেতারা।