জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শুধু মানসিক নির্যাতনের “টার্গেট” নয়, যাদবপুরের ওই পড়ুয়াকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের 'বোড়ে' করতে চেয়েছিল অভিযুক্তরা। হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার ডায়েরির মধ্যে থাকা চিঠি থেকে মিলেছে তেমনই ইঙ্গিত। বাংলা বিভাগের এক ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে ডিনকে লেখা হয় সেই চিঠি। বাংলা বিভাগে অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাব রয়েছে। সেই প্রভাবই ভাঙতে মরিয়া ছিল সৌরভ চৌধুরী সহ অভিযুক্তরা।


COMMERCIAL BREAK
SCROLL TO CONTINUE READING

বাংলা বিভাগের পডুয়া ওই ছাত্রকে গেস্ট হিসাবে হস্টেলের থাকার ব্যবস্থা করার পরই ছক কষা হয়। ঘটনার দিন ওই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে ডিনকে চিঠি লেখার জন্য চাপ দিতে শুরু করে অভিযুক্তরা। কিন্তু কিছুতেই সেই চিঠি লিখতে রাজি ছিল না ওই ছাত্র। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে সে চিঠি লিখতে রাজি না হলে, পরে দীপশেখর সেই চিঠি লেখে। যে চিঠির নীচে ওই ছাত্রের নামে সই রয়েছে। তাঁকে দিয়ে জোর করে সেই সই করানো হয়। এমনটাই অনুমান তদন্তকারীদের। যদিও সইটা সত্যি-ই মৃত ছাত্র-ই করেছিল নাকি অন্য কেউ তার সইটাও নকল করে, সেটাও দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, যাদবপুরকাণ্ডে আজ পুননির্মাণ। হস্টেলের তিনতলায় সেদিন কী ঘটেছিল? কোথায় লেখা হয় চিঠি? কোথায় বিবস্ত্র করা হয় স্বপ্নদীপকে? কোথা থেকে পড়ে যায় ওই ছাত্র? সেই সব জানতেই আজ ঘটনার পুননির্মাণ করা হবে। ধৃত ৯ জন ছাত্রকে আলাদা আলাদা করে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুননির্মাণ করা হবে ঘটনার।


৯ আগস্ট হস্টেলের তিনতলা থেকে নীচে পড়ে যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া ওই ছাত্রের। তার পরদিন তার মৃত্যু হয়। সেই মৃত্যুর তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। ঘটনার পর প্রথম গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরীকে। এরপর গ্রেফতার করা হয় বর্তমান পড়ুয়া মনোতোষ ঘোষ ও দীপশেখর দত্তকে। তারপর আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। ধৃতদের মধ্যে ৩ জন প্রাক্তনী। আর ৩ জন বর্তমান পড়ুয়া। ধৃতরা হল মহম্মদ আসিফ, মহম্মদ আরিফ, অঙ্কন সরকার, অসিত সরদার, সুমন নস্কর ও সপ্তক কামিল্য়া। নতুন করে যে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা করা হয়েছে। সেই মামলাতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।


যাদবপুরের ছাত্রমৃত্যু ঘটনায় তোলপাড় সব মহল। কড়া পদক্ষেপ করেছে শিশু সুরক্ষা কমিশন। সুপ্রিম কোর্ট এবং ইউজিসি-র নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে শিশু সুরক্ষা কমিশন। প্রথম বর্ষের পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শোকজ করেছিল শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। সেই শোকজের উত্তরও দিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেই জবাবে অখুশি শিশু সুরক্ষা কমিশন। ফের উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। ওদিকে এই ঘটনায় রিপোর্ট তলব করে ইউজিসি-ও। প্রথম দফার রিপোর্ট সন্তোষজনক নয় বলে মত ইউজিসি-র। ইউজিসি-র তরফে ফের চিঠি পাঠানো হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। র‍্যাগিং ঠেকাতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, ১২টি পয়েন্টে তার তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে ইউজিসি।


আরও পড়ুন, Burdwan University: কড়াকড়ি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়েও, জারি একাধিক নিয়ম-নির্দেশিকা



(Zee 24 Ghanta App দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির লেটেস্ট খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Zee 24 Ghanta App)