ওয়েব ডেক্স : গতকালই একঝাঁক মন্ত্রীকে নিয়ে রাজ্যে দ্বিতীয়বারের জন্য মন্ত্রিসভা গঠন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিন কয়েক আগে থেকেই এই শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে থাকা রেডরোডে চলছিল সাজ সাজ রব। আর তারপরই হাজির হয় সেই মহেন্দ্রক্ষণ। মমতা টু সরকারের জন্য শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। হাজির ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম, দ্বিতীয় থেকে সব সারির নেতাকর্মীরা। ছিলেন দেশ-বিদেশের একঝাঁক নেতা-মন্ত্রী থেকে সেলেবরা। কিন্তু, এত কিছুর মাঝে কোথাও কি দুটি কাঁটা আটকে থাকল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়?


COMMERCIAL BREAK
SCROLL TO CONTINUE READING


এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে একাই ২১১ আসন জিতেছেন 'দিদি অ্যান্ড কোম্পানি।' গতকাল ছিল সেই মন্ত্রিসভারই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। হাজির ছিলেন দলের ২১১জন বিধায়ক ছাড়াও সাংসদ থেকে নেতা সকলেই। কিন্তু, অদ্ভূতভাবে সেই অনুষ্ঠানে গরহাজির দলের দুই হেভিওয়েট সাংসদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দীনেশ ত্রিবেদী। একজন তৃণমূল যুবার সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো। আর অন্যজন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।


নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকেই জেলায় জেলায় প্রচারে অভিষেক। প্রথম থেকেই তিনি ঘোষণা করে দেন রাজ্যে নির্বাচনে ভরাডুবি হবে বাম-কংগ্রেস জোটের। তবে, নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই কোথাও যেন দলের নীতি নিয়ে কিছুটা ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি। তবে তা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছুই বলতে শোনা যায়নি তাঁকে।


এদিকে, শপথগ্রহণের ঠিক আগের দিন ২৬মে হঠাত্‍ই ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লেখেন, "মরালিটি অফ প্রিন্সিপ্যালস ভার্সেস মরালিটি অফ লয়্যালটি।" তাঁর এই পোস্টটিকে ঘিরে বিতর্কের মাঝে, গতকাল শপথগ্রহণের অনুষ্ঠানে একটি হোর্ডিংকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। হোর্ডিংয়ে অভিষেককেই "ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ" বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, ফেসবুক পোস্ট আর তার মাঝে হোর্ডিং বিতর্ক দুই-ই নজরে এসেছে মমতার। গোটা বিষয়টি নিয়ে নিজেই খোঁজ নিচ্ছেন বলে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর।



এ তো গেল না হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কাঁটা। অন্যদিকে, রয়েছেন দীনেশ ত্রিবেদী। প্রথমে শোনা গিয়েছিল তিনি নাকি এবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রনই পাননি। যদিও, এর সত্যতা এখনও জানা যায়নি। কাল যদিওবা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এলেন, তবে দলের সঙ্গে বেশ খানিকটা 'দূরত্বেই' দেখা যায় তাঁকে। সেভাবে কোনও ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি 'দিদির দীনেশদা'-কে। তবে, দলের অন্দরে বেশ কয়েকবার নানা বিষয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এই সাংসদ। আর তার জেরে তাঁকে সাবধানও করা হয়।