নিজস্ব প্রতিবেদন- দমবন্ধ হয়ে আসছিল। আন্তরাত্মার কথা শুনলাম। কিছু করতে পারছি না যেখানে, সরে যাওয়াই ভাল...। কথাগুলো বলেই MP পদ ও তৃণমূল দল ছাড়ার ঘোষণা করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার তাঁর ইস্তফা-পর্ব নাটকীয় হল বটে! রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর মতো একজন সাংসদ যেভাবে ইস্তফা দিলেন, তা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে বিরল ছবি।  শুধু ইস্তফা দিয়েই ব্যাপারটা রফা হয়নি। বাংলায় রাজনৈতিক হিংসা মাত্রা ছাড়িয়েছে, বিভিন্ন মঞ্চ থেকে BJP-র তরফে এই দাবিকে যেন এদিন মান্যতা দিয়ে গেলেন দীনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)। তবে তাঁর ইস্তফার খবর পেয়েই তৃণমূল শিবির তাঁকে পাল্টা দিয়েছে। তৃণমূলের তরফে সুখেন্দু শেখর রায় বলেছেন, দীনেশ ত্রিবেদী আগেও দলকে ফাঁকি দিয়েছেন। দলবদল ওর মজ্জায়। সত্যিই কি তাই! এর আগেও কি বারবার রাজনৈতিক মতাদর্শ বদলেছেন দীনেশ! দেখে নেওয়া যাক তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথ-


COMMERCIAL BREAK
SCROLL TO CONTINUE READING

* আটের দশকে Congress-এ যোগ দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। বেশিদিন তিনি কংগ্রেসে থাকেননি। চলে যান জনতা দলে। এর পর সেই দল ছেড়ে আসেন তৃণমূলে। 


* নয়ের দশকের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের হাতে তৈরি TMC-র সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি। তৃণমূল সুপ্রিমো Mamata Banerjee-এর ঘনিষ্ঠ বলে রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি পেয়েছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। এমনকী নয়াদিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ হয়েছিলেন তিনিই। তবে দক্ষ সংগঠক হিসাবে তাঁকে কখনওই গণ্য করেনি তৃণমূল।


* তৃণমূলে দুদশকের বেশি সময়ের কেরিয়ার তাঁর। এই দীর্ঘ সময়ে দীনেশ ত্রিবেদী কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে, কখনও দূরে অবস্থান করেছেন। ২০১১ সালের ১৩ জুলাই রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি। ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রেল বাজেট পেশ করেন তিনি। সেবার রেল বাজেটে সব ধরনের ট্রেনে ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেন তিনি। সেই রেল বাজেট নিয়ে দলেই চাপের মুখে পড়েন দীনেশ। তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা না করেই বাড়াবৃদ্ধির সুপারিশ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাজেট পেশের ১৯ দিন পর রেলমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন দীনেশ ত্রিবেদী।


আরও পড়ুন-  'কর্পোরেটের হাতে দল এবং অ আ ক খ না জানা নেতা', TMC ছাড়ার ব্যাখ্যা Dinesh-র


* ২০১৪ সালে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয় পান দীনেশ ত্রিবেদী। ২০১৯ সালে বারাকপুরেই অর্জুন সিংয়ের কাছে হারেন। ২০২০-র ৩ এপ্রিল রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদ মনোনীত হন। অর্থাত্, সাংসদ পদ পাওয়ার পর ১০ মাসের মাথায় তিনি ইস্তফা দিলেন। 


* ১৯৭৪ সালে স্নাতক হওয়ার পর এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন দীনেশ ত্রিবেদী। দুবছর একটি সংস্থার হয়ে চিকাগোয় কাজ করেছিলেন তিনি। এর পর দেশে ফিরে অন্য একটি সংস্থার হয়ে কাজ শুরু করেন। ১৯৮৪ সালে চাকরি ছেড়ে কলকাতায় নিজের সংস্থা খোলেন তিনি।