ওয়েব ডেস্ক : ২০১৬-তে ছিল খেলাধুলোর দুর্দান্ত কিছু আসর। আর সেই আসরগুলোর দিকেই ছিল সবার নজর। খেলাধুলো মানে সেরা অবশ্যই অলিম্পিক। এবার অলিম্পিকের আসর বসেছিল ব্রাজিলের রিও শহরে। এ বছরই ছিল টি২০ বিশ্বকাপ। ছিল আইপিএল, ছিল আমেরিকার মাটিতে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট সিরিজ (হোক না টি২০ ম্যাচ)। আর অবশ্যই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ভারতের ক্রিকেট সিরিজ। ছোট্ট করে আলোচনা করে নেওয়া যাক এই পাঁচটি স্পোর্টস ইভেন্ট নিয়েই।


COMMERCIAL BREAK
SCROLL TO CONTINUE READING

১) অলিম্পিক - লন্ডন অলিম্পিকের পর এবার রিওতে অলিম্পিকের আসর আদৌ শুরু করা যাবে কিনা সেটাই ছিল কোটি টাকার প্রশ্ন। ব্রাজিল জুড়ে চলেছিল অনেক বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। সঙ্গে ভয় ছিল জিকা ভাইরাসেরও। কিন্তু সবকিছু নেগেটিভ চিন্তাকে জলাঞ্জলি দিয়ে অলিম্পিক শুধু শুরুই নয়, শেষও হল সুষ্ঠুভাবে! আশানুযায়ী অলিম্পিকের মঞ্চ কাঁপালেন মাইকেল ফেল্পস থেকে উসেইন বোল্টরা। খুব খারাপ ফল হল না ভারতেরও। লন্ডন অলিম্পিক থেকে হাফ ডজন পদক পেয়েছিলেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা। রিওতে এলো মাত্র দুটো। কিন্তু সেটাও বা কম কী! উঠে তো এলেন সিন্ধু, সাক্ষী, দীপারা। দেশের মেয়েরা নিজেরাই এগোচ্ছেন না শুধু, এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন গোটা দেশকেই। ২০১৬-র এই দিকটার কথা তো বলতেই হবে।


২) টি২০ বিশ্বকাপ - আলোচনা যেখান থেকেই শুরু করুন, শেষ করতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিয়েই। আরও পরিষ্কার করে বললে ব্রেথওয়েটকে দিয়ে। ভারত ফেভারিট হিসেবে শুরু করেও কাপ জিততে পারেনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে উঠে আসছে দ্রুত গতিতে। তবুও, সব ক্রিকেট সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করে নাকি টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলল ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালের খেলা প্রায় শেষ। সবাই যখন মহান অনিশ্চিয়তার খেলাতেও জয়ী ধরে ফেলেছেন ইংল্যান্ডকে, তখনই ক্রিকেট জগত পেল নতুন এক নায়ককে। কার্লোস ব্রেথওয়েট। শেষ ওভারে জেতার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ২২ রান। কম নয় মোটেও। বল হাতে ইংরেজ বোলার বেন স্টোকস। প্রথম চারটে বলেই পরপর ছক্কা হাঁকালেন ব্রেথওয়েট! জিতে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৬-র খেলাধুলোর কথা মনে করতে গেলে, ব্রেথওয়েটকে ভুলবেন কীভাবে!


৩) আইপিএল - বিশ্বের অনেক খেলাধুলোর প্রতিযোগিতাকে টেক্কা দিতে পারে আইপিএল। দেখতে দেখতে হয়েও গেল অনেকগুলো বছর। কিন্তু আইপিএলের জনপ্রিয়তা কমার এতটুকু আঁচ নেই। বরং, দিনকে দিন বাড়ছে। আরও ভালো ভালো ক্রিকেটার উঠে আসছেন ক্রিকেট আঙিনায়। এবারই প্রথম আইপিএল জিতল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। শহর হিসেবে ডেকানের হাত ধরে আগেই আইপিএল জেতার অভিজ্ঞতা ছিল হায়দরাবাদের। কিন্তু সানরাইজার্স যে অন্য দল। অন্য মালিক। গোটা প্রতিযোগিতায় অসাধারণ খেলেছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দুই ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি এবং এবি ডিভিলিয়ার্স। বিশেষ করে বিরাট কোহলি। কিন্তু ডেভিড ওয়ার্নার একটু অন্যরকম ক্যাপ্টেন। নিজের ভালো পারফরম্যান্স দিয়ে দলের সতীর্থদের অনেকটাই প্রভাবিত করতে পারেন। তাই ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। ক্যাপ্টেন ওয়ার্নার দিব্যি হাসতে হাসতে ২০১৬-র আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন করে গেলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে! মনে রেখে দিল, ক্রিকেটপ্রেমীরা!


৪) ভারত- ওয়েস্ট ইন্ডিজ আমেরিকায় - আমেরিকায় কোনও খেলার প্রচার না হলে নাকি গোটা বিশ্বে সেই খেলার জনপ্রিয়তা বাড়ে না! এমনটাই হয়ে আসছে। একটা সময় ফিফা কর্তারাও ফুটবলকে মার্কিন মুলুকে জনপ্রিয় করার জন্য কম চেষ্টা করেননি। পেলে থেকে বেকেনবাউয়ার, হালের বেকহ্যাম থেকে থিয়েরি অঁরি, সবাই আমেরিকায় ফুটবল খেলতে গিয়েছেন, শুধু সেদেশের ফুটবলকে জনপ্রিয় করার জন্য। তাহলে পিছিয়ে থাকবে কেন ক্রিকেটও! তাই এবার মার্কিন মুলুকেই দু-দুটো টি২০ ম্যাচ খেলে ফেলল ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ! একটি ম্যাচে অবশ্য মাত্র ১ রানে হারতে হয় মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে। তারই ফলস্বরূপ, সিরিজ আর জেতা হয় না ভারতের। তাতে কী! ক্রিকেট তো একটু একটু করে জমিয়ে বসার চেষ্টা করছে লিঙ্কনের দেশে। কারণ, কাজটা যে আগে শুরু করে দিয়েছেন, সচিন তেন্ডুলকর এবং শেন ওয়ার্নরাও!


৫) ভারত-নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট সিরিজ - নিউজিল্যান্ড কখনওই বড় দল নয়। ক্রিকেট আঙিনায় বড় কোনও প্রতিযোগিতায় তাদের সেভাবে জেতার নজির নেই। হলেই বা। নিউজিল্যান্ড প্রতিপক্ষ হিসেবে সবসময়ই বড় বড় দলগুলোর কাছে আতঙ্কের। এবারও তারা এসেছিল ভারতের মাটিতে বেশ শক্তিশালী দল নিয়েই। রস টেলর থেকে স্যান্টেনার। কিংবা সাউদি থেকে কেন উইলিয়ামসন, দলে একঝাঁক ভালো ক্রিকেটার। যদিও লাভ হয়নি বিশেষ। টেস্টে বিরাট কোহলি। একদিনের ক্রিকেটে মহেন্দ্র সিং ধোনি। দায়িত্ব নিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন কিউয়িদের যে, তোমরা ভালো। কিন্তু ক্রিকেটে ভারত, নিউজিল্যান্ডের থেকে একটু বেশিই ভালো।