নিজস্ব প্রতিবেদন: আবার সেই সিঙ্গুর (Singur)! যেদিন সিঙ্গুরে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), সেদিনই ফের দলের স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিলেন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ( Rabindranath Bhattacharjee )। 'সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই'-এর সাফ কথা, ' দলীয় নেতৃত্বের একাংশ সিঙ্গুরে বিভাজনের রাজনীতি করছে। এটা কোনওভাবে মেনে নেবেন না। আগামী দিনে দল ও মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) কী পদক্ষেপ করেন, তার উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত।'


COMMERCIAL BREAK
SCROLL TO CONTINUE READING

আরও পড়ুন: 'জমানত জব্দ করে ছাড়ব', পূর্বস্থলী থেকে Suvendu-কে ওপেন চ্যালেঞ্জ Sujata-র


উল্লেখ্য, সিঙ্গুরে ব্লক সভাপতি বদলকে কেন্দ্র করে বিড়ম্বনার সূত্রপাত। রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (Rabindranath Bhattacharjee) ঘনিষ্ঠ মহাদেব দাসকে সরিয়ে সভাপতি করা হয়েছে গোবিন্দ ধারাকে। তিনি আবার বেচারাম মান্নার (Becharam Manna) 'কাছের লোক' বলে পরিচিত। এরপরই ফুঁসে ওঠেন সিঙ্গুরের বিধায়ক। বলেন, 'এই রকম চললে আমাকে দল ছাড়ার কথা ভাবতে হবে। যেমন খুশি কমিটি বদল করে কাজের লোকেদের বাদ দেওয়া হচ্ছে।'  কিন্তু ঘটনা হল,  'মাস্টারমশাই'-এর আপত্তি ধোপে টেকেনি। গতকাল তৃণমূলের জেলা সভাপতি দিলীপ যাদবের কাছে সেই গোবিন্দা ধাড়াই সিঙ্গুরের ব্লক সভাপতি হিসেবে শংসাপত্র নিয়েছেন বলে খবর।


এদিন সিঙ্গুরে অনুগামীদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (Rabindranath Bhattacharjee)। তিনি বলেন, 'যুব সভাপতি, ছাত্র সংগঠনের সভাপতি-সহ কোন ক্ষেত্রেই আমার সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে না। এককভাবে কয়েকজন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অথচ জেলার অন্য ক্ষেত্রে সেখানকার বিধায়কদের মতামতকে গুরুত্ব গিয়ে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছে। সিঙ্গুরে ব্যতিক্রম ঘটছে।' বিধায়কের দাবি, 'এককভাবে একটি গোষ্ঠীর হাতে যদি ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়, তাহলে ফল কী হয়, তাও দেখেছি। সবক্ষেত্রেই নেগেটিভ হয়েছে। অথচ যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেখানে আমরা পরিপূর্ণ সফল হয়েছি।' এই প্রসঙ্গেও পঞ্চায়েত ভোট ও বিধানসভা ভোটে সিঙ্গুরের তৃণমূলের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য।


আরও পড়ুন: 'দিদির সঙ্গে ছিলাম, আছি, এবং থাকব', টুইট বার্তায় জল্পনায় ইতি টানলেন Jitendra Tewari


প্রকাশ্যেই সিঙ্গুরে তৃণমূলের নবনির্বাচিত ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, 'যেখানে মানুষ আছেন সংগঠনের সেই অংশের সঙ্গে যোগাযোগ না করে সাংগঠনিক রদবদল ঘটেছে। মাস দেড়েক আগে সূত্রপাত হয়েছিল। প্রতিবাদ করায় মাননীয় নেত্রী রুখে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই গোবিন্দ ধাড়াকেই সভাপতি করে আমাদের ঘাড়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গোবিন্দ ধাড়াকে কোনওভাবেই সিঙ্গুর ব্লকের সভাপতি হিসেবে মেনে নিতে পারছি না।' তাহলে কি দল ছাড়ছেন? সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের স্পষ্ট বার্তা, 'উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ জানাব। যদি প্রতিকার না হয়, তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।'