ওয়েব ডেস্ক: আপনি কি আমাদের বাজারে এত চিনা পন্য দেখে মনে মনে বিরক্ত? হাতের মোবাইল ফোনটাই হোক অথবা আপনার বাচ্চার খেলার পুতুল, সবই তো এখন চিন থেকে আসে। দামে কম। দেখতে আকর্ষণীয়। আর কিছুদিন কাজও চলে যায়। হলই বা কোনও গ্যারান্টি নেই। আজকাল তো মানুষের জীবনেরই গ্যারান্টি নেই। সেখানে আর অল্প টাকার পুতুল বা মোবাইল ফোন!


COMMERCIAL BREAK
SCROLL TO CONTINUE READING

এরপরেও যাঁরা আমাদের বাজারে চিনের এই সাম্রাজ্য বিস্তার করাটা মেনে নিতে পারছেন না, তাঁদের উদ্দেশ্য একটা তথ্য দেওয়া যাক। গত প্রায় ১৫ বছরে ১০ লক্ষ চিনা রাতিমতো ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে। কেউ জাম্বিয়া, কেউ সেনেগাল, কেউ বা কেনিয়া, কেউ আবার নাইজিরিয়ায়। কি চমকে উঠলেন তো! স্বাভাবিক। চিনা পন্যই সহ্য করতে পারছেন না, সেখানে ১০ লক্ষ চিনা একেবারে আফ্রিকা মহাদেশেই তাঁদের ঘর, বাড়ি, সংসার, ব্যবসা এবং সাম্রাজ্য বানিয়ে ফেলেছেন। এটা মেনে নেওয়া যায়!


১৯৯৬ সালে জিয়াং জেমিন চিনের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন FOCAC তৈরি করেছিলেন। মানে, ফোরাম অন চায়না আফ্রিকা কোঅপরেশন। চার বছর পরেই আফ্রিকার ৪৪টি দেশের নেতারা বেজিংয়ে একত্রিত হন। ৫ বিলিয়ন ফান্ডও তৈরি করা হয়। যা দিয়ে আফ্রিকার উন্নয়ন করা হবে। সেই শুরু। তারপর থেকে আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে চিনাদের বসবাস বেড়ে যেতে থাকে। দেশগুলো চিনের থেকে অর্থ ধার নিতেই থাকে। চিনারাও গিয়ে ব্যবসা শুরু করে।


আপাতত আফ্রিকার অনেক দেশই চিনের এই সাহায্যের নামে সাম্রাজ্য বিস্তার করাটা মেনে নিতে পারছেন না। মোজাম্বিক সরকারই যেমন, চিনাদের জমি দিচ্ছে। কিন্তু সারা জীবনের জন্য নয়। অল্প সময়ের জন্য। যদি সেই জমিতে থেকে ভালো কাজ করা যায়, তবেই সে দেশের সরকার দীর্ঘদিনের জন্য তাঁদের থাকতে দেবে। দু পক্ষের টানাপোড়েনটা জমে উঠেছে। এখন দেখার আজ কীভাবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়। চিনারা কোনও সময় আফ্রিকার উন্নতিতে অনেক সাহায্য করেছিল, নাকি আস্তে আস্তে গিলে ফেলেছিল গোটা আফ্রিকা মহাদেশটাই।