• print
  • Update: Update: January 4, 2013 15:23 IST
story-img লে রেপপ্লে গেম অন...

রেডি স্টার্ট। এক জিন্স-টিশার্ট পরা মাঝবয়সি মহিলার পেছনে ধাওয়া করছে কারসর। ল্যাপটপের সামনে সজাগ চোখ। কামনায় অবশ। মহিলার আর্ত-শীত্কার আরও বেশি উষ্ণতা ছড়াচ্ছে। পুরুষটি জিভের নাল ঢোঁক গিলে ফেলছে, আরও উত্তেজনার আশায়। ধাওয়া করে ধরা গেল সেই নারীকে। মাউসক্লিকের আক্রমণে নিমেষে বিবস্ত্র করা হল তাকে। আঙুলের টিপে নানান 'অ্যাভেলেবল অপশনে' প্রক্রিয়ায় ধর্ষণ করে চলল ক্রীড়ারত পুরুষ। শেষ হলে ধর্ষিতার দেহে স্প্রে করে দিল থকথকে সাদা সিমেন। এর পরের ধাপেই ছাড়পত্র মিলবে তার দুটি ফুটফুটে মেয়েকে ধর্ষণের। উল্লাস! এখানেই শেষ নয়, স্টেপ টু থ্রি পেরিয়ে যথেষ্ট পয়েন্ট সংগ্রহের পর, স্টেপ ফাইভে তুলতুলে নরম এক রাজকন্যেকে গণধর্ষণের পর্ব। সারা রাত কখন কোথা দিয়ে কেটে যাবে। উল্লসিত, পরিতৃপ্ত পুরুষ লগ আউট করে, দিব্যি হাত ঝেড়ে-ঝুড়ে ঘুমোতে চলে যাবেন...

গেমটা নাকি ব্যান করেছিল আর্জেন্টিনা সরকার। সেক্সুয়াল কন্টেন্ট অ্যান্ড ভ্যালোরাইজেশন অফ রেপ। মায় সেক্স সিটি থাইল্যান্ডেও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে এই গেমের সিডি। পুলিশ রেড করে আস্তাকুঁড়ে ফেলেছে। তবু এই পোড়া দেশে, দিল্লির রাস্তায়, যখন 'শয়ে 'শয়ে ছেলে-মেয়ে-বাবা-কাকা-দিদি-দাদারা মোমবাতি জ্বালিয়েছিলেন রাজভবনের সামনে, তখনই রমরম করে বিকোচ্ছিল এই ভিডিও গেমের সিল করা ডিভিডি। দিল্লির আর এক প্রান্তে। দেড় হাজার কা এক! ছি-ছি করে উঠলেন আবার? দোষের কী হল? আরে বাবা, স্বমেহনের জন্য এর চেয়ে ভাল বিকল্প আর আছে কি? থাকলে বলবেন। জানতে ইচ্ছা করি।

মোদ্দা কথা, আমরা গেমটা হেরে গেছি দাদা। সবংশে হেরে গেছি। ফেসবুকে ঘুরছে মৃত্যুমুখী সুন্দরীর মুখ। এ ঘুমোনো মেয়ে পৃথিবীর। এরে লয় শুষে- দেবতা, গন্ধর্ব, নাগ, পশু ও মানুষে। ততোধিক সুন্দর তার কোটরে বসে যাওয়া রক্তচোখ, পচে যাওয়া নাড়িভুঁড়ি, লোহার রডের আদরে বিকল হতে থাকা শরীরযন্ত্র। সারা দেশ জুড়ে এই অনাম্নী অঙ্গনার জন্য প্রতিবাদে সোচ্চার, বিদ্রোহে উত্তাল জনগণ। মোমবাতির নৈঃশব্দে সরব তারকারা। ধর্ষকের শাস্তি চাই। প্রকাশ্য রাস্তায় ফাঁসি চাই। ন্যাংটো করে প্যারেড করাতে চাই, ইঁট ছুড়ে ছুড়ে মারতে চাই, চাই চাই... পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের। এমন শাস্তি চাই যেন নিদর্শন হয়ে থাকে। ওই তো শুয়োরের বাচ্চারা... ওরাই তো রেপ করেছিল না? ধরে আন ব্যাটাদের। আইন আইনে থাকুক। আমরা ওদের জবাই করি। ওদের মধ্যে নাকি একটা নেহাত গোঁফ-ওঠা ছোকরা? তাতে কী... পুরুষ পুরুষ। ওদের অত শ্রেণিবিভাগ হয় না। নরম ছিদ্রে গাড়ির পার্টস ঢুকিয়ে মজা মারতে সবাই সমান। ভাবনা, রাগ, দুঃখ আর ঘেন্না মনের মধ্যে এমন কিলবিল করছে যে উগরে না দেওয়া অবধি স্বস্তি নেই। বড় দেরি হয়ে গেল কলম তুলতে। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালেই জীবনযুদ্ধ শেষ। থার্টিফার্স্ট নাইট পেরিয়ে নিউ ইয়ার এসে গিয়েছে। কাঁদো দেশ কাঁদো। কেঁদে তোমাদের আবেগের নদীতে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ডগুলো ফেলে দাও। ধর্ষণ আর হেডলাইন নেই। সাইডলাইনে চলে এসেছে। এক কলমে সেরে দেওয়া হয়েছে। ইস্যু বদলে গেছে। নেতায়-নেতায় ইয়ে হচ্ছে, জীবন বয়ে যাচ্ছে। ধর্ষিতারা পুলিসে কমপ্লেন করতে গিয়ে ফের হেনস্থা হচ্ছে। মেডিক্যাল টেস্টে ধর্ষণের কিচ্ছুটি প্রমাণ মিলছে না। গায়ে একটি আঁচড়ও দেখা যাচ্ছে না আতশকাঁচে। 'প্রেক্ষিত' পাল্টে যাচ্ছে, কিছুই ঠাহর করা যাচ্ছে না। এমনই শোকেসে সাজানো ঘটনা হয়ে যাচ্ছে... বাড়ির বাচ্চা প্লাস্টিকের ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে ধোনি-ধোনি খেলতে খেলতে মাকে শুধোচ্ছে, মা, মা ধর্ষণ কী করে খায়?

আমরা ঠারেঠেরে জানি, এদেশে প্ল্যাকার্ড-মোমবাতি-শোকমিছিল নেহাতই প্রতীকী-বইয়ে জায়গা পায়। ধর্ষণ বড় শাশ্বত, অনির্বার্য। ধর্ষিতা নারী সমাজের অ্যাসেট। ইতিহাসে সম্ভোগের আকর। বিজয়ী রাজার সম্পত্তি। দেশভাগের সময়ে ধর্ষ-পুতুল। সেনাবাহিনীর টাইমপাস। বিশ্বাস করুন ছাই না করুন, এই যুগেও ধর্ষিতা নারী আসলে বেশ উগ্র স্বাদবদল। সংবাদমাধ্যম, চায়ের কাপ, কলতলা থেকে ব্যবসার বাজার সবই কাঁপিয়ে দেয় কিছুদিনের জন্য। 'ব্যবসা' শব্দটা এমনি এমনি ইউজ করিনি দাদা। নমুনা চান, হালের ঘটনাই ধরুন। একটা ধর্ষণের কেস পেলে উকিল বর্তে যান। আইনের প্যাঁচে প্যাঁচে ওষ্ঠাগত হয় ধর্ষিতা। বছর বছর চলার পর নেহাতই আলুভাতে হয়ে যায়। চেন্নাইয়ে বছরদুয়েক আগে এক গণধর্ষণের শাস্তি ধরা হয়েছিল মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা! পকেট থেকে বের করেই খালাস। তার পরে ধরুন সংবাদমাধ্যম। তেমন জোরদার কোনও কেস পেলে অনায়াসে আট-দশ দিনের খাবার হয়ে যায়। ফিল্ডের সাংবাদিকদের শুখতলা ক্ষুইয়ে খবর খুজে বেড়াতে হয় না। চ্যানেলে চ্যানেলে আলোচনার টপিক ঠিক হয়ে যায়। সেলিব্রিটিরা মুখে মেকআপ নিয়ে, ধর্ষণের একাল-সেকাল বক্তৃতা দেন। রাজনীতিবিদরাও খানিক বলেন-টলেন। তার মধ্যেই বেসামাল কথাবার্তা নিয়ে আবার খবর হয়। ইউটিউব ভরে যায় মোবাইলে আঁখো-দেখি ভিডিয়োয়। চড়চড় করে বাড়তে থাকে ভিজিটরের সংখ্যা।

লিখতে লিখতেই মনে পড়ল, গত বছর জুলাই মাসে আমাদেরই চ্যানেলের এক নবীন সাংবাদিক একটা নিউজ ব্রেক করেছিলেন। গুড়াপের হোমে মানসিক ভারসাম্যহীন এক বারংবার ধর্ষিতা মহিলার পচা-গলা মরদেহ মাটি খুঁড়ে বের করা হয়েছিল। ন্যাশনাল নিউজ হয়েছিল সেটা। একই দিনে, এক পদকজয়ী মহিলা অ্যাথলিট মেডিক্যাল টেস্টে পুরুষ বলে 'প্রমাণিত' হয়ে সমাজের চোখে ধর্ষিতা হন। আর ওই দিনই, দেশের আর এক প্রান্তে এক ধর্ষিতা ও নিখোঁজ নর্তকীর কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল মাটি খুঁড়ে। হইহল্লার মধ্যে শুধু একটি কথাই মনে হয়েছিল আমার। ধর্ষণ এমনই এক সুতীব্র আকর্ষণ যা নারীর শুকনো খটখটে কঙ্কালকেও শুষে নিতে পারে! মহাভারতের পাতায় পড়েছি, একশতসহস্র বত্‍সরের স্নিগ্ধতার নির্যাসে না কি তৈরি হয় একজন নারী। তবে কেন কড়ে আঙুলের চেয়েও ছোট ভ্রূণ থাকা অবস্থাতেই চিত্রগুপ্তের খাতায় নাম ওঠে তার। ধনীর পুত্রসন্তানলোভ, দরিদ্রের কন্যাদায় আর মধ্যবিত্তের চাওয়া-না-চাওয়ার ত্রিশূল তাকে পৃথিবীর আলো দেখতেই দেয় না... কতটুকু সম্মানের অধিকারিণী সে!

এখনই এত অস্বস্তিতে পড়বেন না, আরও পার্থিব লেভেলে ভাবুন দেখি। ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে গেলে কাঁচি-আঠা-সেলোটেপ-আর্ট পেপারের বিজনেসও ধাঁ করে বেড়ে যায়। মোমবাতি বিক্রেতারাও হঠাত্ সুখের আলো দেখে। দেশ জুড়ে প্রতিবাদী জটলা-জমায়েতে রোডসাইড ধাবাগুলোরও বিক্রিবাটা হয়। টিভি চ্যানেলগুলোতেও কোন অদৃশ্য ঈশারায় কন্ডোমের আর বিদেশি তেলের অ্যাড বেড়ে যায়...

এই তো সেদিন, একটা ওষুধের দোকানে ওষুধ কিনতে গেছি। হঠাত্ একটা ব্যাপার দেখে হাসি চাপতে পারলাম না। দোকানের শোকেসে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত, কর্ণার টু কর্নার জাপান-থেকে-আনানো-ভারতীয়-ভেষজে-বানানো তেলের শিশি। দেখে কী বলব, কী ওষুধ কিনতে এসেছিলাম তার নামটাই ভুলে গেলাম! স্থান-কাল-পাত্র বিস্মৃত হয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম, এত তেল!! মুচকি হেসে দোকানদার বললেন, খুব ডিমান্ড দিদি। কন্ডোম আর কটা বিক্রি হয়... দাদু থেকে খোকাবাবু সবাই এটাই কিনছে...

অতএব পুরুষ, আপনাদের লিঙ্গ আরও লম্বা হোক... চলতে থাকুক রেপ-প্লে। আমরা নারীরা পাতালপ্রবেশ করি। ধর্ষণের লজ্জা থেকে বাঁচার অন্য উপায় তো দেখি না!

ফুলকলি

Post Your Comment

Total Comments:22

marattok lekha. bisesato- অতএব পুরুষ, আপনাদের লিঙ্গ আরও লম্বা হোক... চলতে থাকুক রেপ-প্লে। আমরা নারীরা পাতালপ্রবেশ করি। ei lekha ta sakoler pora uchit...........

tomar lekhagulo porle r kono kotha asena..sudhu chup kore thakte i66a kore...

er por jai boli chotoi mone hobe..karon, apni shudhu lekhen ni, apni amar samne darie kathagulo bolechen ja amake die bolachhe amio apnar motoi bhabi ba dekhi.. purush hole tar kichu dhoron thake, thik tai kapurush boleo akta sreni ache. karon-phal janina, aajkal spardha (unwanted courage) khub sohoj-lobho. tobe ei mithta amaderi bhangte hobe..joto bar toiri hobe..ontoto nijer locality-te amra shebhabei thakar chesta kori.. brihottoro bhabe ki kora jai, serokom jodi kono rasta thake..

ful koli apna k thanks. apni aro likben aro kintu ata bondo hoba na jatokhon na maya ra ulta raging suru korba ata colba.

অতএব পুরুষ, আপনাদের লিঙ্গ আরও লম্বা হোক... চলতে থাকুক রেপ-প্লে। আমরা নারীরা পাতালপ্রবেশ করি। ধর্ষণের লজ্জা থেকে বাঁচার অন্য উপায় তো দেখি না!

bhashata ektu sanjata haoa banchoniya chhilo jadio je krodh ta express kora hoyechhe tar sathe ami ekmat. ei patriarchal society te ei bhasha o panya hote pare jeman omg te lead character o bipanan er samagri hoye uthechhilo coma te thaka kalin

onek sathyi katha etho sahoj bhabe bola holo , kintu problem-er smadhan pelum na. pore bhalo laglo lekha-ta. romi.

``অতএব পুরুষ, আপনাদের লিঙ্গ আরও লম্বা হোক... চলতে থাকুক রেপ-প্লে``- পুরো তরবারি কলম তো নয় । আশা করি ভবিস্যতে আরও এরকম ধারালো লেখা পাবো ।

ami hayto apnar mato sajiye likhte parbo na.amar mato anekai apnar sange akmat.

aponar moto kichu mhilar janmo hai bole prithibi nijo pothe gurche nahole ulto dike gurto . dhonnobad tomay didi amar fulkoli .

you are great. i agree with you. your speech is very important.

you are great. i agree with you. your speech is very important.

you are great. i agree with you. your speech is very important.

you are great. i agree with you. your speech is very important.

dear 24 ghanta , amar akta choto nibadon ...........saltlake sector 5 , nayapatty te ,ki6u dasi moder thak acay , jodi doya kore , bondh korte , sahojo koren , ami khu khub khusi hobo .......ami sobai kei janiya6i , kintu ki6ui hoi ne , police , prashasan , sobai ghus khor , ager thake akon anak thak , gogia uta6e , amader saltlake nobodigonto ,

উপযোগী করেছি অনেক  মৌন মিছিল হাতে  নিয়ে  মোমবাতি । রাজনৈতিক ফায়দা তুলেছি জুটিয়ে  সঙ্গীসাথী ।। চেষ্ঠা করিনি বুঝতে  তবুও সমস্যা  গভীর কত । দিনে দিনে শুধু  চলেছে  বেড়েই  সমাজের বুকে  ক্ষত ।। মানুষ গুলো হারিয়েছে আজ সুস্থ মনের চাবি । ষড়  রীপুর অত্যাচারে খাচ্ছে সুধুই  খাবি ।। মান - হুঁশ সব দিয়েছে   বিকিয়ে , সঙ্গী   আসক্তি । মতের  অমিল হলে  পরেই দারুন বিরক্তি || আইন আদালত দেবে না পাল্টে সমাজের এই ক্ষয় । পাল্টাতে হবে আমাদের সব করে রীপু দের  জয় । ভাবছ এ সব বেকার কথা , তাহলে কি হব যোগী । হয়ে যাও তাই শুধু যোগী  নয় , হয়ে ওঠো উপযোগী ।।                   কবি - ভিমরুল , জানুয়ারী ২০১৩

fultus akghar masti....kintu atai ki civilisation?????????????????????????

101% correctly said.

yes..the bolg which is written here is correct...

kono kothai r bolte chai na lekha ta porar por, sotti vaba dorkar ontoto ekbar aynar samne dariye. lojjay matha noto hote baddho.

এই বিষয়ে দারুণ একটা ব্লগ পড়ুন eta holo sei ``darun blog``?? apnara to game tar prochar korlen. jodio koyekdin age kolkatar 1ti bangla paper ei gameti niye prochar korechhilo. ki kore eta niye ebhabe likhlen? apnader lojja kora uchit. 2006 er ei japan made game take koyekti dese ban kora hoyechhe. india teo ta kora hok.

bhasar kudrupi ar antlamo chhara................ei likha likhe samajer kono laav habe na........................e anekta pujo barsikir `adhunik` upanyas er mato.........nirlajjotamo bhadra lekhak.

staff-blog
একটি তিন পাতার ইন্টারভিউয়ের পর..

নতুন প্রফেশন। সাংবাদিকতায় সূর্যোদয়ে সবই আজব ঠেকে। অফিসে এইটুকু হয়ে থাকি। সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকের ট্যাঁশগরু আর ঢ্যাঁড়শদের দাবড়ানির চোটে। অফিস পার্টিতে গোটা টলিউডই হাজির। চুপচাপ একপাশে দাঁড়িয়ে আছি। সবে এমএ পাশ করে ইউনিভার্সিটি-সাম্রাজ্যের গন্ডি পেরিয়েছি। আমি এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থেকে প্রতিভার লিলিফুল হয়ে ফুটে থাকব, আমাকে সবাই চিনে নেবে। এই মোটো নিয়েই দাঁড়িয়ে আছি। এগিয়ে যাচ্ছি না কারুর দিকে। ঝকমকি ড্রেস-শাড়ি, পরচুলো আর ওয়াইন গ্লাসে-ভিজে ঠোঁট, কাঁচভাঙার-মতো-আওয়াজ-করা হাসির ভিড়ে দেখতে পেয়ে গেলাম পদ্মপাঁপড়ি-চোখ, টিয়াপাখি-নাক।

staff-blog
staff-blog
লে রেপপ্লে গেম অন...

মোদ্দা কথা, আমরা গেমটা হেরে গেছি দাদা। সবংশে হেরে গেছি। ফেসবুকে ঘুরছে মৃত্যুমুখী সুন্দরীর মুখ। এ ঘুমোনো মেয়ে পৃথিবীর। এরে লয় শুষে- দেবতা, গন্ধর্ব, নাগ, পশু ও মানুষে। ততোধিক সুন্দর তার কোটরে বসে যাওয়া রক্তচোখ, পচে যাওয়া নাড়িভুঁড়ি, লোহার রডের আদরে বিকল হতে থাকা শরীরযন্ত্র। সারা দেশ জুড়ে এই অনাম্নী অঙ্গনার জন্য প্রতিবাদে সোচ্চার, বিদ্রোহে উত্তাল জনগণ। মোমবাতির নৈঃশব্দে সরব তারকারা। ধর্ষকের শাস্তি চাই। প্রকাশ্য রাস্তায় ফাঁসি চাই। ন্যাংটো করে প্যারেড করাতে চাই, ইঁট ছুড়ে ছুড়ে মারতে চাই, চাই চাই... পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের। এমন শাস্তি চাই যেন নিদর্শন হয়ে থাকে। ওই তো শুয়োরের বাচ্চারা... ওরাই তো রেপ করেছিল না? ধরে আন ব্যাটাদের। আইন আইনে থাকুক। আমরা ওদের জবাই করি। ওদের মধ্যে নাকি একটা নেহাত গোঁফ-ওঠা ছোকরা? তাতে কী... পুরুষ পুরুষ। ওদের অত শ্রেণিবিভাগ হয় না। নরম ছিদ্রে গাড়ির পার্টস ঢুকিয়ে মজা মারতে সবাই সমান। ভাবনা, রাগ, দুঃখ আর ঘেন্না মনের মধ্যে এমন কিলবিল করছে যে উগরে না দেওয়া অবধি স্বস্তি নেই। বড় দেরি হয়ে গেল কলম তুলতে। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালেই জীবনযুদ্ধ শেষ। থার্টিফার্স্ট নাইট পেরিয়ে নিউ ইয়ার এসে গিয়েছে। কাঁদো দেশ কাঁদো। কেঁদে তোমাদের আবেগের নদীতে প্রতিবাদের প্ল্যাকার্ডগুলো ফেলে দাও। ধর্ষণ আর হেডলাইন নেই। সাইডলাইনে চলে এসেছে। এক কলমে সেরে দেওয়া হয়েছে। ইস্যু বদলে গেছে। নেতায়-নেতায় ইয়ে হচ্ছে, জীবন বয়ে যাচ্ছে। ধর্ষিতারা পুলিসে কমপ্লেন করতে গিয়ে ফের হেনস্থা হচ্ছে। মেডিক্যাল টেস্টে ধর্ষণের কিচ্ছুটি প্রমাণ মিলছে না। গায়ে একটি আঁচড়ও দেখা যাচ্ছে না আতশকাঁচে। 'প্রেক্ষিত' পাল্টে যাচ্ছে, কিছুই ঠাহর করা যাচ্ছে না। এমনই শোকেসে সাজানো ঘটনা হয়ে যাচ্ছে... বাড়ির বাচ্চা প্লাস্টিকের ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে ধোনি-ধোনি খেলতে খেলতে মাকে শুধোচ্ছে, মা, মা ধর্ষণ কী করে খায়?

staff-blog
staff-blog
১২১ নট আউট

সেদিনের উলট-পুরাণ সিনেমার মতো মনে আছে। আল্টিমেটলি সেই নায়িকা সেদিন অপেক্ষা করে ভোগ সার্ভ না করেই বাড়ি ফিরেছিলেন, তাঁকে ঘিরে মিডিয়া ছিল না বলে। আজ অবধি নিজের শহরে এত ইউনিটি দেখিনি। এখনও এখানে প্রেস কনফারেন্সে তারকাকে ঘিরে হুড়োহুড়ি আর এক্সক্লুসিভের জন্য এক কোণে পিআরের সঙ্গে পেয়ারের গুজগুজ ফিসফাস করা দেখলে সত্যিই আরও বেশি করে মনে পড়ে ঘটনাটা। বাইট-এর জন্য অবাস্তব খেয়োখেয়ি, প্রায় সারার্থহীন ইন্টারভিউয়ের জন্য এমন উল্লাস... এই আনতাবড়ি সাংবাদিকোচিত উন্মাদনাকে ক্যাচ করেই মিডলম্যানেরা দলে ভারী হয়ে গেল।

staff-blog
staff-blog
জন্নত মন্নত হন্যত

মুম্বইয়ের এন্টারটেনমেন্ট জার্নালিজমে একটা কাহাবত আছে, দমদার সাংবাদিক বলা হবে তখনই, যদি সে শাহরুখ খানের মন্নত-এ এন্ট্রি নিয়ে শাহরুখের ইন্টারভিউ নিয়ে আসেন। ইন শর্ট, মন্নতই সাংবাদিকদের জন্নত। কথাটা যতই নির্লজ্জ হ্যাংলার মতো শোনাক, যা রটে তার কিছু তো বটে। মনে হয় ডালে-ডালে খবরটা কিং খানের কানে গিয়ে পৌছছিল কোনও এক সময়ে। কাজেই এর একখান যোগ্য মুচকি হাসি হেসেছিলেন শাহরুখ। গত কয়েক বছর ধরে ওই দিনটিতে, আশা করি দোসরা নভেম্বরের তাত্পর্য আর বুঝিয়ে বলতে হবে না, মুম্বইদের সকল সাংবাদিকদের ওপেন নেমন্তন্ন থাকে শাহরুখের বাংলোয়। ইয়াবড় নরম-তাজা পেস্ট্রি কাটেন শাহরুখ। ক্রিমের কারুকাজ, হ্যাপি বার্থ়ডে শাহরুখ। কাউকে নিজে হাতে খাইয়ে দেন, কাউকে খুরপি দিয়ে তুলে দেন প্লেটে। বিজ্ঞান থেকে জি কে, যে কোনও প্রশ্নের উত্তর দেন। কেউ ম্নানমুখে ফিরে যান না। ফুড কাউন্টারে থাকে অঢেল ভূরিভোজ এবং ভুঁড়িভোজের ব্যবস্থা..

staff-blog
staff-blog
হেঁইয়ো মা দুগ্গা!

খুশির শিউলিফুল ভোর। দেরি করে মা আসছেন বলেই মেঘের ছমছমে ভাব উধাও। মহালয়া আসছে। পুজো মানে অনেক কিছু। সঙ্গে বাঙালির বাংলা পরীক্ষা শুরু। বানানে কেমন পাণিনি, সেটা আকাশ-বাতাসে দুলতে থাকা হোর্ডিং দেখলেই হৃদয়ঙ্গম হয়।

staff-blog
blog-img

আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।

blog-img

বর্তমান রাজ্য সরকার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করার প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই রকম বর্বর হামলা এখন হয় না, সাত আট শো বছর আগে হত। বিশ্বমানের শিক্ষাবিদরা গবেষণাগারে বর্শা এবং লোহার রডের আস্ফালন দেখতে অভ্যস্ত নন। বিশ্বমানের ছাত্রীরা ক্যাম্পাসের মধ্যে বাইরের গুন্ডাদের থেকে ধর্ষণের হুমকি শোনেন না এবং ছাত্ররা ক্লাসের মধ্যে গুন্ডাদের মারে রক্তাক্ত হন না। ১০ এপ্রিলের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রেসিডেন্সির পুনরুজ্জীবন উদ্যোগে বাধা পড়তে বাধ্য।

blog-img

দোলনায় দুলতে রাজি আছি, কিন্তু দোল না! স্কিনে মেলানিন বেড়ে যাবে, কমপ্লেকশনের বারোটা বেজে যাবে, চুলের টেক্সচারের বারোটা বেজে যাবে। বিরিবিরি আবির ভরা মাথা ইঃ, দাঁতমুখে কালি ছিঃ, কনট্যাক্ট লেন্সে বালি.. এ কি ভদ্রমহিলাদের খেলা! বিশেষ করে আমার মতো সুন্দরীরা দোল খেলে না। যবে থেকে আয়নায় সেল্ফ-অ্যাডমিরেশন শুরু করেছি, তবে থেকেই দোলের দিন প্রচুর অমিতাভ বচ্চনের ছবি আর এফ এম শুনি, সেফ সাইডে থেকে। জিজ্ঞেস করলেই সোজা হিসেব দিই, সবাই যদি রং-বালতি-পিচকিরি নিয়ে নেমে যায়, তবে দেখবে কে?

blog-img

এই তো সেদিন, গ্রীষ্মের এক দীর্ঘ দুপুরে পাঁচ সন্তানকে স্থবির করে চলে গেলেন মা। তীব্র কান্নায় খানখান হাসপাতাল। দূরে বিমূঢ় জিজ্ঞাসা নিয়ে দাঁড়িয়ে পিতা। অর্ধশতাব্দীরও আগে তিনি এসেছিলেন। পুতুল খেলার পর্ব পেরিয়ে তখন সদ্য চু-কিতকিতে ওস্তাদি চলছে।