প্রেসিডেন্সির ঘটনা সাজানো: পার্থ চট্টোপাধ্যায়

Last Updated: Saturday, April 13, 2013 - 17:30

"প্রেসিডেন্সিতে সাজানো ঘটনা আছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি।" গান্ধীমূর্তির পাদদেশে দলীয় সভায় বললেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। তিনি বলেন, "এই ঘটনার পিছনে চক্রান্ত আছে বলে মনে হচ্ছে।"
গতকালই প্রেসিডেন্সি কলেজে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের রাজ্যপাল আশ্বাস দিয়েছিলেন, পুরো ঘটনার পুলিসি তদন্তে কি উঠে আসে সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তিনি। কিন্তু আশ্বাসের পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের প্রেসিডেন্সি নিয়ে সাজানো ঘটনার তত্ত্ব হাজির করা হল শাসকদলের পক্ষে। এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুরো ঘটনাটা সাজানো কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁর বক্তব্য বুধবার প্রেসিডেন্সিতে হামলার ঘটনার পিছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও কোনও `চক্রান্ত` আছে কিনা সে বিষয় তদন্ত করা দরকার। হামলার সময় যে বর্শা ব্যবহার করা হয়েছিল, তা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিভাগ থেকে এনে ক্যাম্পাসে মজুত করা হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্নও তুলেছেন শিল্পমন্ত্রী। দিল্লির ঘটনা থেকে চোখ ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই সিপিআইএম এই সব চক্রান্ত করছে বলে জানান তিনি।
প্রেসিডেন্সিতে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর দাশগুপ্তর ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি। পুলিসি তদন্তে বাধা দিচ্ছেন রেজিস্ট্রার। এমনই অভিযোগ তুললেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পাপ্পু সিং কে, সে বিষয়ও সামনে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সভা মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, "ছাত্রছাত্রীরা মার খেলে তিনি তিনি (রেজিস্ট্রার) পুলিসের কাছে যান না। পাপ্পু সিংকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর প্রাণ কেঁদে ওঠে।"
প্রবীর বাবু অবশ্য এদিন বলেন তিনি যা দেখেছেন তাই জানিয়েছেন। তিনি পালটা প্রশ্ন, "পাপ্পু সিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী। তাঁর পাশে দাঁড়াব না?"
গতকাল রাজ্যপাল একথাও বলেছিলেন, যে কোনও ঘটনায় দোষ স্বীকার না করাটাই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাহলে কি তদন্তের প্রক্রিয়াকেই প্রভাবিত করার চেষ্টা শুরু হল তৃণমূলের তরফে। উঠতে শুরু করেছে এই প্রশ্ন।
দিল্লি কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ মৌলালি থেকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত মিছিল করে তৃণমূল।
মিছিলে ছিলেন মুকুল রায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম সহ দলের অন্য নেতা কর্মীরা। পুলিসি হেফাজতে সুদীপ্ত গুপ্তের মৃত্যু, প্রেসিডেন্সিতে ভাঙচুরের ঘটনায় বর্তমানে অস্বস্তিতে সরকার। তাই এখন দিল্লি কাণ্ডকেই সব থেকে বড় হাতিয়ার করতে চাইছে তৃণমূল। পাশাপাশি দিল্লি কাণ্ডকে ঘিরে জেলায় জেলায় কনভেনশনেরও আয়োজন করেছে তৃণমূল।



First Published: Saturday, April 13, 2013 - 17:30


comments powered by Disqus