সভার পাল্টা সভায় প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল

Update: May 4, 2012 20:36 IST

একইসময়ে দুটি সমাবেশ। দুটি সমাবেশেরই উদ্যোক্তা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। দুটি সমাবেশেই সমর্থকরা এসেছেন তৃণমূলের পতাকা হাতে। মঞ্চ সাজানো হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাট আউটে। পুরসভার সামনে শুক্রবার সমাবেশ ছিল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের। তার থেকে ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে মেট্রো চ্যানেলে সমাবেশ করলেন দোলা সেন। দুটি সমাবেশ থেকেই রীতিমতো তোপ দাগা হল একে অপরের বিরুদ্ধে।

মেট্রো চ্যানেলে অনুষ্ঠিত সভার ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে মে-দিবস উদযাপন ও আগামী ২০ মে নতুন সরকারের একবছর পূর্তি। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন পূর্ণেন্দু বসু, দোলা সেন, সুব্রত মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার সামনে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এদিন সভা করছে কেএমসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন। একই দিনে আইএনটিটিইউসি-র ২ সভাকে কেন্দ্র করেই এদিন প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। কোনটা তৃণমূলের আসল শ্রমিক সংগঠন, তাই নিয়ে দড়ি টানাটানি ছিল রীতিমতো তুঙ্গে। কোন সমাবেশে বেশি লোকসমাগম হয়, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল রীতিমতো তুঙ্গে।  শেষপর্যন্ত এই কোন্দল ধামাচাপা দিতে আসরে নামতে হয় সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। দোলা সেনের সভার পরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সভাতেও উপস্থিত হন তিনি।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সমাবেশে এদিন ছিল উপচে পরা ভিড়। ভিড়ে ঠাসা সমাবেশ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আজ যাঁরা পাল্টা সমাবেশ করছেন, দায় এবং দায়িত্ব নিতে হবে তাঁদেরই।" তাঁর সমাবেশের বিষয়টি দুমাস আগে থেকে স্থির হয়ে আছে বলেই জানান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সমাবেশে আগে বহুবার এসেছেন। কিন্তু অন্য কাউকে ডাকার প্রশ্নই আসে না বলে জানিয়ে দেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে, এভাবে সভা করে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের দুপক্ষ নিজেদের শক্তিজাহিরে ব্যস্ত বলে মত রাজনৈতিক মহলের।






Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।