আর্থিক সাহায্য নয়, ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি মায়ের

মহারাষ্ট্রের ভান্ডারাতে তিন নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনায় অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানালেন ওই তিন বোনের দিনমজুর মা। শুধু তাই নয় তিনি মহারাষ্ট্রের সরকারের দশ লক্ষ টাকা সাহায্যের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমকে পরিষ্কার জানিয়েছেন অর্থ নয়, অপরাধীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি চান তিনি।

Updated: Feb 21, 2013, 01:06 PM IST

মহারাষ্ট্রের ভান্ডারাতে তিন নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনায় অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানালেন ওই তিন বোনের দিনমজুর মা। শুধু তাই নয় তিনি মহারাষ্ট্রের সরকারের দশ লক্ষ টাকা সাহায্যের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমকে পরিষ্কার জানিয়েছেন অর্থ নয়, অপরাধীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি চান তিনি।
নাগপুর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে ভান্ডারা জেলার একটি গ্রামের ১১, ৮ ও ৬ বছরের তিন বোন গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিঁখোজ ছিল। নিঁখোজ হওয়ার দু`দিন পর ওই গ্রামেরই একটি কুয়োর মধ্যে ওই তিন বোনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রমাণিত হয়ে ধর্ষণ করার পর ওই তিন কিশোরীকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে খাবারের লোভ দেখিয়ে স্কুলফেরত তিনটি মেয়েকে গ্রামের বাইরে ওই কুয়োর কাছে নিয়ে গিয়ে তাদের উপর পৈশাচিক অত্যাচার চালায় দুষ্কৃতীরা।
এখনও পর্যন্ত পুলিস কাউকেই গ্রেফতার করেনি। বস্তুত এই ঘটনায় পুলিসের তরফে চরম অবহেলার অভিযোগ করেছেন ওই তিন কিশোরীর মা। তিনি জানিয়েছেন ১৪ তারিখ সন্ধেতেই মেয়েদের খুঁজে না পেয়ে তিনি থানায় জানান। কিন্তু স্থানীয় পুলিস কর্তৃপক্ষ প্রথমে বিষয়টিতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ওই মহিলা। তিনি বলেছেন ``প্রথম দিনই যদি পুলিস ব্যবস্থা নিত তাহলে হয়ত আমার মেয়েগুলো বেঁচে যেত।``
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় পুলিস প্রশাসন এই বিষয়টিকে নিছক দূর্ঘটনার তকমা দিতে চাইলেও গ্রামবাসীদের প্রবল ক্ষোভের মুখে পড়ে তদন্ত শুরু করে। পরে পুলিসের তরফ থেকে স্বীকার করে নেওয়া হয় পরিকল্পিতভাবেই ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ওই নাবালিকাদের। সূত্রের খবর, তিনজন সন্দেহভাজনকে পুলিস আটক করেছে।
ওই তিনটি বোনের হতদরিদ্র মা একাই বহু কষ্ট করে তিন মেয়েকে মানুষ করছিলেন। আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে মেয়েদের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে চলে এলে নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন। মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে মাকে তৎক্ষণাৎ ১০ লক্ষ টাকা সাহায্যের ঘোষণা করা হয়। এক পদস্থ পুলিস আধিকারিক জানান আজ মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আর পাতিল ওই ভদ্রমহিলার সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন।
দিল্লি গণধর্ষণ কাণ্ডের পর দেশে নারীদের উপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচারকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল দেশ। নারী সুরক্ষা মজবুত করতে ইতিমধ্যেই পাস হয়েছে নয়া অর্ডিন্যান্স। কিন্তু এই সব কিছুর মধ্যেই আসলে ভারতে মেয়েদের সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টি যে বিন্দুমাত্র পরিবর্তিত হয়নি বান্ডারার ঘটনা আরও একবার নির্মমভাবে তাই প্রমাণ করল।