ডিম দিয়ে ছোলার ডালের কারি

Update: October 7, 2012 19:55 IST

বিয়ের আগে ছোলার ডাল মানেই বুঝতাম নারকেল দিয়ে নিরামিষ মিষ্টি ডালের সঙ্গে গরম গরম ফুলকো লুচি। এই ছোলার ডালও যে ঝাল ঝাল করে আমিষ বানানো যায়, তা শিখলাম বিয়ের পর। আজ ৫ বছর হল দিদি শাশুড়ি গত হয়েছেন। ওনার কাছে থেকে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া বোধহয় ছোলার ডাল দিয়ে ডিমের এই রেসিপিটি।

উপকরণ

ছোলার ডাল (২৫০ গ্রাম)
পেঁয়াজ ৩ টি
শুকনো লঙ্কা ৩ টি
আদা ৬ গ্রাম
রুসুন ২ কোয়া
হলুদ
কাঁচা লঙ্কা ৪ টি
অল্প চিনি
নুন স্বাদ মত
গরম মশলা
দই অল্প
ঘি
হাঁস বা মুরগীর ডিম চারটে

কীকরে করবেন

পেঁয়াজ, শুকনো লঙ্কা, আদা, হলুদ একসঙ্গে পিষে রাখতে হবে। কাঁচা লঙ্কা গুলো চিরে রাখতে হবে।

প্রথমে একটা হাঁড়িতে ডাল সিদ্ধ করে নিতে হবে। ডাল সিদ্ধ জলটাকে আলাদা করে রাখতে হবে। ডিমগুলো সিদ্ধ করে খোলা ছাড়িয়ে রাখতে হবে। হাঁড়ি চড়িয়ে তাতে ৩ মাঝারি চামচ ঘি দিতে হবে। এই ঘিতে ডিমগুলো লাল করে ভেজে নিতে হবে। ভাজার পর ডিমগুলো কে আধ খানা করে কেটে রাখতে হবে। এরপর এই ঘিয়ে বাটা মশলা দিয়ে জলের ছিটে দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ধরে ভাল করে কষতে হবে। এবার এতে দই দিয়ে আবার ভাল করে কষতে হবে। মশলা বেশ ভাল করে কষা হয়ে গেলে এতে ডাল দিতে হবে। ভাল করে নাড়াচাড়া করার পর এতে পরিমান মতো ডালের জল দিতে হবে। এরপর এতে স্বাদমত নুন দিতে হবে।

আর একটি হাঁড়িতে ৩০ গ্রাম ঘি দিয়ে তাতে একটু চিনি দিতে হবে। খুন্তি দিয়ে নেড়ে চিনিটাকে লাল করতে হবে। এরপর এতে জল দিয়ে জলটা ফুটে উঠলে যে হাঁড়িতে ডাল আছে তাতে ঢেলে দিতে হবে। এই বার আবার হাঁড়িটি আবার উনানে বসাতে হবে। এই সময় ডিমগুলো এতে দিতে হবে। পুরো ব্যাপারটা ফুটে উঠলে নামিয়ে ফেলতে হবে। উপর থেকে গরম মশলা ছরিয়ে দিতে হবে।

অমৃতা তালুকদার
সল্টলেক









Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।