মধ্যপ্রদেশ-রাজস্থানে জোর ধাক্কা কংগ্রেসের, জোটে থাকবেন না মায়াবতী

চলতি বছরের শেষেই মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিসগঢ়ে বিধানসভার নির্বাচন। 

Updated By: Oct 3, 2018, 06:40 PM IST
মধ্যপ্রদেশ-রাজস্থানে জোর ধাক্কা কংগ্রেসের, জোটে থাকবেন না মায়াবতী

নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বুধবার কংগ্রেসকে জোর ধাক্কা দিলেন মায়াবতী। ঘোষণা করলেন, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে লড়াই করবে না বসপা। তাঁর কথায়, ''রাজস্থানে ও মধ্যপ্রদেশে একাই লড়াই করবে বহুজন সমাজ পার্টি। কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও জোট হচ্ছে না''। মায়াবতীর ঘোষণার পরেও কড়া প্রতিক্রিয়া দেয়নি কংগ্রেস। বরং জোটের রাস্তা যে খোলা তা বুঝিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা। 

শুধু কংগ্রেসকে ধাক্কা দেওয়াই নয়, বরং রাহুল গান্ধীর দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন বসপা সুপ্রিমো। তাঁর দাবি, বিজেপির মতো বসপাকে শেষ করার ষড়যন্ত্র করছে কংগ্রেস।

কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংকে নিশানা করে মায়াবতীর অভিযোগ, ''দিগ্বিজয় সিংয়ের মতো কংগ্রেস নেতারা কংগ্রেস-বসপা জোট চান না। ইডি, সিবিআইয়ের মতো তদন্তকারী সংস্থাকে ভয় পান তাঁরা''। এমনকি দিগ্বিজয় সিংকে বিজেপির এজেন্ট হিসেবেও অভিহিত করেছেন দলিত নেত্রী। তাঁর কথায়, ''বিজেপির এজেন্ট দিগ্বিজয় সিং বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, কেন্দ্রের চাপে জোট করতে চান না মায়াবতী। এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন''। 

তবে জোট ছাড়া কংগ্রেস যে বিজেপিকে হারাতে পারবে না, তাও স্পষ্ট করেন মায়াবতী। বলেন, ''ওরা (কংগ্রেস) দাম্ভিক হয়ে উঠেছে। বিজেপিকে হারানোর ভ্রান্ত ভাবনায় ডুবে রয়েছে। বাস্তব থেকে দূরে তারা। দুর্নীতি ও ভুলের জন্য কংগ্রেসকে এখনও মানুষ ক্ষমা করেননি। কিন্তু ভুল শোধরাতে চান না তাঁরা''।    

কংগ্রেসের হাত না ধরলেও সনিয়া ও রাহুল গান্ধীকে নিয়ে সহৃদয় মায়াবতী। তাঁর মতে,''কংগ্রেস-বসপা জোট নিয়ে সনিয়া ও রাহুল গান্ধীর উদ্যম সত্। তবে কয়েকজন কংগ্রেস নেতা তা চান না''। মায়াবতীর বক্তব্যের ঠিক এই অংশটিই স্বস্তি দিচ্ছে রাহুল গান্ধীর দলকে। বিধানসভা ভোটের আগে বসপা সুপ্রিমোর সমর্থন যে মিলবে সে ব্যাপারে আশাবাদী রণদীপ সুরজেওয়ালা। কংগ্রেসের মুখপাত্র বলেন, ''আবেগের বশে তিক্ত-মিষ্টি কথা বলা হয়। তবে রাহুল গান্ধী ও সনিয়া গান্ধীর উপরে ভরসা রেখেছেন মায়াবতী। অন্য বিষয়গুলির সমাধান সম্ভব''। 

চলতি বছরের শেষেই মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিসগঢ়ে বিধানসভার নির্বাচন। তিনটি রাজ্যেই বেশ কয়েকটি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে দলিতভোট। ছত্তিসগঢ়ে আবার কংগ্রেসকে ছেড়ে প্রাক্তন মু্খ্যমন্ত্রী অজিত যোগীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টির সুপ্রিমো। সেক্ষেত্রে মায়াবতী আলাদা লড়াই করলে দলিত ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাতে আখেরে লাভবান হবে বিজেপি। 

আরও পড়ুন- মোদীকে 'চ্যাম্পিয়ন অব আর্থ' পুরস্কারে সম্মানিত করলেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব

.