গতকালই হায়দরাবাদকে সতর্ক করা হয়েছিল, দাবি কেন্দ্রের

Update: February 22, 2013 17:06 IST

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলি হামলা চালাতে পারে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে এ কথা গতকাল সকালেই জানানো হয়েছিল হায়দরাবাদ পুলিসকে। শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এই কথা জানানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়াতেই ফের রক্তাক্ত হল দেশের মাটি। গতকাল সন্ধেয় ব্যস্ত বাজারে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল হয়দারারবাদ। মৃত ১৬, আহত ১১৯।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হায়দারাবাদ, ব্যঙ্গালুরু সহ মোট চারটি শহরে নাশকতার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। একইসঙ্গে, মহারাষ্ট্র ও গুজরাত পুলিসকেও সতর্ক করে দেওয়া হয় বলে এক আধিকারিক জানিয়েছেন। মন্ত্রক আধিকারিকদের মত, ফেব্রুয়ারির ১৯ এবং ২০ তারিখ পাঠানো সতর্কবার্তায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, ২৬/১১ জঙ্গি আজমল কসাভ ও সংসদ হানার চক্রী আজমল গুরুর ফাঁসির বদলা নিতে পাক জঙ্গি সংগঠনগুলি হামলা চালাতে পারে। এই মর্মে দেশের সবকটি রাজ্য প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়।

কেন্দ্রের তরফে মঙ্গলবার যে বার্তা পাঠানো হয়, তাতে বলা হয় দেশের যে কোনও প্রান্তে লস্কর-এ-তইবা ও জয়-সি-মহম্মদের মতো সংগঠনগুলি নাশকতা চালাতে পারে। বুধবারের পাঠানো সতর্কতায় নিশ্চিত করা হয় যে ইন্ডিয়ান মুজাহিদ্দিন কাসাব ও আজমল গুরুর ফাঁসির বদলা নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

গতকাল হায়দরাবাদে ধারাবাহিক বিস্ফোরোণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডে দাবি তোলেন, সম্ভাব্য নাশকতা নিয়ে আগে থেকেই রাজ্যগুলিকে নির্দিষ্ট করে সতর্ক করা হয়েছিল। যদিও, অন্ধ্রপ্রদেশ মুখ্যমন্ত্রী কিরণ কুমার রেড্ডি দাবি তোলেন, কেন্দ্রের পাঠানো সতর্কতা আর পাঁচটা সাধারণ বার্তার মতোই ছিল।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।