ব্যাঘ্র প্রকল্পের কোর এলাকায় পর্যটন নিষিদ্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট

Update: July 24, 2012 22:52 IST

ব্যাঘ্র প্রকল্পের কোর এলাকায় পর্যটন বন্ধের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে বাঘের কোর এলাকায় কোনও পর্যটককে যেতে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি রাজ্যকে ব্যাঘ্র প্রকল্পে চিহ্নিত করতে হবে বাফার জোন। ইতিমধ্যেই বাফার জোন চিহ্নিত করতে না পারায় কয়েকটি রাজ্যকে আর্থিক জরিমানাও করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

ব্যাঘ্র প্রকল্পের কোর এলাকায় পর্যটন নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। অবশেষে এই সব এলাকায় পর্যটন বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। চোরাশিকারিদের হাত থেকে বাঘেদের রক্ষা করতে সব রকম পর্যটন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের  বিচারপতি এস কুমার এবং ইব্রাহিম কালিফুল্লার ডিভিশন বেঞ্চ। চোরাশিকারিদের দাপটে ভারতে অনেকটাই কমে গিয়েছে বাঘের সংখ্যা। বিপন্ন প্রজাতির এই প্রাণীকে বাঁচাতে প্রণয়ন করা হয়েছে কঠোর আইন। এখনও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি চোরাশিকার। গত কয়েকমাসে দেশের ব্যাঘ্র প্রকল্পগুলিতে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা শুনলে শিউরে উঠতে হয়।

মে মাসে কর্ণাটকের দান্দেলি আংশি ব্যাঘ্র প্রকল্পে সন্দেহভাজন চোরাশিকারদের হাতে এক ফরেস্ট অফিসারের মৃত্যু হয়। ওই একই মাসে মহারাষ্ট্রের তাডোবা অন্ধেরি ব্যাঘ্র প্রকল্পে একটি টুকরো টুকরো করে কাটা বাঘের দেহ উদ্ধার হয়। করবেট ন্যাশানাল পার্কেও দেখা দিয়েছে চোরাশিকারের আশঙ্কা। সুন্দরবনে পর্যটন হয় না। কিন্তু রণথম্বোরের মত এমন অনেক ব্যাঘ্র প্রকল্প রয়েছে যেখানে পর্যটকদের অবাধ যাতায়াত। এই পরিস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সব রাজ্যকে ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় বাফার জোন নির্ধারিত করারও নির্দেশ দিয়েছে। সেক্ষেত্রে কোনও রাজ্য যদি ব্যাঘ্র প্রকল্পের বাফার জোন নির্দিষ্ট করতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে তাদের বড় অঙ্কের জরিমানারও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন না করার জন্য অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুনাচল প্রদেশ, তামিলনাডু, বিহার, মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খন্ডকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।   







Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।