সরকারি স্কুলে খাট-বিছানা পাতা! দিদিমণিরা আসেন, ঘুমোন, আড্ডা দেন

মোট ২৩ জনের মধ্যে ২০ জন শিক্ষিকা। স্টাফ রুমের এক পাশে তাঁরা খাট-বিছানা পেতেছেন। বহু বছর ধরে সেখানে দিনের বেলা বিশ্রাম নেন তাঁরা।

Updated By: Dec 19, 2019, 03:29 PM IST
সরকারি স্কুলে খাট-বিছানা পাতা! দিদিমণিরা আসেন, ঘুমোন, আড্ডা দেন

নিজস্ব প্রতিবেদন : প্রতিদিন ২০০ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা শিখতে আসে এই স্কুলে। কিন্তু বৃথাই আসা-যাওয়া। পড়াশোনা সেখানে শেখানো হয় না। বাচ্চারা স্কুলে এসে ঘুরেফিরে বাড়ি ফিরে যায়। সপ্তাহে বা মাসে এক-দুদিন শিক্ষিক-শিক্ষিকারা মর্জিমতো তাদের পড়ান। কিন্তু মাসের বেশিরভাগ দিন সেখানে পড়াশোনা হয় না। তা হলে শিক্ষিকারা স্কুলে এসে কী করেন! তাঁরা দিনের বেলা সেখানে ঘুমোন। জমাটি আড্ডাও হয়। বছরের পর বছর ধরে এটাই এই স্কুলের পরম্পরা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলের জীর্ন দশা, বাচ্চাদের পড়াশোনায় গাফিলতি নিয়ে কোনও শিক্ষিকার মাথাব্যথা নেই। সরকারি স্কুল। তাই কি এমন হেলাফেলা মানসিকতা!

মোট ২৩ জনের মধ্যে ২০ জন শিক্ষিকা। স্টাফ রুমের এক পাশে তাঁরা খাট-বিছানা পেতেছেন। বহু বছর ধরে সেখানে দিনের বেলা বিশ্রাম নেন তাঁরা। ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মতো স্কুলে এসে ঘুরেফিরে বাড়ি চলে যায়। যদিও শিক্ষিকাদের দাবি, সেই বিছানায় তাঁরা আদৌ বিশ্রাম নেন না। বরং কারও শরীর খারাপ হলে সেই বিছানায় তাঁকে শুইয়ে রাখার জন্যই এমন ব্যবস্থা! কিন্তু হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিচ্ছে পড়ুয়ারা। তারা বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই দিদিমণিরা সেখানে ভাতঘুম দেন। জম্মু শহর থেকে খানিকটা দূরে অবস্থিত সেই স্কুল। কাশিমনগর নামের একটি জায়গায়। দিদিমণিদের ফাঁকিবাজির ছবি প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে।

আরও পড়ুন-  জমায়েত, বিক্ষোভ ঠেকাতে একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড; যান-জটে নাকাল দিল্লি

স্কুলে এতজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ক্লারুমের বেহাল দশা। কোথাও পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও আবার বহু বছর ধরে ভাঙাচোরা জানলা-দরজা একই অবস্থায় রয়েছে। কারও কোনও হেলদোল নেই। শীতের মরশুমে সেই ভাঙা জানলা দিয়ে হু হু করে কনকনে বাতাস ঢোকে। বাচ্চারা শীতে কাঁপে। কিন্তু দিদিমণিরা লেপ-কাথা জড়িয়ে শুয়ে থাকেন নরম বিছানায়। স্কুলের হেডস্যর সুদেশ গুপ্তা বলছেন, ''শিক্ষিকাদের স্টাফ রুমে আমি যাই না। তাই ওখানে বিছানা পেতে রাখার খবরটা এই সবে জানতে পারলাম। এই ব্যাপারে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। বাচ্চাদের পড়াশোনা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ রাখার দায়িত্ব শিক্ষিকাদের। সেটা তাঁরা এড়াতে পারেন না।''

.