সুজনবাবুর স্ত্রীর চাকরি কীভাবে? মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করব : ব্রাত্য
১৯৭৯-তে কলেজ সার্ভিস কমিশন হয়। কিন্তু বাম সরকার গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি-কে কলেজ সার্ভিস কমিশনের আওতায় আনেনি। ৮৭ সালেও এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ছিল।
শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্য়ায়: সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর স্ত্রী চাকরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে। এদিন সেই প্রসঙ্গেই সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানালেন, 'ওনার ইন্টারভিউ হয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। তদন্ত হওয়া দরকার। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে করব। উনি মমতা সরকারের কাছ থেকে পেনশন নিচ্ছেন। মানে সরকারি কর্মচারী। এতদিন আমরা কিছু করিনি। সব জেনেও বলিনি। কারণ, আমাদের স্লোগান বদলা নয়, বদল চাই।'
ব্রাত্য বসু আরও বলেন, 'কালকের আগে অবধি জানতাম না সুজনবাবুর স্ত্রী ওখানে চাকরি করতেন। ১৯৭৯-তে কলেজ সার্ভিস কমিশন হয়। কিন্তু বাম সরকার গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি-কে কলেজ সার্ভিস কমিশনের আওতায় আনেনি। রেজ্জাক মোল্লা বলেছেন, বেশিরভাগ পার্টি হোল টাইমারেরই সরকারি চাকরি বাঁধা ছিল। ৮৭ সালেও এই নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ছিল। আমরা আগেই বলেছিলাম এখন যে দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে, তার বীজ বাম আমলে পোঁতা হয়েছে। এই মুহূর্তে যাঁরা ভোকেশনাল, তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রেই এই জিনিস আছে। এখন তৃণমূল শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে। সেই শ্বেতপত্র দেখে কেউ অভিযোগ করলে, তার তদন্ত হবে।'
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার আদালতে ঢোকার সময় নিয়োগ দুর্নীতিতে নিয়ে সুজন চক্রবর্তী, শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষের দিকে পালটা অভিযোগের তির ছুঁড়ে দেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, 'পরিষ্কার ভাষায় বলছি যে সুজন চক্রবর্তী, শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ বাবুরা যে বড় বড় কথা বলছেন, তাঁরা নিজেদের দিকে দেখুন। উত্তরবঙ্গে তাঁরা কী করেছেন।'
এরপরই গতকাল সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক তোপ দাগেন, 'সুজনবাবুর স্ত্রী ১৯৮৭ সালের পয়লা অগস্ট দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজে ল্য়াবরেটরি অ্য়াসিস্ট্যান্ট হিসেবে জয়েন করেছিলেন। তিনি কোন ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন? তিনি কোন পরীক্ষা দিয়েছিলেন? এটা যদি জনসমক্ষে সুজনবাবু জানান, তাহলে আমি খুব উপকৃত হব। ব্রাত্য বসুর কাছে অনুরোধ জানাব, তিনি যদি সুজনবাবুর স্ত্রী যে চাকরিটা পেয়েছিলেন, সেটা নিয়ে তদন্ত করেন, আমি বাধিত হব।'
এর পাশাপাশি গতকাল-ই তৃণমূলের তরফে টুইট করা হয় যে, 'প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর স্ত্রী কোনও পরীক্ষায় পাস করেননি। কিন্ত ৩৪ বছর চাকরি করেছেন দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজে। যখন অবসর নেন, তখন বেসিক পে ছিল ৫৫ হাজার টাকা। এখন রাজ্য সরকারের পেনশনও নেন তিনি।'
আরও পড়ুন, 'সত্য সামনে আসবেই', আদালতে বিস্ফোরক পার্থ! সিডি দেখে সবাই লজ্জা পাবে: বিচারক