ওয়েব ডেস্ক : দমকা হাওয়াতেই এই পরিস্থিতি? বুধবার রাতের বেনজির বিপর্যয়ের কারণ কী? অবৈজ্ঞানিক উপায়ে অপরিকল্পিত নগরায়ন। বলছেন পরিবেশবিদরা।  আবহাওয়া দফতর বলছে ঝোড়ো হাওয়া। শহরের সকালের ছবিটা বলছে অন্য কথা। যেন সাইক্লোন বয়ে গেছে বুধবার সন্ধ্যায়।


COMMERCIAL BREAK
SCROLL TO CONTINUE READING

এ যেন ছিল আতঙ্কের মহাপতন! উলুখাগড়ার মতো উপড়ে গেছে অতিকায় সব গাছ। কেন? অপরিকল্পিত নগরায়ন। বলছেন পরিবেশবিদরা। গলদ বিসমিল্লাতেই। বুধবার রাতে শহরে যে কটি গাছ ভেঙেছে তার অধিকাংশই কৃষ্ণচূড়া, পলাশ অথবা সোনাঝুড়ি। কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া গাছ তাড়াতাড়ি বাড়ে, তাই সবুজায়নের জন্য এই গাছই বেছে নেওয়া হয়।

কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া গাছের ডাল ভঙ্গুর, শিকড়ও খুব গভীরে যায়না, তাই ভিত মজবুত হয় না। অবৈজ্ঞানিক উপায়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যার অভাব এবং সৌন্দার্যায়নকেও দায়ী করা হচ্ছে। কলকাতা শহরকে সুন্দর করতে অধিকাংশ গাছের গোড়াই সিমেন্ট দিয়ে বাঁধিয়ে দেওয়া হয়। গোড়া বাঁধানো গাছের নীচ পর্যন্ত বৃষ্টির জল পৌছয় না। এখান থেকেই সমস্যার শুরু। গাছের গোড়া বাঁধানো হলেও, শিকড় ছড়ানোর জন্য সাত মিটার ব্যাসার্ধের মাটির বেড় রাখতে হয়। এই নিয়ম এই শহরে মানা হয় না।


আরও পড়ুন- ঝড়ে লণ্ডভণ্ড শহর কলকাতা, মৃত ৩


একই কারণে পেভার ব্লক দিয়ে ফুটপাথ বাঁধানোর সময় আপত্তি জানান এক শ্রেণির পুর আধিকারিক। ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালা, গ্যাস, ইলেকট্রিক ও টেলিফোনের লাইনের কারণেও বহু গাছের শিকড় কাটা পড়ে।

শিকড় ছড়াতে না পারায় মাটি আঁকড়ে ধরতে পারে না গাছ, ভিত দুর্বল হয়। শুধু তাই নয় পরিচর্যার অভাবকেও দূষছেন পরিবেশবিদরা। গাছ লাগানোর পর সেগুলি রক্ষা করতে তারজালির ঘের দেওয়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গাছ বড় হয়ে গেলেও তারজালি সরানো হয় না। তারজালির ঘেরে গাছের গোড়া দুর্বল হয়, এঁকেবেঁকে উপড়ে ওঠে গাছ। গাছের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে সময়ে সময়ে ডাল ছাঁটা জরুরি, তা করা হয় না। গাছ সুমারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করছেন পরিবেশ বিদরা। কোন গাছের কত বয়স, কী পরিচর্যা প্রয়োজন তার কোনও হিসেবই নাকি নেই পুরসভার কাছে। পরিবেশ বিদদের মতে, বিপজ্জনক বাড়ির মতো, বিপজ্জনক গাছের তালিকা তৈরিরও সময় এসেছে।