সব শেষে, অবশেষে…

সব শেষে, অবশেষে…

সব শেষে, অবশেষে…শর্মিলা মাইতি

সব পথ এসে মিলে গেল শেষে। কে না জানে বাংলা ছবির স্বর্ণযুগ ফিরে এসেছে ২০১০ সালে। সুনামির মতো নিউ ওয়েভস আসছে। রোখা দায়। ক্যামেরা, স্ক্রিপ্ট এফসিপি নিয়ে যথেচ্ছাচার আলবাত করব! ফিল্ম নিয়ে পড়াশুনো-করা ফিল্মমেকাররা এখন কলার উঁচু করেই হাঁটাচলা করেন। তাঁরা অলিখিত লাইসেন্স পেয়ে গেছেন, কেন না, দর্শক নাকি বদলেছে। তাঁরা এখন বাংলা ভাষার চাইতে ক্যামেরার ভাষা বুঝছেন বেশি। সংলাপ যা-পাত্তাই হোক, ক্যামেরার কারিকুরিতেই বুঝিয়ে দেব আমরা কত জানি আর দর্শক কত কম জানে। কষ্ট করে ওয়ার্ল্ড সিনেমা দেখেছি কেন? ইয়ার্কি নয়!

এ ছবির ক্যামেরা আর এডিট মেশিন মোটামুটি ক্যারেকটার রোল প্লে করেছে। এত ধাঁই-ধপাধপ কাট চর্মচক্ষে দেখিনি। সোজা সিলেবাসের সমীকরণকে অকারণে বাঁদর আর তেলচুপচুপে বাঁশের মতো জটিল করে তোলা আর কী! ক্যামেরা কখনও নায়কের কানের পাশ থেকে, কখনও দুপায়ের ফাঁক থেকে, কখনও হিজিবিজি কোথাও থেকে এমন সব জ্ঞানগর্ভ শট তুলে, এমন সব কঠিন কথা বলতে চেয়েছে যে কী বলব, ভাষাই খুঁজে পাচ্ছি না!

প্রথমেই বলে নেওয়া উচিত, এ ছবি যে-সে ছবি নয়। রূপা গাঙ্গুলি শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়ে বেশ লজ্জা পেয়ে গিয়েছেন। সারা জীবন অভিনয় করে অবশেষে তিনি কি না পেলেন গানের জন্য ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড!

চেনা ধাঁচের গল্প। শিকড় ছেড়ে বেরনো কটি প্রাণ আবার আত্মঅনুসন্ধানে মগ্ন। মা ও ছেলের সম্পর্ক। ছেঁড়া ছেঁড়া জীবন নিয়ে কয়েক জন মানুষ। বেঁধে-বেঁধে থাকার চেষ্টা করেই চলেছেন দূর থেকে। পুঞ্জ পুঞ্জ অভিমান কখনও বৃষ্টি হয়ে ঝরে। কখনও গুমরে মরে। গল্পের গতি বড় শ্লথ। বড়ই শ্লথ। হলের মধ্যে মাঝেমধ্যেই নিশ্চিন্তির নাকডাক কানে আসছে। অবশেষে ছবির এমন নাম কেন, সেটা জানার জন্য শেষ অবধি ওয়েট না করে উপায় নেই!

অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলির প্রাণ-ঢালা অভিনয় এতদ্সত্ত্বেও টেনে রাখে। ছোট্ট চরিত্রে চমকে দিয়েছেন সুদীপ্তা। সামান্য সংলাপেই মিডাস টাচ দিয়েছেন এই প্রতিভাময়ী, ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড বিজয়িনী। এঁদের দুজনের জন্যই অবশেষে আপনারা ছবিটা দেখার প্ল্যান করুন। নিরাশ হবেন না।

পুনশ্চ- সিংগার- অর্কেট্রেসের কণ্ঠ “বিজন ঘরে নিশীথ রাতে’’ একটু বেসুরো শোনাল কি? গান-জানা দর্শক একটু স্বরলিপি মিলিয়ে নেবেন প্লিজ!

First Published: Friday, September 28, 2012, 20:09


comments powered by Disqus