জিতেও হাওড়ায় জেলা নেতৃত্ব বদলের ভাবনা তৃণমূলের

হাওড়া লোকসভা উপনির্বাচনে জিতলেও ফল ভালো হয়নি। দু হাজার এগারোয় সাতটি বিধানসভাতে জিতলেও, এবার দুটি হাতছাড়া হয়েছে। মন্ত্রী অরুপ রায়ের কেন্দ্রেও ফল ভালো হয়নি। এই অবস্থায় দলের জেলা নেতৃত্ব বদলে হাল ফেরানোর কথা ভাবছেন তৃনমূল নেতৃত্ব।

Updated By: Jun 6, 2013, 08:40 AM IST

হাওড়া লোকসভা উপনির্বাচনে জিতলেও ফল ভালো হয়নি। দু হাজার এগারোয় সাতটি বিধানসভাতে জিতলেও, এবার দুটি হাতছাড়া হয়েছে। মন্ত্রী অরুপ রায়ের কেন্দ্রেও ফল ভালো হয়নি। এই অবস্থায় দলের জেলা নেতৃত্ব বদলে হাল ফেরানোর কথা ভাবছেন তৃনমূল নেতৃত্ব।
দুহাজার নয়ের ভোটে হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা ক্ষেত্রের মধ্যে বালি আর হাওড়া উত্তর ছাড়া বাকি পাঁচটিতেই এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস-কংগ্রেসের জোট প্রার্থী।
দুহাজার এগারোর বিধানসভা ভোটে সাতটি কেন্দ্রেই জয়ী হন জোটের প্রার্থীরা। এবার সাতটি বিধানসভা ক্ষেত্রের মধ্যে সাঁকরাইল আর দক্ষিণ হাওড়া তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছে।
বালি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০০৯, ১১-য় জোটপ্রার্থী আর ১৩-য় তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছেন যথাক্রমে ৩২.৬৯, ৫০.৪২ আর ৪৫.৯৭ শতাংশ ভোট। এবার কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ৭.৫২ শতাংশ ভোট।
বাম প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ৬১.১৬, ৪৪.১১ এবং ৪২.৮৮ শতাংশ ভোট।
হাওড়া উত্তর কেন্দ্রে ২০০৯, ১১-য় জোটপ্রার্থী আর ১৩-য় তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছেন যথাক্রমে ৩৪.৮৮, ৪৯.২৫ আর ৪৭.২৮ শতাংশ ভোট। এবার কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ৮.৯৫ শতাংশ ভোট। বাম প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ৫৭.১৬, ৩৩.৫৪ এবং ৪০.৮১ শতাংশ ভোট।
হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে ২০০৯, ১১-য় জোটপ্রার্থী আর ১৩-য় তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছেন যথাক্রমে ৫৪.৫০, ৬২.০৭ আর ৪৪.৯০ শতাংশ ভোট। এবার কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ১৩.৭৯ শতাংশ ভোট।
বাম প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ৩৬.৪৬, ৩১.৫৯ এবং ৩৮.২০ শতাংশ ভোট।
শিবপুর কেন্দ্রে ২০০৯, ১১-য় জোটপ্রার্থী আর ১৩-য় তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছেন যথাক্রমে ৫৬.৫৮, ৬১.৮৩ আর ৪৭.১৯ শতাংশ ভোট। এবার কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ১২.০২ শতাংশ ভোট।
বাম প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ৩৭.৮২, ৩৩.৫৯ এবং ৪২.৪০ শতাংশ ভোট।
হাওড়া দক্ষিণ কেন্দ্রে ২০০৯, ১১-য় জোটপ্রার্থী আর ১৩-য় তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছেন যথাক্রমে ৪৭.৩৯, ৫৬.০৬ আর ৪৪.১৭ শতাংশ ভোট। এবার কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ৬.৯৪ শতাংশ ভোট।
বাম প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ৪৬.৫৯, ৩৮.৬৩ এবং ৪৫.৭৬ শতাংশ ভোট।
সাঁকরাইল কেন্দ্রে ২০০৯, ১১-য় জোটপ্রার্থী আর ১৩-য় তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছেন যথাক্রমে ৫০.৫৭, ৫১.২১ আর ৩৯.৩৯ শতাংশ ভোট। এবার কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ১৩.১৫ শতাংশ ভোট।
বাম প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ৩৯.৯৭, ৪০.৮২ এবং ৪৩.৬০ শতাংশ ভোট।
পাঁচলা কেন্দ্রে ২০০৯, ১১-য় জোটপ্রার্থী আর ১৩-য় তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছেন যথাক্রমে ৫২.৫১, ৪৫.৭৬ আর ৪৪.৪৫ শতাংশ ভোট। এবার কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছেন ১১.২৭ শতাংশ ভোট।
বাম প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ৩৮.২৫, ৩৮.৫৩ এবং ৩৮.০৯ শতাংশ ভোট।
ভোটদানের হার এবার কমেছে অনেকটাই। তবু শতাংশের বিচারে তো বটেই, দুহাজার এগারোর ভোটের তুলনায় মোট প্রাপ্ত ভোটেও হাওড়া উত্তর, হাওড়া মধ্য, শিবপুর, হাওড়া দক্ষিণ কেন্দ্রে বামেদের ভোট বেড়েছে।
বিধানসভা ভোটে হাতছাড়া সাঁকরাইল এবং দক্ষিণ হাওড়ায় এবার জিতেছেন বামপ্রার্থী। 
মন্ত্রী তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি অরূপ রায়ের কেন্দ্র মধ্য হাওড়াতেও বিপর্যয় এড়াতে পারেনি তৃণমূল।  
পঞ্চায়েত ভোটের আগে সাংগঠনিক স্তরে রদবদল করার আলোচনাও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। 
 

.