বয়সের কমতির দিকে হাঁটা এখন সময়ের অপেক্ষা

বয়স বাড়াটা অনেকটা বিবাহিত দম্পতির মত, প্রথম প্রথম দু`জনের মধ্যে প্রেমের জোয়ার থাকে, যোগাযোগও থাকে মারাত্মক, কিন্তু যতদিন যায় সম্পর্কে মরচে পড়ে, একসঙ্গে থেকেও কমতে থাকে যোগাযোগ। এই যোগাযোগটা যদি কোনওভাবে বজায় রাখা যায়, সম্পর্কের বাঁধনটা কিন্তু ততই মজবুত হয়।

Updated: Dec 21, 2013, 08:02 PM IST

বয়স বাড়াটা অনেকটা বিবাহিত দম্পতির মত, প্রথম প্রথম দু`জনের মধ্যে প্রেমের জোয়ার থাকে, যোগাযোগও থাকে মারাত্মক, কিন্তু যতদিন যায় সম্পর্কে মরচে পড়ে, একসঙ্গে থেকেও কমতে থাকে যোগাযোগ। এই যোগাযোগটা যদি কোনওভাবে বজায় রাখা যায়, সম্পর্কের বাঁধনটা কিন্তু ততই মজবুত হয়।

সম্পর্কের মতোই যোগাযোগটা বজায় রাখলেই কিন্তু বয়সটাও উল্টোদিকে দৌড়াতে পারে। অন্তত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রেতো বটেই। এমনটাই দাবি করেছে নতুন এক গবেষণা।

কোষের মধ্যেকার নিউক্লিয়াস আর মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখে আনবিক কার্যকলাপের একটা সিরিজ। যখনই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় তখনই কোষ বার্ধক্যের দিকে যাত্রা করে। মানুষের শরীরে স্বাভাবিকভাকে তৈরি কিছু আণবিক পদার্থকে বয়স্ক ইঁদুরের মধ্যে প্রয়োগ করে এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বজায় রাখতে সফল হয়েছেন।

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের জেনেটিক্সের অধ্যাপক ডেভিড সিনক্লেয়ার জানিয়েছেন এই পরীক্ষার ফলে ওই ইঁদুরদের দেহকলার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখা গেছে তার সঙ্গে অনেক কমবয়সী ইঁদুরদের দেহকলার সঙ্গে তুলনীয়।

মাইটোকন্ড্রিয়ার মধ্যে রাসয়ানিক শক্তি উৎপন্ন হয় যা বিভিন্ন জৈবিক কার্যকলাপ ঘটাতে সাহায্য করে। যতদিন যায় মাইটোকনড্রিয়ার কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে বহু বার্দ্ধক্য জনিত অবস্থা যেমন অ্যালঝাইমার, ডায়াবেটিস শরীরে পরিলক্ষিত হতে থাকে।

সিনক্লেয়ার ও তাঁর দলের সদস্যরা সিরটুইনস নামের একটি জিন গ্রুপের উপর কাজ করে দেখেছেন এই জিন গুলির মধ্যে একটি জিন এসআইআরটি ওয়ান রেসভেরাট্রোল নামক একটি যৌগ দ্বারা সক্রিয় হয়। এই রেসভেরাট্রোল পাওয়া যায় আঙুর, রেড ওয়াইন ও কিছু বাদামের মধ্যে।

বয়স্ক কিছু ইঁদুরের মধ্যে থেকে এসআইআরটি ওয়ান জিন আলাদা করে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালান। তাঁরা আশা করেছিলেন ইঁদুর গুলির মধ্যে বয়সের লক্ষণ আরও দ্রুত গতিতে পরিলক্ষিত হবে। মাইটোকনড্রিয়াও দ্রুত তার কার্যক্ষমতা হারাবে। কিন্তু বাস্তবে হল ঠিক তার উল্টো। কোষের মধ্যে মাইটোকনড্রিয়া আর নিউক্লিয়াস থেকে যে প্রোটিন পাওয়া গেল তা একেবারেই স্বাভাবিক পরিমাণে অর্থাৎ তরুণ ইঁদুরের শরীর থেকে যেপরিমাণে পাওয়ার কথা ততটা। এসআইআরটি ওয়ান জিনটি আসলে নিউক্লিয়াস আর মাইটোকনড্রিয়ার মধ্যেকার যোগাযোগের মধ্যে সিকিউরিটি গার্ডের ভূমিকা গ্রহণ করে।

যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত আরও অনেক পরীক্ষার অবকাশ আছে কিন্তু বিজ্ঞানীরা আশা রাখছেন দ্রুতই তাঁরা বয়সকে উল্টো দিকে হাঁটা লাগাতে সক্ষম হবেন।