সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই কি খুন হল আবেশ দাশগুপ্ত?

সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই কি খুন হয়ে গেল আবেশ দাশগুপ্ত? প্রাথমিক তদন্তে তেমনই অনুমান পুলিসের। এক কিশোরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ঘিরে সম্ভবত বন্ধুর সঙ্গে গোলমাল চলছিল আবেশের। যার জেরে বচসা। আর তারপরই খুন। রহস্য জাল ভেদ করতে বন্ধুদের জেরার করার ওপরই ভরসা করছে পুলিস।

Updated By: Jul 24, 2016, 07:08 PM IST
সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই কি খুন হল আবেশ দাশগুপ্ত?

ওয়েব ডেস্ক: সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই কি খুন হয়ে গেল আবেশ দাশগুপ্ত? প্রাথমিক তদন্তে তেমনই অনুমান পুলিসের। এক কিশোরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ঘিরে সম্ভবত বন্ধুর সঙ্গে গোলমাল চলছিল আবেশের। যার জেরে বচসা। আর তারপরই খুন। রহস্য জাল ভেদ করতে বন্ধুদের জেরার করার ওপরই ভরসা করছে পুলিস।

বালিগঞ্জের অভিজাত সানিপার্ক। লেখক অমিত চৌধুরীর মেয়ের বার্থ ডে সেলিব্রেট করতে জড়ো হয়েছিল জনা ১৭ কিশোর-কিশোরী। ছিল সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্র আবেশ দাশগুপ্তও। দিনভর চলছিল খাওয়া দাওয়া, হৈ-হল্লোড়, মস্তি। আচমকাই ছন্দপতন।

দুপুরে অভিজাত ক্লাবে লাঞ্চ সারে ১৭জন। তারপর ফিরে আসে সানি পার্কের আবাসনে। বিকেলের দিকে সেখানেই আবেশের সঙ্গে বচসা বাধে আরেক বন্ধুর।  বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। তারপরই বোতল দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ। লুটিয়ে পড়ে আবেশ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সকরা।

পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ করেছে আবেশের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ আবেশের এক বন্ধুর বিরুদ্ধে। রাতেই আবেশের ওই বন্ধুকে আটক করে পুলিস। গভীর রাত পর্যন্ত চলে জেরা। পুলিসের কাছে ঘটনার কথা অস্বীকার করে ওই কিশোর। তার দাবি, গোলমালের মধ্যেই ভাঙা বোতলের ওপর আচমকা পড়ে যায় আবেশ। তারপর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। তার জেরেই মৃত্যু।

অভিযুক্ত কিশোরের বয়ান মানতে নারাজ পুলিস। কারণ আবেশের ক্ষতের ধরণ ও বন্ধুদের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি। চিকিত্সকরা বলছেন, তাঁদের দাবি, আবেশের বাঁদিকের বগলের তলায় যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে ভাঙা বোতলের ওপর পড়ে তা সম্ভব নয়। ধারালো বস্তু দিয়ে আচমকা জোরালো আঘাত করলে,  তবেই এমন ক্ষত তৈরি হওয়া সম্ভব।

ধন্ধ কাটাতে তদন্ত শুরু করেছেন হোমিসাইডের আধিকারিকরা। সাহায্য নেওয়া হচ্ছে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদেরও। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে সেরোলজি টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সময় ঠিক কতজন উপস্থিত ছিল  সেরোলজি টেস্টের পরই তা জানা যাবে। পার্কিং লটের সিসিটিভির ফুটেজ ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছে পুলিস। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সেটাও। যদিও, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ মেলেনি।

আরও পড়ুন আবেশকে কে খুন করেছে তা এখন ওপেন সিক্রেট, কিন্তু তার শাস্তি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

আবেশ খুনের রহস্য ভেদ করতে বন্ধুদেরই পাখির চোখ করছে পুলিস। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, মূল অভিযুক্ত কিশোর সহ বাকি ১৫জনই কমবেশি সত্য গোপন করছে। পুলিসকে ভাবাচ্ছে ঠিক কী নিয়ে আবেশ ও অভিযুক্ত কিশোরের মধ্যে বচসার শুরু? আর ঠিক এখানেই উঠে আসছে এক বান্ধবীকে নিয়ে টানাপোড়েনের সম্ভাবনা।

প্রাথমিক তদন্তে যা উঠে আসছে তাতে পুলিসের অনুমান, গোটা ঘটনার মূলে থাকতে পারে সম্পর্কের টানাপোড়েন। আবেশ ও অভিযুক্ত কিশোর ছোটবেলার বন্ধু। ওই কিশোরের সঙ্গেই বার্থ ডে পার্টিতে যায় আবেশ, পার্টিতে উপস্থিত বাকিদের সে চিনত না। সম্প্রতি অভিযুক্ত কিশোরের মাধ্যমেই এক বান্ধবীর সঙ্গে পরিচয় হয় আবেশের। আবেশের সঙ্গে কিশোরীর ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই, দুই কিশোরের মধ্যে মন কষাকষি শুরু হয়। শনিবার সকাল থেকে আবেশের সঙ্গে অভিযুক্ত কিশোরের সমস্যা চলছিল। বার্থ ডে পার্টির দুপুরে যা চরম আকার নেয়। সম্পর্ক ঘিরে দুই কিশোরের দ্বন্দ্বই কি শেষপর্যন্ত কেড়ে নিল আবেশের প্রাণ? পার্টিতে হাজির বাকি বন্ধুদের জেরা করে আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

.