রুশদিকে সমাজবিরোধীর তকমা ফিরহাদের

Update: February 10, 2013 10:09 IST

বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক সলমন রুশদিকে সমাজবিরোধীর তকমা দিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। জানিয়ে দিলেন, রাজ্য সরকার রুশদিকে কলকাতায় আসতে না দিয়ে ঠিক কাজই করেছে। সলমন রুশদির কলকাতা সফর বাতিল প্রসঙ্গে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে শনিবার নতুন মাত্রা যোগ করলেন তিনি।  কেন্দ্রীয় সরকার ভিসা দিলেও রাজ্য সরকার সলমন রুশদিকে কলকাতায় আসতে দেয়নি কেন ? বীরভূমের নলহাটির জনসভায় ব্যাখ্যা দিলেন ফিরহাদ হাকিম।

তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের বক্তব্য অবশ্য ছিল অন্যরকম। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, সলমন রুশদি শহরে আসবেন, লোক জানবে এবং বিক্ষোভ দেখাবে। তাতে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হবে। তাই রাজ্য সরকারের তরফে ওঁকে সফর বতিলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকার মোটেই ওঁকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি।

এরপরই রুশদির ট্যুইট বোমা। তিনি লিখলেন, ``হাস্যকর কথা, সৌগত রায়। কলকাতায় না আসার জন্য আমাকে বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়নি। আমাকে বলা হয়েছিল, পুলিস আমাকে পরের বিমানেই ফেরত পাঠিয়ে দেবে।``

সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলে রুশদি লেখেন, ``সহজ ঘটনাটা হল যে আমার আসা আটকাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পুলিসকে নির্দেশ দেন।``

রুশদির কলকাতা সফর বাতিল যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে সে দিনই কার্যত তা মেনে নেন তৃণমূল সাংসদ সুলতান আহমেদ।

শনিবার, ফিরহাদ হাকিমের গলাতেও ছিল একই সুর। যদিও, রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও রচপাল সিংয়ের বক্তব্য ছিল অন্যরকম।

রুশদি প্রসঙ্গে বইমেলায় একই দিনে কার্যত পরস্পরবিরোধী মন্তব্য শোনা গেছে দুই মন্ত্রীর গলায়।

বুকারজয়ী উপন্যাস মিডনাইটস চিলড্রেন অবলম্বনে তৈরি ছবির প্রচারে কলকাতায় আসার কথা থাকলেও শেষপর্যন্ত কেন সফর বাতিলে বাধ্য হয়েছিলেন সলমন রুশদি? শাসকদলের বিভিন্ন নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্য বেড়েই চলেছে বিভ্রান্তি।


 

Post Your Comment

Total Comments:1

IF SALMAN RUSHDIE IS AN ANTISOCIAL THEN WHAT YOU ARE ???? NONE BUT A FOOLISH CAN MAKE SUCH A GOOSEY COMMENT.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।