কলকাতা থেকে গ্রেফতার দুই মাওবাদী

কলকাতা থেকে গ্রেফতার দুই মাওবাদী

কলকাতা থেকে গ্রেফতার দুই মাওবাদী কলকাতা থেকে দুই মাওবাদীকে গ্রেফতারের ঘটনায় আদালতের তীব্র ভর্তসনার মুখে পড়ল কলকাতা পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। শুক্রবার আলিপুর সিএমএম আদালতে তোলা হয় ধৃত মাওবাদী নেতা কিশোর ওরফে সব্যসাচী গোস্বামী এবং কলকাতা সিটি কমিটির সদস্য জাকির হোসেনকে। ধৃত কিশোর ওরফে সব্যসাচী গোস্বামী মাওবাদী রাজ্য কমিটির সদস্য। জাকিরকে পনেরো তারিখে গ্রেফতার করা হলেও তাঁকে শুক্রবার আদালতে পেশ করা হয়।

অভিযুক্তদের আইনজীবী অভিযোগ করেন ১৫ এপ্রিল ধর্মতলা থেকে জাকির হোসেনকে গ্রেফতারের পর চারদিন ধরে বেআইনিভাবে আটক করে রেখে, জেরার নামে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে তাঁকে। সারা শরীরে আঘাতের চিহ্নগুলিই তার প্রমাণ। এরপরেই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বরূপ শেঠ জাকিরের শরীরের আঘাতের চিহ্নগুলি দেখতে চান।

বিচারক সিএমএম কাঠগড়ায় ডাকেন এসটিএফের তদন্তকারী অফিসার অশোককুমার ঘোষকে। বিচারক জানতে চান, জাকিরের শরীরে আঘাতের চিহ্নগুলি কিসের । উত্তরে তদন্তকারী অফিসার জানান, মেডিক্যাল কলেজে মেডিক্যাল করানো হয়েছে। বিচারক প্রশ্ন করেন, আরএমওর নাম কি। আইও তখন বলেন, মেডিক্যাল রিপোর্টে সই আছে। বিচারক আবার প্রশ্ন করেন, আরএমওর নাম কি। আই ও উত্তরে বলেন, জিজ্ঞাসা করতে ভুলে গেছি।

এরপরেই বিচারক তীব্র ভর্ত‍সনা করেন তদন্তকারী অফিসারকে। এবং বলেন, হোয়াট ডু ইউ মিন, জিজ্ঞাসা করতে ভুলে গেছি। এক্ষুনি কোর্টের বাইরে যান, যেভাবে হোক জেনে আসুন আরএমওর নাম। যদিও এদিন আরএমওর নাম জানাতে পারেনি এসটিএফ। এরপর বিচারক অভিযুক্তদের আইনজীবীকে জামিনের আবেদন জমা দিতে বলেন। জাকির হোসেনকে তেইশ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

ধৃত কিশোর ওরফে সব্যসাচী গোস্বামীকে পঁচিশে এপ্রিল পর্যন্ত পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। কিন্তু জাকিরের এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে ডেপুটি কমিশনার এসটিএফকে এই ঘটনায় তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা খতিয়ে দেখতেও নির্দেশ দেন। এবং একইসঙ্গে রাজ্য মানবাধিকার কমিশনকে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা বলেন। উল্টোদিকে সব্যসাচী গোস্বামীর আইনজীবীর উপস্থিতিতে তাঁকে জেরা করা যাবে এই মর্মে নির্দেশ দেন। এবং মেডিক্যালের বিষয়টিও  গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেন।  

First Published: Saturday, April 20, 2013, 10:19


comments powered by Disqus