সেনাপ্রধানের বয়স বিতর্ক, অ্যাটর্নি জেনারেলের পরামর্শ নিলেন অ্যান্টনি

Last Updated: Tuesday, January 17, 2012 - 12:07

বয়স বিতর্কের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সেনাপ্রধান জেনারেল বিজয় কুমার সিংয়ের দায়ের করা রিট পিটিশন সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল জি বাহনবতীর পরামর্শ নিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি। সোমবার গভীর রাতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাত্‍ করে উদ্ভূত আইনি সমস্যা সম্পর্কে আলোচনা করেন তিনি।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে নিজের বয়স ও অবসর সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানান সেনাপ্রধান ভি কে সিং। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইতিহাসে এই প্রথম কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে গেলেন কোনও কর্তব্যরত সেনাপ্রধান।
সরকারি রেকর্ডে জেনারেল ভি কে সিংয়ের বয়স সংক্রান্ত দু`রকম তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। অবশ্য তার জন্য অনেকাংশে দায়ী সেনাপ্রধান স্বয়ং। তাঁর ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ হিসেবে ১৯৫১ সালের ১০ মে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ১৯৬৫ সালে ইউপিএসসি`র প্রবেশিকা পরীক্ষায় এবং পরবর্তী কালে সেনাবাহিনীর পার্সোনেল বিভাগে তিনি নিজের জন্ম তারিখ হিসেবে ১৯৫০ সালের ১০ মে তারিখের উল্লেখ করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ইউপিএসসি এবং পার্সোনেল বিভাগে দেওয়া তথ্যটিকেই প্রামাণ্য বলে মনে করছে। এই হিসেবে চলতি বছরের ৩১ মে তাঁর অবসর নেওয়ার কথা।
কিন্তু অবসর গ্রহণে নারাজ জেনারেল সিংয়ের দাবি, ম্যাট্রিকুলেশনের শংসাপত্রে তাঁর প্রকৃত বয়স উল্লিখিত হয়েছে। এই হিসেবে তাঁর অবসর গ্রহণের দিন, ২০১৩-র ৩১ মে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে সেনাপ্রধানের আর্জি খারিজ করার পর এবার নিজের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজপুতানা রেজিমেন্টের কুশলী প্যারা কম্যান্ডো অফিসার।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে বয়স-সংঘাতের জেরে সেনাপ্রধান ভি কে সিং আইনি লড়াইয়ের পথে যাওয়ায় সঙ্গত কারণেই  তীব্র অস্বস্তিতে ইউপিএ সরকার। বিজেপি'র তরফে ইতিমধ্যেই অভিযোগ তোলা হয়েছে- এই ঘটনা ইউপিএ সরকারের অপদার্থতার প্রমাণ। কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশের মতে, আরও ধৈর্য্য এবং কুশলতার সঙ্গে জেনারেল সিংহের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বয়স-বিতর্কের সমাধান করা উচিত ছিল। জেনারেল ভি কে সিংয়ের দাবি পুরো বিষয়টি তাঁর 'সম্মান' ও 'মর্যাদার' সঙ্গে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে কোনও অবস্থাতেই পিছু হঠবেন না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এর আগে অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রিত্বকালে নৌপ্রধানের পদ থেকে বরখাস্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন অ্যাডমিরাল বিষ্ণু ভাগবত। প্রকাশ্যে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বরখাস্ত করা হয়েছিল অ্যাডমিরাল ভাগবতকে। ইউপিএ সরকারের একটি অংশও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে জেনারেল ভি কে সিং'কে বরখাস্ত করার পক্ষপাতী। কিন্তু নানা সমস্যায় জর্জরিত মনমোহন সরকার চাইছে না, নতুন করে জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে বিতর্ক মাথা চাড়া দিক। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখে ধীরেসুস্থে এগোতে চাইছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যান্টনি। পুরো বিষয়টিকে 'ক্লারিক্যাল মিস্টেক' হিসেবে চিহ্নিত করে মুখরক্ষার পথ খোঁজার কথাও ভাবা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল দীপক কাপুর এদিন ব্যক্তিগত সমস্যাকে শীর্ষ আদালতে টেনে আনায় জেনারেল সিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার পক্ষে একটি অশুভ দৃষ্টান্ত।



First Published: Tuesday, January 17, 2012 - 12:42


comments powered by Disqus