পিচ বিতর্কে উত্তপ্ত ইডেন

Update: December 1, 2012 17:16 IST

ইডেনে ক্রিকেট আছে কিন্তু নেই প্রবীর মুখোপাধ্যায়! আজ এই অবাস্তবটাই সত্যি হতে হতেও হল না। সকাল থেকেই ইডেনের পিচ বিতর্ক একের পর এক নাটকীয় মোড় নিল। প্রথমে ইডেন টেস্টের পিচ তৈরির কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন বর্ষীয়ান এই কিউরেটর। সিএবিকে লেখা একটি চিঠিতে শারীরিক অসুস্থতার জন্য ছুটির আবেদন করেন প্রবীর বাবু। ইডেনের পিচ বিতর্ককে গুন বাড়িয়ে দেয় তাঁর এই চিঠি। এমনকী আর কোন দিনও এই পদে ফিরে না আসার ইঙ্গিতও ছিল তাঁর এই চিঠিতে।

যখন তাঁর সরে আসা নিয়ে বেশ বড়সর বিতর্কের পটভূমি তৈরি হচ্ছিল তখনই সব হিসেব নিকেশ উল্টে গেল। সিএবির ২৭ বছরের সঙ্গী প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের মানভঞ্জন করতে ময়দানে অবতীর্ণ হলেন স্বয়ং সিএবি প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়া। ডেকে পাঠালেন প্রবীর বাবুকে। ডালমিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর বরফ আপাতত গলল। ইডেনের এতদিনের পিচ কিউরেটর প্রবীর বাবু জানিয়ে দিলেন দায়িত্ব থেকে আপাতত তিনি সরে আসছেন না।

বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল কয়েক দিন আগে। ওয়াংখেড়ে টেস্টের পরেই টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক ইডেনের জন্যেও ঘূর্ণি পিচের দাবি করেন। কিন্তু ইডেনের পিচ কিউরেটর অভিজ্ঞ প্রবীর মুখোপাধ্যায় জানিয়ে দেন তিনি পিচ তৈরি করবেন তাঁর মতো করেই। অন্য কারও ইচ্ছানুসারী হয়ে নয়। এরপরেই প্রবীর বাবুর সঙ্গে কার্যত বিসিসিআই-এর অঘোষিত বিরোধ তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট শ্রীনিবাসনের ব্লু-আইড-বয় ধোনির ইচ্ছা এবারও যাতে মাঠে মারা না যায় তার জন্য কোমর বেঁধে নামে ভারতীয় বোর্ড। দু`দিন আগে বোর্ডের পূর্বাঞ্চলের মাঠ এবং পিচ কমিটির প্রতিনিধি আশিস ভৌমিককে ইডেনের জন্য `কাস্টমাইজড` পিচ তৈরি করতে পাঠানো হয়। কার্যত প্রবীর বাবুর ভূমিকা আশিস ভৌমিকের সহকারী হিসাবেই সীমাবদ্ধ রয়ে যায়। প্রথম প্রথম এই নিয়ে বিশেষ বিরূপ প্রতিক্রিয়া না দেখালেও অবশেষে মুখ খুলেছিলেন ৮৩ বছরের প্রবীণ এই পিচ কিউরেটর। একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বয়স এবং অভিজ্ঞতায় অনেক ছোট আশিস ভৌমিককে তাঁর মাথার উপর বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত অপমানজনক বলে দাবি করেছেন।

প্রবীর বাবুর প্রাথমিক বিরোধ বিসিসিআই আর ক্যাপ্টেন ধোনির সঙ্গে শুরু হলেও এখন তার সঙ্গেই জুড়ে গেছে সিএবির নামও। ১৯৮৫ সাল থেকে ইডেনের পিচ তৈরি করছেন প্রবীর মুখোপাধ্যায়। সাক্ষাৎকারটিতে প্রবীর বাবু জানিয়েছেন তিনি আশা করেছিলেন পিচ বিতর্কে সিএবি তাঁর সঙ্গে থাকবে। কিন্তু তার বদলে সিএবিও বাস্তবে তাঁর বিরোধিতা শুরু করেছে। তিনি জানিয়েছেন ``আজকাল বোর্ড প্রেসিডেন্টেরও পিচ নিয়ে মতামত দেওয়ার অধিকার জন্মে গিয়েছে। কিন্তু আবার আমি যেন এই নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুলি তার জন্য শাসানিও শুনতে হয়েছে। দু`দশকের বেশি সময় ধরে সিএবির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর আমাকে এই ধরনের ব্যবহার সহ্য করতে হচ্ছে।``

প্রবীণ এই কিউরেটর আরও জানিয়েছেন এই টানাপোড়েনে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। তাই সিএবির কাছে তিনি এক মাসের ছুটির আবেদন করেছেন।

কিছুটা অভিমানের সুরেই প্রবীর মুখোপাধ্যায় বলেছেন ``শুধুমাত্র অর্থের জন্য আমি পিচ তৈরি করি না। ২০০৪ সালে ঢাকায় অনুর্দ্ধ ১৯ বিশ্বকাপ আর আইসিসি কাপের পিচ তৈরি করে দেওয়ার জন্য আমি একটি পয়সাও কখনও নিইনি। ক্রিকেট আমার প্যাশন। তাই এত বছর ধরে আমি ইডেনের সঙ্গে যুক্ত আছি।``

Post Your Comment

Total Comments:1

VERY UNFORTUNATE.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।