বেতন পেলেন না পরিবহণ কর্মীরা

Update: November 2, 2011 14:32 IST

রাজ্য সরকারের আর্থিক সঙ্কটের প্রথম কোপ পড়ল পরিবহণ সংস্থার কর্মীদের উপর। প্রায় আঠেরো হাজার পরিবহণ কর্মী অক্টোবর মাসের বেতন পাননি। কবে পাবেন, তাও জানেন না তাঁরা। পাঁচটি সরকারি পরিবহণ সংস্থাতেই গত একত্রিশে অক্টোবর নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছে সরকার। একত্রিশে অক্টোবর জারি হওয়া সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পয়লা নভেম্বর অক্টোবর মাসের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ-ও বলা হয়েছে, কবে বেতন দেওয়া হবে তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। এর ফলে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন সরকারি পরিবহণ কর্মী ও তাঁদের পরিবার। সরকারি চাকরি পেয়ে যে অভিজ্ঞতার সামনে কখনও তাঁদের পড়তে হয়নি, এবার তাই হয়েছে। কারণ এর আগে সব সময়েই সরকারি পরিবহণ কর্মীরা মাস পয়লা বেতন পেয়ে এসেছেন। যদি কখনও মাসের এক তারিখ ছুটি থাকত তাহলে তাঁদের বেতন হত আগের মাসের শেষ তারিখে। শুধু অক্টোবর মাসেই নয়, এই সঙ্কটে সরকারি পরিবহণের কর্মীরা পড়েছেন গত তিনমাস যাবত। গত তিনমাস ধরেই অনিয়মিত বেতন হচ্ছিল পরিবহণ কর্মীদের। এমনকী পুজোর মাসেও তাঁরা বেতন পান পুজোর পর। সরকারি পরিবহণ কর্মীরা এবছর প্রতিবারের মতো পাননি পুজোর বোনাস বা অগ্রিম টাকাও। কর্মীদের থেকেও শোচনীয় অবস্থা পরিবহণ দফতরের পেনশন প্রাপকদের। গত চার মাস ধরে বন্ধ তাঁদের পেনশন। এর জেরে অভাবের তাড়নায় নদীয়ার গয়েশপুরে একজন আত্মহত্যাও করেন। সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই পরিবহণ দফতরের পেনশন প্রাপকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকার আর তাঁদের পেনশন দিতে পারবে না। সরকারের যুক্তি, যেহেতু পরিবহণ সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে চলছে তাই সরকার আর এই সংস্থাগুলিকে ভর্তুকি দিয়ে চালাবে না। পাঁচটি সরকারি পরিবহণ সংস্থাকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। কিন্তু পরিবহণ কর্মীদের পাল্টা প্রশ্ন, দিন দিন যেভাবে জ্বালানির দাম বাড়ছে তাতে সরকারি পরিবহণের ভাড়া বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। কারণ ভাড়া না বাড়ালে লোকসান হওয়াটাই স্বাভাবিক। অথচ সরকার ভাড়া বাড়াতে নারাজ। তাহলে সরকারি নীতির জন্য তাঁদের কেন আর্থিক দুর্দশায় পড়তে হবে এই প্রশ্নই তুলছেন পরিবহণ কর্মীরা।


Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।