অবশেষে রক্তের নমুনা দিলেন এন ডি তিওয়ারি

Last Updated: Tuesday, May 29, 2012 - 15:59

এর আগে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ডিএনএ পরীক্ষা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। `পিতৃত্বের দায়` এড়াতে হাতিয়ার করেছেন, নিজের বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতাকে। এবার কিন্তু শেষরক্ষা হল না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অবৈধ পিতৃত্বের মামলার ডিএনএ টেস্টের জন্য প্রবীণ কংগ্রেস নেতা নারায়ণদত্ত তিওয়ারির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করল হাইকোর্ট নিযুক্ত বিশেষ চিকিত্‍সক দল। এদিন সকালে দেরাদুন সিভিল হাসাপাতালের এক সার্জেনের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বিশেষ চিকিত্‍সক দল তিওয়ারির বাসভবনে গিয়ে তাঁর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে। দিল্লি হাইকোর্টের যুগ্ম রেজিস্টার, দেরাদুনের জেলা জজ এবং এন ডি তিওয়ারির আইনজীবী হাজির ছিলেন এই `রক্তদান` অনুষ্ঠানে।
দিল্লির বাসিন্দা রোহিত শেখরের দাবি, নারায়ণদত্ত তিওয়ারি তাঁর জন্মদাতা পিতা। এই মর্মে দিল্লির একটি আদালতে মামলাও দায়ের করেন তিনি। কিন্তু আদালতের আদেশ সত্ত্বেও গত বছর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্ত দিতে হাজির হননি তিওয়ারি। সে সময় তিওয়ারিকে রক্ত দিতে বাধ্য করা যায় না বলে রায় দিয়েছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি গীতা মিত্তাল। কিন্তু গত ২৬ এপ্রিল ৩০ বছরের যুবক রোহিত শেখরের পুনর্বিবেচনার আবেদনে সাড়া দিয়ে উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রীকে রক্তের নুমনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় দিল্লি হাইকোর্টের উচ্চতর বেঞ্চ। বিচারপতি দীপক ভার্মা এবং বিচারপতি এস জে মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চও সেই রায় বহাল রেখে তিওয়ারিকে রক্তের নমুনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল থাকাকালীন তিন মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় গোপন ক্যামেরায় বন্দি হন এন ডি তিওয়ারি। এরপরই কেন্দ্রের নির্দেশে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন তিনি। নারীঘটিত নানা অভিযোগের কারণেই উত্তরাখণ্ডের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটে তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের পরই এন ডি তিওয়ারির স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবার সহজে পার পাচ্ছেন না তিনি। যদিও উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রাথমিকভাবে দিল্লি হাইকোর্টের রায় মানতে চাননি। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশে রক্তের নমুনা দিতে বাধ্য হলেন তিনি।



First Published: Tuesday, May 29, 2012 - 15:59
comments powered by Disqus