সংসদে সাধারণ বাজেট পেশ অর্থমন্ত্রীর

জনমোহিনী? না কি সংস্কারমুখী? দেশের রাজনৈতিক মহল এমনকী আমজনতার একটা বড় অংশের প্রবল জল্পনার মধ্যেই লোকসভায় ২০১২-১৩ সালের সাধারণ বাজেট পেশ শুরু করলেন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়।

Updated: Mar 16, 2012, 09:09 AM IST

জনমোহিনী? না কি সংস্কারমুখী? দেশের রাজনৈতিক মহল এমনকী আমজনতার একটা বড় অংশের প্রবল জল্পনার মধ্যেই লোকসভায় ২০১২-১৩ সালের সাধারণ বাজেট পেশ শুরু করলেন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। বরাবরের নিয়ম মেনেই বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে নর্থ ব্লকের অফিস ঘুরে সংসদ ভবনে পৌঁছে যান তিনি। অধিবেশন শুরুর পর প্রথামাফিক স্পিকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বাজেট পেশ শুরু করেন তিনি।
ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি পেশ হতে চলা দেশের ৮১-তম বাজেট। এর আগে পেশ হওয়া ৮০টি বাজেটের মধ্যে ৬৪ বার পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বাজেট, ১২ বার অন্তর্বর্তী বাজেট (ভোট অন অ্যাকাউন্ট) এবং ৪ বার `মিনি বাজেট` পেশ হয়েছে। স্বাধীন ভারতে ১৯৪৭ সালের ২৬ নভেম্বর প্রথম প্রাথম বাজেট পেশ করেছিলেন তত্‍কালীন অর্থমন্ত্রী আর কে সম্মুখম চেট্টি।
এর আগে ইন্দিরা গান্ধী সরকার এবং দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমেল ছ-ছবার বাজেট পেশের অভিজ্ঞতা থাকা অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে এবারের বাজেটকেই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বস্তুত, আজ নিজের সপ্তম বাজেট পেশের পর বাজেট পেশের সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে আজই নিজের `ক্যাবিনেট কলিগ` পালানিয়াপ্পন চিদাম্বরমকে ছুঁয়ে ফেলবেন প্রণববাবু। সেই সঙ্গে ওয়াই বি চ্যবন, সি ডি দেশমুখের সঙ্গে এক সারিতে চলে আসবে তাঁর নাম। তবে আশির দশকে `এশিয়ার সেরা অর্থমন্ত্রী`র সম্মান পাওয়া প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সামনে এখনও রয়েছেন প্রয়াত মোরারজি দেশাই। ১০ বার বাজেট পেশের বিরল কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।
একদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির রুগ্ন দশা, অন্যদিকে বিশ্বমন্দার প্রভাব। এরই মাঝে সরকারের মাথাব্যাথা আরও বাড়িয়েছে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে কেন্দ্রীয় রাজনীতির জোট সমীকরণ। সমস্যা সমাধানে ঠিক কোন পথে হাঁটতে চলেছেন প্রণব মুখোপাধ্যায়? তা জানতেই আজ গোটা দেশের চোখ সংসদের দিকে। বাজেট ঘাটতি দূর করা তাঁর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মত অর্থনীতিবিদদের। আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে ২০১৩-১৪ সালের আর্থিক ঘাটতি মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা ৫.৫ শতাংশে-এ গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আর্থিক ঘাটতি ৪.৫ শতাংশ হওয়াটাও যথেষ্ট অশনি সঙ্কেত।

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাজেট ঘিরে দেশের বণিক মহল এবং আম নাগরিকদের প্রত্যাশাও রয়েছে যথেষ্ট। বিশেষত বিগত কয়েক মাসে মুদ্রাস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসায় পেট্রোপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নিয়ন্ত্রণ, আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো, ব্যাঙ্ক ও পোস্ট অফিসের আমানতে সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা রয়েছে আম নাগরিকদের। অন্য দিকে ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলির চাহিদার মধ্যে রয়েছে, ব্যাঙ্ক থেকে সহজে ঋণ পাওয়া, আমদানি-রফতানি ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল, পরিকাঠামো নির্মাণক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার মতো বিষয়গুলি।  
ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর ইচ্ছানুযায়ী এদিনের সাধারণ বাজেটে `খাদ্য নিরাপত্তা` খাতে বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ইতিমধ্যেই ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটের প্রতিশ্রুতি মেন একশো দিনের কাজের প্রকল্পে ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে কেন্দ্র। কিন্তু তার সদ্ব্যবহার হচ্ছে না বলে বিভিন্ন রাজ্য থেকে অভিযোগ এসেছে। তা ছাড়া পেট্রোপণ্য ও সারে ভর্তুকি দিতে এখন বছরে খরচ হচ্ছে ৭৮ এবং ৭১ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বাস্থ্য-শিক্ষা-প্রতিরক্ষার মতো খাতে বরাদ্দের বিষয়টিও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবারের বাজেটে কিছুটা কড়া হতে পারেন জঙ্গীপুরের কংগ্রেস সাংসদ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাজেটের আগের দিন ইপিএফ-এ সুদের হার ৯.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮.২৫ শতাংশ করা তারই ইঙ্গিত।