সুপ্রিম কোর্টে হেরে ভারত থেকে গবেষণা গোটাল নোভার্টিস

Last Updated: Monday, April 1, 2013 - 18:17

ভারতে গবেষণা খাতে বিনিয়োগ করবে না সুইস ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা। সুপ্রিম কোর্টে সোমবার পেটেন্ট আবেদন হেরে যাওয়ার পর এই কথা জানান নোভার্টিস ইন্ডিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর রঞ্জিত সাহনি। অন্য দেশে তাদের গবেষণাগার সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গবেষণার ক্ষেত্র অন্য দেশে সরিয়ে নিয়ে গেলেও ভারতে তাদের তৈরি ওষুধ মিলবে সর্বত্রই।
সোমবারই নোভার্তিসের তৈরি ক্যানসারের ওষুধ গ্লিভেকের পেটেন্টের আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ে বাজারে সস্তায় ক্যানসারের ওষুধ মেলার রাস্তা সুগম হল বলে মনে করা হচ্ছে। নোভার্তিসের একচেটিয়া বাজার দখলের রাস্তা বন্ধ হওয়ায় সুবিধা হল দেশীয় কোম্পানিগুলির। ক্যানসারে আক্রান্ত দেশের গরিব রোগীদের বহুমূল্য ওষুধ কেনার চিন্তাও দূর হল।
অন্যদিকে, এই রায় ঘোষণার পরেই প্রায় নোভার্তিস ইন্ডিয়ার শেয়ারের দাম নিম্নমুখী হয়।
২০০৬ থেকে ক্যানসারের ওষুধ গ্লিভেকের সংশোধিত সংস্করণের পেটেন্টের জন্য মামলা লড়ছে সুইস সংস্থা নোভার্তিস। তাদের তৈরি ওষুধে ব্যবহৃত উপাদানগুলি পাওয়া যায় সমগোত্রীয় ভারতীয় ওষুধে। সেই উপাদানগুলির পেটেন্টের দাবিতেই মামলা করে নোভার্টিস। গ্লিভেকে ব্যবহৃত উপাদানগুলি যাতে ভারতীয় সংস্থাগুলি  ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল নোভার্তিস। কিন্তু বিচারপতি আফতাব আলম এবং বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশের বেঞ্চ তা খারিজ করে দেয়। ভারতীয় আইন অনুসারে সামান্য পরিবর্তন করে কোনও ওষুধের  পেটেন্ট পাওয়া যায় না। সেই আইনেই গ্লিভেকের পেটেন্টের আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
নোভার্তিসের তৈরি ওষুধ গ্লিভেকের একটি ফাইলের দাম এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা। একটি ফাইলে থাকে ১০০টি ওষুধ। ভারতীয় ওষুধের একটি ফাইলের দাম মাত্র আট হাজার টাকা। নোভার্তিসর পেটেন্টের আবেদেনের প্রতিবাদে তাই আদালতের দ্বারস্থ হয় ভারতীয় সংস্থাগুলি। এই রায় ভারতের বাজারের প্রতি পাশ্চাত্যের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনবে  বলে মনে করা হচ্ছে। পাশপাশি এই রায়  স্বস্তি দেবে দেশের সাধারণ মানুষকে।
রায়কে স্বাগত জানিয়েছে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং সস্তাদরে ক্যানসার ওষুধের প্রচার চালায় এমন সব সংস্থাই।



First Published: Monday, April 1, 2013 - 23:19


comments powered by Disqus